ঢাকা অফিস
দীর্ঘ ১৮ বছর পর দেশের মাটিতে ঈদ উদযাপন করতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এবারের ঈদ শুধু তার ব্যক্তিগত বা পারিবারিক পরিসরেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেও বহন করছে বিশেষ তাৎপর্য। দীর্ঘ ১৭ বছরের প্রবাসজীবন শেষে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে এটিই তার প্রথম ঈদ।
এক-এগারোর পটপরিবর্তনের পর রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মুখে পড়ে দীর্ঘদিন দেশের বাইরে অবস্থান করতে বাধ্য হন তিনি। এই সময়ে তার বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা ও নানা প্রতিবন্ধকতার অভিযোগ রয়েছে। তবে সমর্থকদের দাবি—সব প্রতিকূলতা সত্ত্বেও তিনি মানুষের হৃদয়ে অবস্থান ধরে রেখেছেন।
গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর সপরিবারে দেশে ফেরেন তারেক রহমান। দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে তার এই প্রত্যাবর্তন দেশের রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ সৃষ্টি করে। সমর্থকদের ভাষায়, এটি ছিল “বীরের প্রত্যাবর্তন”, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন গতি আনে।
দেশে ফেরার পর দ্রুত পাল্টাতে থাকে রাজনৈতিক দৃশ্যপট। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার দল উল্লেখযোগ্য জয় পায়। জনগণের সমর্থন নিয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন খাতে পদক্ষেপ নিতে শুরু করে তার সরকার। অর্থনীতিতে গতি ফেরানো, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং রাজনৈতিক মামলাগুলো পর্যালোচনার মতো উদ্যোগগুলো আলোচনায় এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এসব পদক্ষেপ জনগণের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
দীর্ঘ দেড় যুগ পর দেশে এটিই তার প্রথম ঈদ উদযাপন। এতদিন তিনি লন্ডনে ঈদ কাটিয়েছেন। ফলে এবারের ঈদ তার দল, কর্মী-সমর্থক এবং অনেক সাধারণ মানুষের কাছে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।
দলের নেতাকর্মীরা বলছেন, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক চাপ ও মামলার কারণে তারা স্বাভাবিকভাবে ঈদ উদযাপন করতে পারেননি। এবার সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে। তাই শান্তিপূর্ণ পরিবেশে জনগণের সঙ্গে ঈদ উদযাপনের প্রস্তুতি চলছে।
ছাত্রদলের এক নেতা বলেন, দীর্ঘদিন পর প্রিয় নেতার সঙ্গে দেশে ঈদ উদযাপন করা তাদের জন্য আনন্দের ও আবেগঘন একটি মুহূর্ত।
