নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলায় ভুয়া সনদপ্রাপ্ত দুইজনের বিরুদ্ধে ৬৩ বীর মুক্তিযোদ্ধা সোমবার সকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহবুবুল হকের কাছে অভিযোগ করেছেন। মৃত্যুবরণকারী দুই বীরমুক্তিযোদ্ধার সাথে নিজের নামের মিল থাকায় তারা অবৈধভাবে মুক্তিযোদ্ধার সনদ গ্রহণ করেছেন বলে অভিযোগ। তবে তারা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিষয়টি তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন।
জানা গেছে, শংকরপুর ইউনিয়নের মৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা ওয়াজেদ আলী খাঁ ছিলেন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা (লাল মুক্তি বার্তা নম্বর ০৪০৫০৬০৩০৮ এবং গেজেট নম্বর ১৬৭৩)। নামের মিল থাকায় শংকরপুর ইউনিয়নের হরিদ্রাপোতা গ্রামের ওয়াজেদ আলী মুক্তিযোদ্ধা (সমন্বিত সনদ নম্বর ০১৪১০০০৩১৬৯) সেজে ভাতা তুলছেন। অনুরূপভাবে পানিসারা ইউনিয়নের মৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা মশিয়ার রহমান ছিলেন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা (ভারতীয় তালিকা নম্বর ৪৭৭৫৩)। তার সনদ জালিয়াতি করে পানিসারা ইউনিয়নের কুলিয়া গ্রামের মোরশেদ আলি মুক্তিযোদ্ধা (সমন্বিত সনদ নম্বর ০১৪১০০০২৮৮৫) সেজে ভাতা তুলছেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে উপজেলার সাবেক মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার লিয়াকত আলীর নেতৃত্বে ৬৩ জন বীরমুক্তিযোদ্ধা ওই দুইজনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে অভিযোগ করেন।
সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার লিয়াকত আলী জানান, ১৯৯৬ সালের যাচাই-বাছাই এবং ২০২১ সালের যাচাই-বাছায়ে তাদের নাম ছিল না। তারা মন্ত্রণালয় এবং জামুকা থেকে অবৈধভাবে তাদের নাম বসিয়ে নিয়েছেন। তারা শতভাগ ভুয়া।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবুল হক বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা এবং সোনালী ব্যাংক ঝিকরগাছা শাখার ব্যবস্থাপককে পরবর্তী মাসের পে রোল প্রসেস করার পূর্বে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে এবং প্রাথমিক তদন্তে সঠিক পাওয়া গেলে অভিযুক্তদের পে রোল প্রসেস বন্ধ রাখতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
