নিজস্ব প্রতিবেদক
জাল দলিলের মাধ্যমে জমি দখলের মামলায় শার্শার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের ডুবপাড়া গ্রামের খলিলুর রহমান ও তার দুই ছেলে লাল্টু ও শাহিনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে জুডিসিয়ালি ম্যাজিস্ট্রেট ইমরান আহেমদ মঞ্জুর না করে তাদের কারাগারে প্রেরণের আদেশ দেন।
মামলায় বলা হয়েছে, বাহাদুরপুর ইউনিয়নের বুজতলা মৌজার ৮/৮ দাগের ৩৭ শতক জমির পৈত্রিক সূত্রে মালিক হেদায়েতুল্লাহ। ডুবপাড়া গ্রামের খলিলুর রহমান ও তার ছেলেরা এ জমি দখলের ষড়যন্ত্র ও হুমকি দিয়ে আসছিলেন। এরপর খলিলুরর রহমান তার লোকজনের সহায়তায় রাতের আঁধারে এ জমিতে বাঁশের খুঁটি দিয়ে টিনের ছাবড়া ঘর তুলে দখল নিয়ে নেন। ২০২২ সালের ২০ মে এক শালিসে এ জমি তার বলে দাবি করে একটি দলিলের ফটোকপি দেখিয়ে খলিলুর রহমান শালিসের স্থান ত্যাগ করেন।
ওই বছরের ২৬ মে রেজিস্ট্রি অফিসে যেয়ে দলিলের খোঁজ নিয়ে অস্তিত্ব না পাওয়া খলিলুর রহমানের দলিল জাল বলে নিশ্চত হন হেদায়েতুল্লাহ। এরপর তিনি ২০২২ সালের ৫ সেপ্টেম্বর খলিলুর রহমান ও তার দুই ছেলেকে আসামি করে আদালতে মামলা করেন।
এ মামলার তদন্ত শেষে জালিয়াতির মাধ্যমে দলিল তৈরি ও জমি দখলের সত্যতা পেয়ে ওই তিনজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেয় পিবিআই। গত ৮ মে তদন্ত প্রতিবেদনের উপর শুনানি শেষে বিচারক আসামিদের প্রতি সমন জারির আদেশ দেন। বৃহস্পতিবার আসামিরা আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে বিচারক শুনানি শেষে তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।
আদালত তাদেরকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়ার পরপরই খলিলুর রহমানের লোকজন হেদায়েতুল্লার বাড়িতে চড়াও হয়ে মামলা তুলে নেয়ার জন্য শাসিয়ে এসেছেন বলে তথ্য মিলেছে। ভয়ে হেদায়েতুল্লাহ বাড়িতে থাকা নিরাপদ মনে না করে আত্মগোপনে রয়েছেন। এ বিষয়ে তার স্বজনরা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
