কল্যাণ ডেস্ক: তামিম ইকবালের সেঞ্চুরি, মাহমুদুল হাসান জয়, মুশফিকুর রহিম ও লিটন দাসের ফিফটিতে তৃতীয় দিনটা দারুণ কাটল বাংলাদেশের।
এ দিন খেলা হয়েছে ৮৮ ওভার, ৩ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ যোগ করেছে ২৪২ রান।
তিন সেশনের দুটিতেই একচেটিয়া আধিপত্য দেখিয়েছে স্বাগতিকরা। সকালের সেশনে ২৮ ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়ে তামিম ও জয় যোগ করেন ৮১ রান।
পরের সেশনে ৩ উইকেট নিয়ে ঘুরে দাঁড়ায় শ্রীলঙ্কা। জয়ের বিদায়ে ১৬২ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙার পর দ্রুত ফেরেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুমিনুল হক।
তবে শেষ সেশনে আর কোনো উইকেট হারাতে দেননি লিটন ও মুশফিক। এই সময়ে ৩৫ ওভারে আসে ৯৮ রান। দুই ব্যাটসম্যানই অপরাজিত আছেন ফিফটি করে।
ক্র্যাম্পের জন্য চা-বিরতির পর ব্যাটিংয়ে নামেননি তামিম। ১৩৩ রান করা বাঁহাতি ওপেনারের জায়গায় ব্যাটিংয়ে নেমে লিটন দিন শেষে ১১৩ বলে ৮ চারে ৫৪ রানে অপরাজিত আছেন। ১৩৪ বলে ২ চারে ৫৩ রানে খেলছেন মুশফিক।
চতুর্থ উইকেটে এই দুজনের অবিচ্ছিন্ন জুটির রান ৯৮।
বাংলাদেশ পিছিয়ে আর ৭৯ রানে, হাতে উইকেট ৭টি।
তৃতীয় দিনেও উইকেট ছিল যথেষ্ট ব্যাটিং সহায়ক। খুব বেশি সুযোগ তৈরি করতে পারেননি শ্রীলঙ্কার বোলাররা। এর মধ্যে ক্যাচ ফেলার মাশুলও দিতে হয়েছে তাদের। বিশ্ব ফার্নান্দোর ‘কনকাশন সাব’ হিসেবে সুযোগ পেয়ে এদিন ২ উইকেট নেন কাসুন রাজিথা।
লিটনের ফিফটি
৪৮ থেকে লাসিথ এম্বুলদেনিয়ার শর্ট বল পুল করে বাউন্ডারিতে পাঠিয়ে ফিফটি পূর্ণ করেছেন লিটন দাস। ৯৭ বলে মাইলফলক ছুঁতে তিনি চার মেরেছেন ৮টি।
লিটনের এটি দ্বাদশ টেস্ট ফিফটি।
বছরের শুরুতে ক্রাইস্টচার্চে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় ইনিংসে সেঞ্চুরির পর আবার পঞ্চাশ ছুঁলেন তিনি। মাঝে চার ইনিংসে সর্বোচ্চ ছিল ৪১।
বাংলাদেশের তিনশ
মুশফিকুর রহিমের সিঙ্গেলে বাংলাদেশের দলীয় রান স্পর্শ করল তিনশ। ঠিক ১০১ ওভারে তিনশর ঠিকানায় পৌঁছাল স্বাগতিকরা।
শ্রীলঙ্কার চেয়ে মুমিনুল হকের দল পিছিয়ে আর ৯৭ রানে, হাতে উইকেট ৭টি।
১১৯ বলে ৪৬ রানে খেলছেন মুশফিক। লিটন ৯২ বলে ৪৭ রানে ব্যাট করছেন।
তামিমের সেঞ্চুরি নম্বর ১০
৯৫ থেকে পেসার আসিথা ফার্নান্দোকে পুল করে চার মেরে তামিম ইকবাল পৌঁছে গেলেন ৯৯ রানে। পরের বল লেগ সাইডে ঠেলে তিনি পা রাখলেন কাঙ্ক্ষিত ঠিকানায়, সেঞ্চুরি।
১৬২ বলে বাঁহাতি ওপেনার পূর্ণ করলেন সেঞ্চুরি। যেখানে চার ১২টি।
টেস্টে ১৬ ইনিংস পর সেঞ্চুরি পেলেন তামিম। সবশেষ ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে হ্যামিল্টনে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেছিলেন ১২৬ রানের ইনিংস।
সব মিলিয়ে এটি তার দশম টেস্ট সেঞ্চুরি। বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে তার চেয়ে বেশি সেঞ্চুরি আছে কেবল অধিনায়ক মুমিনুল হকের ১১টি।
ঘরের মাঠ চট্টগ্রামে তামিমের এটি দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। প্রথমটি ছিল সেই ২০১৪ সালের নভেম্বরে, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১০৯।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
শ্রীলঙ্কা ১ম ইনিংস: ৩৯৭
বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ১০৭ ওভারে ৩১৮ (আগের দিন ৭৬/০) (জয় ৫৮, তামিম ১৩৩ রিটায়ার্ড হার্ট, শান্ত ১, মুমিনুল ২, মুশফিক ৫৩*, লিটন ৫৪*; বিশ্ব ৮-০-৪২-০, আসিথা ১৬-২-৫৫-১, রমেশ ৩১-৮-৮৩-০, এম্বুলদেনিয়া ২৭-৬-৩৯-০, ধনঞ্জয়া ১৩-২-৩৯-০, রাজিথা ১১-৪-১৭-২)