নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরের খুচরা বাজারে সপ্তাহের ব্যবধানে মুরগির ডিমের দাম ডজনে ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়েছে। প্রতি ডজন ডিম এখন ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা। এর আগে দীর্ঘদিন ডিমের ডজন ১২০ থেকে ১২৫ টাকার মধ্যে ছিল। অর্থাৎ ডিমের দাম একলাফে ডজনে সাড়ে ১২ শতাংশ বেড়েছে। শুক্রবার যশোর শহরের চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড, বড় বাজার ও রেল বাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ বাজারগুলো ঘুরে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।
ডিমের পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ী ‘মায়ের দোয়া এন্টারপ্রাইজ’ এর মালিক সাব্বির হোসেন জানান, তিন দিন থেকেই ডিমের দাম বাড়ছে। বাজারে সবজির দাম বাড়ার কারণে ডিমের চাহিদা অনেক বেড়ে গেছে। মূলত ডিমের চাহিদা বাড়ায় এখন দামও কিছুটা বেড়েছে।
পেয়াজ ছাড়া আলু এবং মশলা জাতীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রয়েছে। পেয়াজের দাম বেড়ে বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৬৫-৭০ টাকা কেজি। যা গত সপ্তাহে ছিল ৫৫-৬০ কেজি। এ সপ্তাহে দাম বেড়েছে কেজি প্রতি ১০-১৫ টাকা। বর্তমানে প্রতি কেজি আলু ২৫, রসুন ১০০ থেকে ১২০, আদা ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। বর্তমানে খোলা সয়াবিন তেল ১৮৫ টাকা বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৯০ টাকা প্রতি লিটার। খোলা আটা প্রতি কেজি ৪০, ময়দা ৫৬ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। সবরকম ডালের দাম স্থিতিশীল রয়েছে।
এছাড়া বেশির ভাগ সবজির দাম স্থিতিশীল রয়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি কুমড়ো ৩০ টাকা, কচুর মুখি ৪০ টাকা, কুশি ৪০ টাকা, কাঁচা ঝাল মানভেদে ১৬০ থেকে ২০০ টাকা, পটল ৪০ টাকা, বেগুন ১০০ টাকা, ঢেরষ ৪০ টাকা, পুঁইশাক ৪০ টাকা, ওলকচু ৮০ টাকা, বরবটি ৮০ টাকা, কলা ৬০ টাকা, পেঁপে ৪০ টাকা, আমড়া ৪০ টাকা, কাকরোল ৮০ টাকা, করলা ১২০ টাকা, উচ্ছে ৮০ টাকা, ধুন্দল ৪০ টাকা, সবুজ শাক ৮০ টাকা, ঝিঙে ৬০ টাকা, টমেটো ১২০ টাকা, শসা ১০০ টাকা, গাজর ১৩০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া লাউ আকার ভেদে ৫০ থেকে ৭০ এবং কচুর লতি ৩০ টাকা আটি বিক্রি হচ্ছে।
বিক্রেতারা বলছেন, নদীতে পানি বৃদ্ধির জন্য জেলেদের জালে মাছ কম ধরা পড়ছে এবং টানা বৃষ্টিতে খামারিদের পুকুর ও ঘের তলিয়ে যাওয়ায় মাছের দাম বেড়েছে। বাজারে এখন মাঝারি সাইজের চাষের রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে থেকে ৩৫০ টাকায়। চাষের পাঙাসের কেজি ২০০ থেকে ২২০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০ থেকে ২২০ টাকা, মাঝারি সাইজ কৈ মাছ ২৫০ থেকে ২৮০ টাকা, দেশি শিং ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকা, বড় সাইজের পাবদা ৬০০ টাকা, চিংড়ি ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, দেশি পাঁচমিশালি ছোট মাছ ৬০০ টাকা এবং এক কেজির বেশি ওজনের ইলিশ মাছ বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকায়।
এ সপ্তাহে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা, যা গত সপ্তাহ ছিল ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা। সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায়। গরুর মাংস ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ১৫০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
যশোর রেল বাজারে কেনাকাটা করতে বেসরকারি চাকরিজীবী ইন্দ্রজিৎ রায় বলেন, বাজারে সবকিছু দাম বেশি দেখলাম। ডিমের দাম ডজন প্রতি ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়েছে। মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য এটা অনেক কষ্টকর। মাছের দামও বেড়েছে।
বড় বাজার চাউলের আড়তে ঘুরে দেখা গেছে, চালের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। বর্তমানে মিনিকেট চাল মানভেদে প্রতি কেজি ৬৪ থেকে ৬৫ টাকা, কাজললতা ৫৮ থেকে ৬০, বাসমতি ৮৪ থেকে ৮৬, ৬৩ চাল ৬৮ থেকে ৭০, ২৮ চাল ৬০ থেকে ৬২, মোটা স্বর্ণ ৫২, মোটা হিরা ৪৯ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। চাল ব্যবসায়ী অসিত সাহা বলেন, এ বছর চালের বাজারে তেমন একটা পরিবর্তন আসবে না। হয়তো কেজিতে দুই এক টাকা কম বেশি হবে।
