সড়ক-মহাসড়কে নসিমন, করিমন, আলমসাধু, ভটভটি, মাহিন্দ্রা ও শ্যালোইঞ্জিন যানবাহন বন্ধের দাবিতে খুলনার ১৮টি রুটে আজ মঙ্গলবার থেকে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট শুরু হচ্ছে। খুলনা জেলা বাস-মিনিবাস কোচ মালিক সমিতি ও বাস-মিনিবাস কোচ মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ এ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। খুলনা থেকে সাতক্ষীরা, মাওয়া, বরিশাল, পিরোজপুর, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, বাগেরহাট, আন্তঃজেলা খুলনা-পাইকগাছা, খুলনা-দাকোপ, খুলনা-কয়রা, খুলনা-ডুমুরিয়াসহ ১৮টি রুটে প্রায় এক হাজার বাস চলাচল করে। কিন্তু সড়ক-মহাসড়কে যানবাহনের কারণে একদিকে যেমন সড়ক দুর্ঘটনা বাড়ছে, অন্যদিকে এ অঞ্চলের পরিবহন মালিকরাও ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।
নসিমন, করিমন, যন্ত্রচালিত ত্রি-চক্রযান সারাদেশে কম খরচে কৃষি পণ্য বহন, গ্রাম-শহরে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য বহন, কাঁচামাল, মাছ ও মাছের পোনা, গ্রামীণ উন্নয়নে মালামাল বহন, জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে ভোটের সামগ্রী বহন, গ্রামাঞ্চলে আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় রাত ও দিনে পুলিশ বহন, গ্রামে জরুরি ও সংকটকালীন রোগী ও প্রসূতি বহন, পল্লী বিদ্যুতের সকল সামগ্রী, উপজেলা উন্নয়নে সকল সরকারি মালামাল ইত্যাদি পরিবহনে সারাদেশের অর্থনীতি ও জীবনযাত্রায় বিরাট অবদান রেখে আসছে। এই বাহন অর্থনৈতিক উন্নয়নে এক অপরিহার্য অংশে পরিণত হয়েছে। এই বাহন নির্মূল করা হলে অর্থনীতি, বেকারত্ব, আইনশৃঙ্খলার ক্ষেত্রে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় বুয়েটের মাধ্যমে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এই যানের প্রয়োজনীয় সংস্কার করা হোক ও আইনী বৈধতা দেয়া হোক। আইনী বৈধতা দিলে সরকারের রাজস্ব খাতে অবদান রাখা সম্ভব হবে। এই বাহন যে পরিমাণ মাল বহন করতে পারে সে মানের আমদানিকৃত গাড়ির মূল্য ৬-৭ লাখ টাকা। অপরদিকে একই পরিমাণ মাল বহন ক্ষমতার নসিমন-করিমন প্রস্তুতে ১ লাখ টাকা খরচ হয়। এটি আধুনিকায়ন করলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রাও বাঁচবে।
নসিমন, করিমন, যন্ত্রচালিত ত্রি-চক্রযান আবদার তুলেছেন ভারি যানবাহনের মালিক শ্রমিকরা। অবস্থাদৃষ্টে বোঝা যাচ্ছে সরকারও এ দাবির প্রতি সহানুভূতিশীল। যারা দাবি তুলেছেন তাদের বক্তব্য হচ্ছে আলোচিত এসব যানের বৈধতা নেই এবং এ অবৈধ যানের কারণে দুর্ঘটনা বাড়ছে। কোনো বেআইনী যানবাহনের প্রতি আমাদের সমর্থন নেই। আর প্রশাসনের তো সমর্থন না থাকারই কথা। কিন্তু যারা এই বেআইনী যান চলাচল বন্ধের দাবি তুলেছেন তাদের যানবাহনের রাস্তায় চলাচলের বৈধতা আছে কতটুকু তা আগে নিশ্চিত করতে হবে। মহাসড়কে চলাচলকারী যানবাহনের ফিটনেস না থাকলে কি সেগুলো রাস্তায় চলাচল করতে পারে? কালো ধোয়া বের হয় যে গাড়িগুলো দিয়ে তা রাস্তায় চলাচল করতে পারে কিনা তাও কি মালিক শ্রমিকরা জানেন? এ বিবেচনায় কত ভাগ ভারী যানবাহন রাস্তায় ওঠার উপযোগী আছে তা আগে নির্ধারণ করতে হবে। নিজের বেআইনী কাজ বহাল রেখে অপরের খুত তালাশ করার অভ্যাস কোনো ভালো কাজ নয়। বিত্তবানরা বড় গাড়ির মালিক হয়েছেন। তাদের গাড়ি নির্বিঘেœ চলাচলের সুবিধার জন্য গরিব মানুষের পেটে লাথি মারার কৌশল হিসেবে ছোট গাড়ি বন্ধের বাহানা তুলেছেন। যার মাধ্যমে গ্রাম-বাংলার অর্থনীতির চাকা সচল হয়েছে, বহু অপরাধী অন্ধকার পথ ছেড়ে এই ছোট যানের সাথে তাদের জীবনকে জড়িয়ে নিষ্কলুষ পথে চলছে, এসব পজেটিভ বিষয়গুলো বিত্তবানদের সহ্য হচ্ছে না।
আমাদের স্পষ্ট বক্তব্য হলো অবৈধতার প্রশ্নে এইসব ছোট গাড়ি বন্ধের সিদ্ধান্তের প্রতি আমাদের বিরোধীতা নেই। কিন্তু অবৈধ ভারী যানবাহনও যেন একই সাথে রাস্তায় ওঠা বন্ধ করা হয়। ‘চাচীর তরকারির এমন গুণ জায়গায় ঝাল জায়গায় নুন’ এমন যেন না হয়।