নিজস্ব প্রতিবেদক
জরায়ুমুখের ক্যান্সার প্রতিরোধে যশোরে বৃহস্পতিবার থেকে এইচপিভি টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু হচ্ছে। চলবে ১৮দিনব্যাপী। জেলায় ১ লাখ ২৩ হাজার ১৬০ কিশোরী এই টিকার আওতায় আসবে। বুধবার (২৪ অক্টোবর) সকালে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানান সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান।
প্রেস ব্রিফিংয়ে তথ্য উপাত্ত উপস্থাপন করেন সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার ডা. রেহেনেওয়াজ। জানানো হয়, প্রতি বছর বাংলাদেশে অধিকাংশ নারী জরায়ুমুখের ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়। এর মধ্যে ৪ হাজার ৫১ জন নারী মারা যায়। তথ্য অনুযায়ী ১ লাখ নারীর মধ্যে ১১ জন এই ক্যান্সারে আক্রান্ত। তবে এই ক্যান্সারের টিকা আবিষ্কার হয়েছে এবং বর্তমানে সফলভাবে কাজও করছে এই টিকা। বাংলাদেশর নারীদের জরায়ুমুখের ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে বর্তমান সরকার ৫ম শ্রেণি থেকে ৯ম শ্রেণি পর্যন্ত কিশোরীদের বিনামূল্যে টিকা দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
যশোর জেলায় ১ লাখ ২৩ হাজার ১৬০ কিশোরীরকে এই টিকা দেওয়া হবে। এর মধ্যে ২৯ হাজার ১৪৬ পঞ্চম শ্রেণির, ষষ্ঠ শ্রেণির ২৪ হাজার ২২৬, সপ্তম শ্রেণির ২৪ হাজার ৫১৯, অষ্টম শ্রেণির ২৩ হাজার ৭৮ ও ২১ হাজার ৭০ নবম শ্রেণির কিশোরীদের টিকা দেওয়া হবে। এছাড়াও এক হাজার ১২১ অন্যান্য কিশোরীকে টিকা দেওয়া হবে। বক্তব্য রাখেন ডেপুটি সিভিল সার্জন নাজমুস সাদিক রাসেল, ডা. সামিনা, প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন, দৈনিক লোকসমাজের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক আনোয়ারুল কবির নান্টুু প্রমুখ।
ডেপুটি সিভিল সার্জন নাজমুস সাদিক রাসেল বলেন, এই টিকা প্রদানের জন্য সকলকে সচেতন হতে হবে। আমাদের টিকাদানকর্মী প্রতিটি বিদ্যালয়ে গিয়ে কিশোরীদের টিকা প্রদান করবে। টিকা গ্রহণের জন্য নির্দিষ্ট বয়সী ও নির্ধারিত শ্রেণিতে অধ্যয়নরত কিশোরীরা ওয়েবসাইটে নিবন্ধন করে টিকাকার্ড সংগ্রহ করতে পারবে। পরে ও কার্ড দেখিয়ে টিকার ডোজ গ্রহণ করতে হবে। বাল্যবিয়ে, ঘনঘন সন্তান প্রসব, একাধিক যৌনসঙ্গী, ধূমপায়ী, দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন জনগোষ্ঠী, যে-সব নারী প্রজনন স্বাস্থ্য এবং পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কে সচেতন নন এবং সমস্যার প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসকের অথবা স্বাস্থ্যকর্মীর পরামর্শ নেন না তাদের এই ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি।
জরায়ুমুখের ক্যান্সার প্রতিরোধে অভিভাবক, শিক্ষক ও সমাজের সব শ্রেণির মানুষদের ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশের আহ্বান জানান বক্তারা।
