১৯ বছর পর মণিরামপুর বিএনপির সম্মেলনের প্রস্তুতি
আব্দুল্লাহ সোহান, মণিরামপুর (যশোর): ঐক্যের পথে হাঁটছে মণিরামপুর বিএনপি। এ লক্ষ্যে পৃথক দুটি গ্রুপ এখন এক কাতারে থেকেই নতুন কমিটি করতে মাঠে নেমেছেন। তবে এসবের মধ্যে নেতাদের বিভেদ রয়েই গেছে। গেল ১৯ বছর পর ইকবাল-মুছা গ্রুপ সম্মিলিতভাবে গত ২৬ মার্চ শহীদ মিনারে গেলেও রাজনীতির মাঠে তাদের দূরত্ব দূর হচ্ছে না। বর্তমান কমিটির আহবায়ক শহীদ ইকবাল চাচ্ছেন আগামী পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে তার বলয় শক্তিশালী অবস্থানে থাকবে। আর মোহাম্মাদ মুছা চাচ্ছেন তার হারানো পদ পুনরুদ্ধার করতে। এক্ষেত্রে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় আগামী কাউন্সিলের মাধ্যমে যে যার অবস্থান অনুকূলে রাখতে চেষ্টা চালাচ্ছেন।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র থেকে জানা গেছে, আগামী পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে আসতে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং সাংগঠনিক সম্পাদক পদে নির্বাচনের সম্ভাবনা দেখছেন তৃণমূল নেতাকর্মীরা। এ লক্ষ্যে উপজেলার ১৭টি ইউনিয়নে কাউন্সিলর করতে দুগ্রুপ একত্রিত হচ্ছে। ১৭টি ইউনিয়নের মধ্যে রোহিতা, ঝাঁপা, মশ্মিমনগর বাদে সবকটি ইউনিয়ন আহবায়ক কমিটি করা হয়েছে। কেবলমাত্র চালুয়াহাটি ইউনিয়ন কমিটি গঠনের কার্যক্রম শেষ হলেও সংগত কারণে তা স্থগিত রাখা হয়েছে।
দলীয় সূত্র জানিয়েছে, ঈদের পরেই ১৭টি ইউনিয়নের ওয়ার্ড কমিটি গুলো পুনঃগঠনের কাজ করা হবে। আগামী জুনের আগেই এসব কমিটি গঠনের কার্যক্রম চূড়ান্ত করা হবে। তবে এসব কার্যক্রমের মাঝেও দু’গ্রুপের মাথায় রয়েছে সভাপতি, সম্পাদক এবং সাংগঠনিক সম্পাদক পদে নেতা নির্বাচন নিয়ে। বর্তমান থানা বিএনপির আহবায়ক অ্যাড. শহীদ মো. ইকবাল হোসেন তিনি সভাপতিসহ তার পছন্দের ব্যক্তিদের নিয়ে কমিটি করার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। গত ২০০৩ সাল থেকে থানা বিএনপির সভাপতি পদে শহীদ ইকবাল হোসেন দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে এ পদটিতে ছিল বিএনপির সিনিয়র নেতা বর্তমান জেলা বিএনপি নেতা মোহাম্মাদ মুছা। আসছে কাউন্সিলে মোহাম্মাদ মুছা সভাপতি পদ পুনরুদ্ধারের চেষ্টা নিয়েই সাংগঠনিক কার্যক্রমে মাঠে নেমেছেন। এব্যাপারে জানতে চাইলে মোহাম্মাদ মুছা এ প্রতিবেদককে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। একই অবস্থা সাধারণ সম্পাদক পদেও। এ পদটিতে চলমান আহবায়ক কমিটির যুগ্ম আহবায়ক মফিজুর রহমান ও যুগ্ম আহবায়ক আসাদুজ্জামান মিন্টু লবিংয়ে রয়েছেন। দু’পক্ষের নেতাদের সাথে সম্ভাব্য সম্পাদক পদে প্রার্থীরা লিয়াজো রেখে কাউন্সিলর নির্বাচন কাজ করে চলেছেন। কেবল সাংগঠনিক সম্পাদক পদে দলের বিভিন্ন শ্রেণি পর্যায়ের নেতাকর্মীদের অভিমত সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে শহর কেন্দ্রিক বাসিন্দা নেতাকেই নির্বাচন করলে সাংগঠনিক ক্ষেত্রে দল লাভবান হবে। এ পদে অবশ্য দু’জনকে রাখা হবে বলে জানিয়েছেন দলের একাধিক সূত্র। সেক্ষেত্রে সাবেক ছাত্রনেতা শামসুজ্জামান শান্ত, খাঁন শফিয়ার রহমান এবং ফিরোজ হোসেনের নাম শোনা যাচ্ছে। দলের নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র থকে জানা গেছে, কাউন্সিলর নির্বাচন ক্ষেত্রে পরিবেশ অনুকূল থাকলে সাংগঠনিক দুটি পদে একটিতে সাবেক যুবনেতা নিস্তার ফারুক আসার সম্ভাবনাও দেখছেন।
