২০২১ সালে দেশে ৮১৮ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। আগের বছর ২০২০ সালে শিশু ধর্ষণের সংখ্যা ছিল ৬২৬। গত বছর হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছে ১৮৩ জন শিশু, হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে ১৩৫ জনকে। আগের বছর ২০২০ সালে হত্যার শিকার হয়েছিল ১৪৫ জন শিশু। সেই হিসাবে এক বছরে শিশু খুনের ঘটনা বেড়েছে ২১.৭৬ শতাংশ। ২২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ শিশু পরিস্থিতি ২০২১ শিরোনামে শিশু বিষয়ক সংবাদের কনটেন্ট বিশ্লেষণ করে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন এই তথ্য প্রকাশ করে।
ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ডের আইন পাস হয়েছে। আইনটি পাশ হওয়ার পরেও বহু ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। আইনের শক্তি নির্যাতিতের পক্ষে আছে, এখন দরকার সেই আইনটি কঠোরভাবে কার্যকর করা। দুর্বৃত্তরা দেখুক ধর্ষণের মতো জঘন্যতম অপরাধ করলে এখন আর রেহাই নেই। যে যাই বলুক আইনের মাধ্যমে অপরাধীকে শাস্তি দিলেই তবে অপরাধ বন্ধ হবে।
শিশু ধর্ষণ ও শিশুকে যৌন হয়রানি বন্ধের জন্য সবাইকে এখনই জোটবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। না হলে এর হার আরও বাড়তে থাকবে। শিশু সুরক্ষায় নিয়োজিত সরকারি প্রতিষ্ঠানের সবাইকে আরও বেশি সহৃদয়বান হওয়ার পাশাপাশি শিশু অধিকার রক্ষায় সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে ।
মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পারিবারিক ও সামাজিকভাবে মূল্যবোধ ও নৈতিক অবক্ষয়ের কারণে সহিংসতা রোধ করা যাচ্ছে না। প্রতিদিনই ঘটছে নারী নির্যাতন ও ধর্ষণ। শিশু বয়স থেকে নারীর প্রতি সম্মান ও মূল্যবোধের ভিত তৈরি করতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রের ভূমিকা জরুরি। ধর্ষণ ও যৌন হয়রানির মতো সামাজিক ব্যাধি ও সহিংসতা থেকে মুক্তি পেতে সচেতনতা ও সামাজিক সংহতি প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
প্রতিদিনই দেশের কোথাও না কোথাও ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে। বিচারহীনতার সংস্কৃতির এই দেশে শিশু ও নারীদের ওপর সহিংসতা নতুন কোনো ঘটনা নয়। এই বিচারহীনতার কারণে ধর্ষকরা শাস্তি পাওয়ার পরিবর্তে মাথা উঁচু করে ঘুরে বেড়াচ্ছে। একের পর এক ধর্ষণ ও খুনের বিচারিক প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা ও প্রশাসনিক ব্যর্থতা বিকৃত অপরাধীর মানসিকতার মানুষকে এমন নৃশংস ঘটনা ঘটাতে অভয় দিয়েছে। যার ফলে নারী নিপীড়ন, ধর্ষণ বেড়েই চলছে। আমাদের দেশে আইন আছে কিন্তু প্রচলিত আইনে ধর্ষণের বিচারে বরাবরই গড়িমসি, নেই কার্যকরী কোন পদক্ষেপ। এসব খামখেয়ালি এবং ক্ষমতার অতিরিক্ত চর্চাই দিন দিন নারীর ওপর ভয়াবহতার মাত্রা বাড়াচ্ছে। তাই ধর্ষণের বিরুদ্ধে লড়াই জোরদার করতে হবে।
প্রীতিলতা ব্রিগেডের সভার ভাষ্যের সাথে আমরাও একমত প্রকাশ করে বলবো বিচারহীনতার সংস্কৃতি নারী সমাজের ওপর সহিংসতা বাড়াচ্ছে। আর এ কারণে ধর্ষকরা শাস্তি পাওয়ার বদলে মাথা উঁচু করে বেড়াচ্ছে।