নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরে ট্রাকে অতিমাত্রায় কাঠ বোঝাই করে চলাচল ও রাস্তা নষ্টের প্রতিবাদ করায় মুক্তিযোদ্ধাসহ চারজনকে জখম করেছে একই এলাকার আব্দুল কাদের ও তার সহযোগীরা। এঘটনাটি ঘটেছে গত রোববার সন্ধ্যায় শহরতলীর ডাকাতিয়া গ্রামের দক্ষিণপাড়ায় রফিকুল ইসলামের দোকানের সামনে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এব্যাপারে থানায় দুটি অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। পুলিশের একাধিক টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, শহরতলীর ডাকাতিয়া দক্ষিণপাড়ার নব নির্মিত রাস্তায় গত রোববার (১৮ জুন) সন্ধ্যায় অতিমাত্রায় কাঠ বোঝাই নিয়ে একটি ট্রাক যাচ্ছিল। এসময় ওই এলাকার মুক্তিযোদ্ধা ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক হাবিবুর রহমান রাস্তা নষ্ট হয়ে যাওয়ার বিষয়ে সচেতন করতে ট্রাকটি থামিয়ে চালককে পরামর্শ দেন। সে সময় উপস্থিত পাশের মুদি দোকানি রফিকুল ইসলামসহ বেশ কয়েকজন তারাও রাস্তার ধারণ ক্ষমতার বাইরে অতিরিক্ত লোড দিয়ে ট্রাক চলাচল করলে সহজে এবং দ্রুত রাস্তা নষ্ট হয়ে যেতে পারে বলে ট্রাক চালককে অবহিত করেন। এছাড়ার পরবর্তী ট্রিপ থেকে লোড কম দিয়ে কাঠ বহনের পরামর্শ দেন। এসময় চালক ওই এলাকার কাঠ ব্যবসায়ী আব্দুল কাদেরকে ফোন দেন। কাদের ঘটনাস্থলে এসে কোনো কিছু না শুনেই তিনি ও তার সাথে থাকা সাথে একই গ্রামের তুষার, মেহেদীসহ ৪/৫ জন মিলে মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুর রহমান মাস্টার, রফিকুল ইসলাম ও মোজাম্মেল হোসেন সোহাগকে কিলঘুশি মারেন। এছাড়া প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দেন। এ ঘটনা জানতে আসলে একই গ্রামের গ্যারেজ মালিক আক্তারুজ্জামানকে লাঠি দিয়ে আঘাত করে চক্রটি। এঘটনায় ভুক্তভোগী বয়োবৃদ্ধ মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুর রহমান মাস্টার (৬৫) ও আক্তারুজ্জামান (৫০) থানায় পৃথক দুটি অভিযোগ করেছেন। এঘটনায় ৯৯৯ এর ফোনে একটি টিম ও থানার দুটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
আহত বয়বৃদ্ধ মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুর রহমান মাস্টার জানিয়েছেন, ট্রাকের চালকের সাথে শান্তিপূর্ণভাবে কথা বলছিলেন তিনি। তাকেসহ গ্রামের আরে তিনজন সাধারণ মানুষকে চরম অপমাণিত করে মারপিট করেছে এলাকার আব্দুল কাদের ও তার লোকজন। থানায় অভিযোগ করা হয়েছে, সেইসাথে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।
এব্যাপারে যশোর কোতোয়ালি থানার ওসি তদন্ত শফিকুল আলম চৌধুরী জানান, মুক্তিযোদ্ধাকে মারপিট একটি জঘন্য ঘটনা। জড়িতদের আইনে আওতায় আনা হবে। এব্যাপারে এসআই মিজানুর রহমান মিজানকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে জড়িতদের আটক করতে। এব্যাপারে তড়িৎ আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