১৭টি ইউনিয়ন থেকে নির্বাচিত ১ হাজার ২০৭ কাউন্সিলরে ভোটের মাধ্যমে এ তিনটি পদের নেতা নির্বাচন হবে। সেক্ষেত্রে প্রত্যেকটি ইউনিয়নে ৭১ সদস্য বিশিষ্ট বিএনপির ইউনিয়ন কমিটি করা হয়েছে। এদিকে বর্তমান থানা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সিনিয়র ক’জন নেতা অতি গোপনীয়তার সাথে ওয়ার্ড কমিটির কার্যক্রম চালাচ্ছে। যেটাকে অগণতান্ত্রিক বলে দাবি করেছেন মুছা গ্রুপের লোকজন। এ ঘটনাটি জেলা নীতি নির্ধারনী নেতাদেরকেও বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছেন। দলের একাধিক সূত্রের দাবি, বিগত ১৯টি বছর মণিরামপুর বিএনপি একটি পরিবার কেন্দ্রিক। যে কারণে বিএনপির অনেকেই ১৯টি বছর দলীয় কর্মকান্ড থেকে পিছিয়ে ছিলো। এসব কারণে মণিরামপুর বিএনপিকে শক্তিশালী এবং করতে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নেতৃত্ব নির্বাচন করা হবে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে দলের একাধিক নেতাকর্মী জানিয়েছেন, বিগত ১৯টি বছর মণিরামপুর বিএনপির এক নেতা শহীদ ইকবাল হোসেনের আঙ্গুলের ইশারায় চলেছে। এ অবস্থা থেকে বের হয়ে আসবে বলে আশা করা যাচ্ছে। যে কারণে মণিরামপুর বিএনপি ছাড়াও অঙ্গ সংগঠন গুলো করা হয়েছে উভয় গ্রুপকে নিয়ে। এক্ষেত্রে পৌর ছাত্রদলের কমিটি ছাড়া উপজেলা ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলসহ এসব সংগঠন গুলো নেতৃত্বে বেশির ভাগ চলে এসেছে বঞ্চিতদের মধ্য থেকে। বিএনপির এ দু’নেতা এ্যাড. শহীদ ইকবাল হোসেন এবং জেলা বিএনপির নেতা মোহাম্মাদ মুছা ছাড়াও মাঝখানে আরো দু’নেতা এসব অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করছেন। এ দু’জন হচ্ছেন কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা ইফতেখার সেলিম অগ্নি এবং সাবেক থানা ছাত্রদল-যুবদলের সভাপতি ও থানা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আসাদুজ্জামান মিন্টু। এ দু’নেতা আবার মৌনভাবে মুছা গ্রুপের সাথে সাংগঠনিক কার্যক্রম করে চলেছেন। যে কারণে দলের মণিরামপুরের সাধারণ কর্মী সমর্থকরা আগামী বিএনপিকে একটি আশার আলো দেখতে পাচ্ছেন। অবশ্য পৌর বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি করতে সাংগঠনিক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। বর্তমান কমিটির আহবায়ক খায়রুল ইসলাম তার স্থান দখলে রাখতে মরিয়া হয়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম করছেন। তবে সাধারণ সম্পাদক পদটিতে নিয়ে রয়েছে বিপত্তি। বর্তমান কমিটিতে আব্দুল হাই যুগ্ম আহবায়ক থাকলেও এ পদটি দখল করার জন্য জোর চেষ্টা করে চলেছেন ব্যবসায়ী ও সাবেক ছাত্রনেতা জাহাঙ্গীর হোসেন। এসব নিয়েই মণিরামপুর বিএনপিতে এখন কর্মীদের মূল্যায়ন বেড়ে গেছে।