# অনেকগুলো ব্যবহারের অযোগ্য
# ৫০টির স্থানে আছে অর্ধেক
নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোর শহরের মিশনপাড়া এলাকার বাসিন্দা মাসুদ পারভেজ। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে চাকরি করেন। মাসুদ বাসা থেকে কয়েক কদম হেঁটে গিয়ে বিমান অফিস মোড়ে থাকা কন্টেনার ডাস্টবিনে বাসা বাড়ির ময়লা-আর্বজনা ফেলতেন। কিন্তু বর্তমানে তাকে ময়লা ফেলতে হয় প্রায় এক কিলোমিটার দূরে পুলিশ লাইন কদমতলা অথবা ফাতেমা হসপিটালের পাশে। অপরদিকে শহরের লালদিঘী পূর্ব পাড়ের বাসিন্দা জয়ন্ত বসুর অবস্থায়ও প্রায় একই রকম। বাসা থেকে বেশকিছু দূরে যেয়ে তাকে ময়লা ফেলতে হয়।
শুধু এ দুই এলাকায় নয়, যশোর শহরের বিভিন্ন এলাকায় ডাস্টবিনের ঘাটতি এখন প্রকট আকার ধারণ করেছে। শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অপর্যাপ্ত ডাস্টবিনের কারণে ভোগান্তি বেড়েছে সাধারণ মানুষের। রাস্তাঘাট ও খোলা স্থানে বর্জ্য ফেলে পরিবেশ দূষণও বাড়ছে। বর্তমানে পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে ২৩-২৫টির মতো কন্টেনার ডাস্টবিন রয়েছে। যা ছয় মাস আগে প্রায় ৫০টির মতো ছিল। তবে এ ডাস্টবিনের সংকটের বিষয়টা জানে না পৌর প্রশাসক রফিকুল হাসান।
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ডাস্টবিন সংকটের পেছনে দুটি প্রধান কারণ সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলছে।
প্রথমত, অনেক বাসিন্দা নিজেদের বাড়ির সামনে বা গলির মুখে ডাস্টবিন বসাতে দিচ্ছেন না। দুর্গন্ধ, পরিবেশ নোংরা হওয়ার আশঙ্কা এবং প্রতিবেশীদের আপত্তিকে সামনে রেখে তারা নির্দিষ্ট জায়গা দিতে অনাগ্রহ দেখান। ফলে নতুন ডাস্টবিন স্থাপনে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম।
দ্বিতীয়ত, দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত পুরনো টিনের কন্টেনার ডাস্টবিনগুলোর অধিকাংশই এখন ভাঙাচোরা ও অচল। রোদ-বৃষ্টি, মরিচা ধরা এবং রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অনেক কন্টেনার ডাস্টবিন ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়ে আছে। যেখানেই বক্স ভেঙে গেছে, সেখানেই বর্জ্য রাস্তায় ছড়িয়ে পড়ছে, যা আরও স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে।
এছাড়া ডাস্টবিন না থাকায় বাসায় বাসায় যেয়ে ময়লা সংগ্রহের দায়িত্বে থাকা এনজিও গুলো তাদের ইচ্ছামতো ফি নির্ধারণ করছে। যশোর পৌরসভার নির্ধারিত ১০০ টাকা (মাসিক) থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছে। অতিরিক্ত ফি নেয়ায় ক্ষুব্ধ পৌরসভার নাগরিকরা।
মাসুদ পারভেজ বলেন, বিভিন্ন কারণে আমাকে মাসের ১০ দিনের অধিক সময় বাইরে থাকতে হয়। এজন্য আমার খুব বেশি ময়লা-আর্বজনা হয়না। বাসা বাড়ি থেকে যারা ময়লা সংগ্রহ তাদের সাথে যোগাযোগ করেছিলাম। কিন্তু তারা মাসে ২শ টাকা করে চাই।
যশোর পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা উত্তম কুণ্ডু বলেন, বর্তমানে ২৩ থেকে ২৫টির মতো টিনের কন্টেনার ডাস্টবিন রয়েছে। যা ছয় মাস আগে প্রায় ৫০টির মতো ছিল। মূলত অস্থায়ী ডাস্টবিন তুলে নেয়া আর নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণে কম হয়েছে। তবে ডাস্টবিন কম হলেও এনজিও গুলো বাসা বাড়ি থেকে ময়লা সংগ্রহের কারণে শহরের ময়লা আর্বজনার কোন প্রভাব পড়ছে না।
নাগরিক অধিকার আন্দোলন যশোরের সমন্বয়ক মাসুদুজ্জামান মিঠু বলেন, বর্তমানে যশোর পৌরসভার কর্মকাণ্ড আলোকিত করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। যত্রতত্র ময়লা বা ময়লা পরিস্কার না করা নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যশোর যে বর্তমানে ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হচ্ছে তা চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে যশোর পৌরসভা। এই ময়লার কারণে মশা ও রোগ-জীবাণু ছড়াচ্ছে ও পরিবেশকে দূষিত করছে। পৌরবাসীর ময়লা ফেলানোর কোন ভালো ব্যবস্থা নেই। এছাড়া বাসা বাড়ি থেকে ময়লা নেয়ার নামে টাকা নেয়া হচ্ছে। যদি বাসা বাড়ি থেকে ময়লা নেয়ার জন্য টাকা নেয়া হয় তাহলে ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্টের জন্য যে কর নেয় তা বাদ দেয়া হোক। এছাড়া ময়লার জন্য কোন বাসা বাড়ি থেকে কত টাকা নেবে তার কোন নির্ধারণ নেই। যারা দায়িত্ব আছে তাদের ইচ্ছা মতো টাকা নিচ্ছে।
যশোর পৌরসভার প্রশাসক রফিকুল হাসান বলেন, কন্টেনার ডাস্টবিন যে কমে গেছে সে তথ্য আমার কাছে নেই। এজন্য এ মন্তব্য করতে পারছিনা।
