আবুল কালাম আজাদ, ঝিকরগাছা
আজ ৬ ডিসেম্বর। স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাসে এ দিনটির নাম ‘ঝিকরগাছা হানাদার মুক্ত দিবস’ বা ‘ঝিকরগাছা মুক্ত দিবস’। ঝিকরগাছায় মেজর হুদা, মেজর এম এ মঞ্জুর ও ভারতীয় মিত্র বাহিনীর সহযোগিতায় বাঙালিরা স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন।
স্বাধীনতাযুদ্ধে স্থানীয় আলতাপ হোসেন কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে রাস্তার পাশে বড় বড় শিশু গাছ কেটে ব্যারিকেড দেন। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে যশোর থেকে শত শত পাকিস্থানী সেনা ও আলবদর, আল শামস এবং রাজাকার এসে রাস্তা থেকে ব্যারিকেড সরিয়ে ফেলে।
একজন বয়স্ক লোক ব্যারিকেড সরাতে না পারায় তাকে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়। পরে মশিয়ূর রহমানকে মিলিটারি ও রাজাকাররা ধরে নিয়ে গিয়ে নির্মম অত্যাচার চালিয়ে হত্যা করে।
মাটিকুমড়া গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা হরিদ্রপোতায় পাকিস্থানি সেনাদের হাতে ধরা পড়েন। তাকে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে ও জবাই করে হত্যা করা হয়। ঝিকরগাছায় স্বাধীনতা যুদ্ধে শহিদরা হলেন, আব্দুল হামিদ (শিমুলিয়া), আনিছুর রহমান (কৃষ্ণনগর), রফিক মিয়া (লাউজানী), হাসান আলী হাওলাদার (কৃষ্ণনগর), এজাহার আলী (ফুলবাড়ি), গোলাম মোস্তফা (মাটিকুমড়া), মাফিজুর রহমান হেম (হাজিরবাগ), ওলিয়ার রহমান (লক্ষীপুর), কামাল উদ্দীন (পোদাউলিয়া), আরশাদ আলী (শরীফপুর), আবুবক্কার সিদ্দিক (ঝিকরগাছা বাজার), আব্দুস সালাম পুলিশ (কুলবাড়ীয়া), ইসমাইল হোসেন (বাঁকড়া) প্রমুখ।
৫ ডিসেম্বর সন্ধ্যা থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতায় সীমান্ত দিয়ে দেশে প্রবেশ করেছে ভারতীয় মিত্রবাহিনী এ খবর পেয়ে প্রাণভয়ে ওই দিন গভীর রাতে পাক হানাদারবাহিনী ঝিকরগাছা রেল ব্রিজ ও যশোর-বেনাপোল সড়কের ব্রিজটি উড়িয়ে দিয়ে ঝিকরগাছা থেকে পালিয়ে যায়।
৬ ডিসেম্বর সকালে উপজেলা হানাদারমুক্ত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে হাজার হাজার নারী-পুরুষ জয় বাংলা স্লোগানে ঝিকরগাছা বাজার প্রকম্পিত করে।
