নিজস্ব প্রতিবেদক
জন্ম নিবন্ধন ও ওয়ারেশ কায়েম’র ‘ভুয়া’ সনদ দেয়ার অভিযোগ এনে শার্শার ডিহি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, মেম্বরসহ ছয়জনের নামে যশোর আদালতে মামলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার মাগুরার মহম্মদপুরের ভাবনপাড়া গ্রামের মৃত ওলিয়ার রহমানের স্ত্রী রিমিকা পারভীন রিমু এ মামলা করেছেন। জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইমরান আহমেদ অভিযোগে তদন্ত করে সিআইডিকে প্রতিবেদন জমা দেয়ার আদেশ দিয়েছেন।
আসামিরা হলো, শার্শার ডিহি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান, মেম্বর জজ মিয়া, খলিশাখালি গ্রামের মৃত হযরত বেপারির ছেলে মিসির বেপারি, মৃত আফজাল হকের ছেলে মোনতাজ হক, মৃত মিছির বেপারির ছেলে সামছুল বেপারি ও একই গ্রামের শহিদুল বেপারি।
মামলার অভিযোগে জানা গেছে, ২১ বছর আগে মাগুরা মহম্মদপুরের ভাবনাপাড়া গ্রামের ওলিয়ার রহমানের সাথে রিমিকা পারভীন রিমুর বিয়ে হয়। ২০১০ সালের ১৩ জুন তাদের একটি কন্যা সন্তান জন্ম গ্রহণ করে। এ বছরের ৭ ডিসেম্বর রিমুর স্বামী ওলিয়ার রহমান মারা যান। রিমুর বিরুদ্ধে যশোর আদালতে মামলা হয়েছে এশন খবরে তিনি গত ১০ মার্চ যশোর সিআইডি অফিসের আসেন। এদিন সিআইডির তদন্ত কর্মকর্তা রিমুকে মামলার অভিযোগ ও একটি কাবিননামা, মেয়ের জন্ম সনদ ও ওয়ারেশ কায়েম সার্টিফিকেট দেখান। কাবিননামায় তার স্বামীর স্থলে অপর এক ব্যক্তির নাম এবং মেয়ের জন্ম সনদ ও ওয়ারেশ কায়েম সার্টিফিকেটে তার পিতা ওলিয়ার রহমানের পরিবর্তে আব্দুল গণি নামে এক ব্যক্তির নাম লেখা। এ সময় তদন্তকারী কর্মকর্তার মাধ্যমে জানতে পারে মিসির, মোনতাজ, সামছুল ও শহিদুল এসব কাগজপত্র তদন্ত কর্মকর্তার কাছে দিয়েছেন। এ সব গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ডিহি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও মেম্বর স্বাক্ষরিত। প্রকৃতপক্ষে কাবিননামা, জন্ম সনদ ও ওয়ারেশ কায়েম সার্টিফিকেটে উল্লেখিত মৃত আব্দুল গণি কিছুই হয় না রিমুর। আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করে চেয়ারম্যান ও মেম্বরকে দিয়ে এ সব জাল কাগজপত্র তৈরি করে সত্য বলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাকে সরবরাহ করেছেন। আসামিরা লাভবান হওয়ার উদ্দেশে ও রিমুর সামাজিক সম্মানহানির করার জন্য জালিয়াতির মাধ্যমে এ কাগজপত্র তৈরি করেছেন। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসায় ব্যর্থ হয়ে তিনি আদালতে এ মামলা করেছেন।
