নিজস্ব প্রতিবেদক, মণিরামপুর
যশোরের মণিরামপুরের কাশিমনগর ইউনিয়ন পরিষদের নারী ইউপি সদস্য পারভিনা খাতুনের নামে সরকারি সুবিধার তিনটি কার্ড রয়েছে। তিনি একাধারে বিধবা ভাতা, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি ও টিসিবির পণ্যের কার্ডের মালিক। কাশিমনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তৌহিদুর রহমানের সহায়তায় তিনি একসাথে সরকারি তিনটি কার্ডের সুবিধা ভোগ করছেন বলে অভিযোগ।
সোমবার পারভিনা খাতুনের নামে তিন প্রকারের কার্ডের বিষয়ে উপজেলা পরিষদে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে খোঁজ নিয়ে সত্যতা পাওয়া গেছে।
তিন প্রকারের কার্ডের সুবিধা পাওয়ার বিষয়টি পারভিনা খাতুন নিজেও স্বীকার করেছেন। তবে, চেয়ারম্যানের দাবি বিষয়টি তিনি জানেন না।
পারভিনা খাতুন ২০২১ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে কাশিমনগর ইউনিয়ন পরিষদের (৪, ৫ ও ৬) নম্বর সংরক্ষিত ওয়ার্ডের সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি হুমাতলা গ্রামের মৃত তাইজুল ইসলামের স্ত্রী। তার একমাত্র ছেলে প্রবাসে থাকেন।
স্বামী মারা যাওয়ায় কয়েক বছর আগে পারভিনা খাতুনের নামে বিধবার ভাতার কার্ড হয়। এরপর চালের কার্ড হয় তার নামে। গেল বছরের মাঝামাঝি সময়ে চালের কার্ড যাচাইয়ের সময় উপজেলা কমিটির নির্দেশনা ছিল, কোন ব্যক্তি সরকারি কোন একটি সহায়তা পেলে তিনি চালের কার্ডের সুবিধা পাবেন না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পরিষদের একাধিক ইউপি সদস্য বলেন, নারী সদস্য পারভিনা খাতুনের টিসিবির কার্ড ও চালের কার্ডের বিষয়ে আমরা বাধা দিলেও চেয়ারম্যান তার নাম বাদ না দিয়ে নতুনভাবে যুক্ত করেছেন। চালের কার্ডের নতুন তালিকায় স্বামীর নাম না দিয়ে পারভিনা খাতুনের বাবার নাম ব্যবহার করা হয়েছে।
পারভিনা খাতুন বলেন, আমার স্বামী মারা গেছে ২০১৩ সালে। বিধবা ভাতার ও চালের কার্ড আমি মেম্বর হওয়ার আগের। আর টিসিবির কার্ড মেম্বর হওয়ার পরে হয়েছে।
পারভিনা খাতুন আরো বলেন, মেম্বর হিসেবে আমরা মাসিক ভাতার পরিষদের অংশ পাইনা। শুধু সরকারি ভাতা ৩ হাজার ৬০০ টাকা পাই।
টিসিবির কার্ড আমি জোর করে নিছি। যাচাই বাছাই করার সময় চালের কার্ড কেটে দিতে চাচ্ছিল। আমি বলেছি, ছেলেটা বিদেশে গেছে। আর্থিক অবস্থার উন্নতি হলে কার্ড ফেরত দেব।
কাশিমনগর ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মতিউর রহমান বলেন, আমি কোন কার্ড দিইনি। যে কোন কার্ড হওয়ার সময় নারী ইউপি সদস্য ও চেয়ারম্যানের আলাদা অংশ থাকে। সেভাবে পারভিনা খাতুনের নামে কার্ড হয়েছে।
কাশিমনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তৌহিদুর রহমান বলেন, পারভিনা খাতুনের নামে একাধিক কার্ডের বিষয়ে আমার জানা ছিলো না। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি। এখন একটা ব্যবস্থা নিতে হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকির হোসেন বলেন, অভিযোগের সত্যতা পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
