এম আর মাসুদ, ঝিকরগাছা
ভ্যানের উপর রয়েছে ফুলকপি, লাউ, আলু, টমেটো, পেঁপে ও মানকচু। ভ্যানের একপাশে ঝুলছে একটি সম্মাননা স্মারক, পেছনে একটি ব্যানার। বিক্রেতা আলী হোসেনের হাতে প্লাস্টিকের মোজা, মাথায় আবরণ, মুখে মাস্ক, পায়ে লম্বা গামবুর্ড। তিনি সবজি ব্যবসায়ী নয়, নিজের খেতে উৎপাদিত সবজি বিক্রি করছেন।
মঙ্গলবার যশোরের ঝিকরগাছার জননী মার্কেটের সামনে উপজেলা প্রশাসনের নিরাপদ ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করণে কৃষকের ভ্রাম্যমাণ সবজি বাজারে এদৃশ্য দেখা গেছে। আলী হোসেন উপজেলার বোধখানা গ্রামে বাড়ি। কৃষি অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়ের ওই সম্মাননা স্মারকে উল্লেখ করা আলী হোসেন মোড়ল ২০১৫ সালে নিরাপদ সবজি উৎপাদন ও সম্প্রসারণে ব্যক্তি পর্যায় সারা দেশে দ্বিতীয়। ব্যানারে লেখা কৃষকের বিষমুক্ত সবজির ভ্রাম্যমাণ বাজার।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মতে, পরিবেশবান্ধব কৌশলের মাধ্যমে নিরাপদ ফসল উৎপাদন প্রকল্পের আওতায় উপজেলার গদখালী ইউনিয়নে ২০টি গ্রুপে ২৫ জন কৃষক-কৃষাণী বিষমুক্ত সবজি উৎপাদন করেন। তাদের প্রতিনিধি কৃষকরা এ হাটে সবজি বিক্রি করবেন।ভ্রাম্যমাণ সবজি বাজারে আলী হোসেনের মতো নিরাপদ (বিষমুক্ত) সবজি বিক্রি করছিলেন উপজেলার জাফরনগর গ্রামের রবিউল ইসলাম, বারবাকপুর গ্রামের লালটু হোসেন, বোধখানা গ্রামের ওসমান গনিসহ বেশ কয়েকজন কৃষক। বাজারে সবজি বিক্রেতা রবিউল ইসলাম বলেন, খেতের লাউ, বেগুন, কলা ও আলু বিক্রি করতে এসেছিলাম। সব ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করেছি। সবজি বিষযুক্ত হওয়ায় অল্প সময়ের মধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে।
আরেক বিক্রেতা আলী হোসেন মোড়ল বলেন, সবজি ক্ষেতে কোনো ধরনের রাসায়নিক সার ছাড়াই জৈব সার ব্যবহারের মাধ্যমে বিষমুক্ত নিরাপদ ভাবে এসবজি উৎপাদন করেছি। আমি ২০১৫ সালে নিরাপদ সবজি উৎপাদন ও সম্প্রসারণে ব্যক্তিপর্যায় সারা দেশে দ্বিতীয় হয়েছিলাম। কৃষকের বিষমুক্ত নিরাপদ সবজির হাট বসায় আমাদের জন্য ভালো হলো।
বাজারে কথা হয় মাহবুবুর রহমানের সঙ্গে। তিনি বলেন, কৃষকের বিষমুক্ত সবজির ভ্রাম্যমাণ হাটে অন্য বাজারের চেয়ে ৫-৭ টাকা কেজিতে কম দামে পেয়েছি আবার সবজিগুলো নিরাপদ-টাটকা। সপ্তাহে দুইদিন এহাট বসালে ভালো হয়।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মাসুদ হোসেন পলাশ বলেন, পরিবেশবান্ধব কৌশলের মাধ্যমে নিরাপদ ফসল উৎপাদনের মাধ্যমে অন্তত ১৪টি সবজি এবাজারে সরাসরি কৃষক বিক্রি করছেন। এতে ভোক্তা ন্যায্যমূল্যে নিরাপদ সবজি পাবেন।
ঝিকরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিতান কুমার মন্ডল বলেন, মধ্যসত্ত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমানোর জন্য পরীক্ষামূলকভাবে সপ্তাহে একদিন এবাজার বসবে। ভালো সাড়া পেলে পরবর্তীতে সপ্তাহে দুইদিন এবং প্রতি ইউনিয়নে এমন বাজার বসানোর পরিকল্পনা আছে।
