হাসানুজ্জামান ঝড়ু
নিউজিল্যান্ড ম্যাচের আগে বলেছিলাম বড় স্কোর করতে হলে টপ অর্ডারের চার ব্যাটার থেকে বড় জুটির কোন বিকল্প নেই। সেই সাথে টপ অর্ডারের একজনকে ইনিংসটা শেষ পর্যন্ত ক্যারি করতে হবে। কিন্তু বাংলাদেশের ব্যাটিং ইনিংসে একটি মাত্র শতরানের কাছাকাছি জুটি হয়েছিল পঞ্চম উইকেটে। সাকিব-মুশফিকের সেই জুটির কল্যাণে টপ অর্ডারের ধ্বসের পরও ২৪৫ রানের পুঁজি পায়। আজ ভারত মাচের আগেও একই কথা বলবো।
গত দুই ম্যাচে বাংলাদেশ ব্যাটিংয়ে একটু তাড়াহুড়া করেছে বলে আমার মনে হয়েছে। পাওয়ার প্লেতে যদি ৪০ রানও হয় তবে উইকেট দুটির বিষয়ে হারানো যাবে। এমন ভাবে ৩০ ওভারে ১৩০-৪০ রানই যথেষ্ঠ মনে হয়। শেষ বিশ ওভারে হাতে ৭-৮টা উইকেট থাকে তাহলে যে কোন মুহূর্তে রান তোলার গিয়ার চেঞ্জ করা যাবে। মানে শেষ পাওয়ার প্লেতে উইকেট বেশি থাকলে শেষ পর্যন্ত স্কোর বোর্ডে ২৮০ থেকে ৩০০+ রান করা সহজ হয়ে যাবে। বিশ^কাপে দুই একটি ম্যাচ বাদে বেশির ভাগ ম্যাচেই তিনশোর কাছাকাছি রান ফাইটিং স্কোর হচ্ছে। আফগানিস্তান তো ২৮৪ রান করেও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয় পায়।
তবে আজ স্বাগতিক ভারতের বোলিং লাইনআপের বিপক্ষে বাংলাদেশের ব্যাটারদের কাজটা কঠিন হবে। ভারত বিশ^কাপের তিন ম্যাচেই দারুণ খেলেছে। তিন ম্যাচই প্রথমে বোলিং করেছে। এর মধ্যে অস্ট্রেলিয়া ও পাকিস্তানকে দুইশ’র নিচে অলআউট করে দেন ভারতীয় বোলাররা। ৩ উইকেটে ১৫৫ থেকে ১৯১ রানে পাকিস্তানকে গুটিয়ে দেন। বোলিং লাইনআপে রয়েছে ভিন্ন ধরনের বোলার। জাসপ্রিত বুমরা নতুন বলে সুইং আদায় করতে পারেন আবার বল পুরাতন হলে দারুণ ইয়র্কার করেন। সিরাজ ১৪০+ পেসে ধারাবাহিক বল করেন। রবীন্দ্র জাদেজা একই যায়গায় টানা বোলিং করে যান। কুলদিপ যাদবের বোলারকে মোকাবেলা করতে হবে। এছাড়া হার্দিক পান্ডিয়া ও শার্দুল ঠাকুরও ধারাবাহিক একই লাইন লেন্থে বল করেন। তাই ধুঁকতে থাকা বাংলাদেশের ব্যাটিং বিভাগ কঠিন পরীক্ষার সম্মুখিন হতে হবে। আজকের ম্যাচে বাংলাদেশ টিম ম্যানেজমেন্ট ব্যাটিং অর্ডারে কোন পরিবর্তন আনবে না মনে হয়। তবে তানজিদ হাসান তামিমকে হয়তো ড্রপ করিয়ে মিরাজ ও লিটনকে দিয়ে ওপেন করাতে পারে। এর আগে ২০১৮ এশিয়াকাপের ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে ১২০ রানের জুটি গড়েছিলেন মিরাজ ও লিটন। লিটন বরাবরই ভারতের বিপক্ষে জ¦লে উঠেন। সর্বশেষ টি-২০ বিশ^কাপে ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ভারতে দলকে জয়ের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গিয়েছিলেন। সাকিব-মুশফিকও ভারতে বিপক্ষে ভাল খেলে। তাই ভারতের বিপক্ষে ব্যাটিংয়ের ভঙ্গুর অবস্থা থাকবে না বলে আশা করা যায়।
বাংলাদেশের ব্যাটিং ব্যর্থতায় একটা বিষয় আলোচনায় আসছে না। পাওয়ার প্লেতে পেসাররা কোন উইকেট নিতে পারছে না। তবে বল খারাপ করছে সেটা না।
অপরদিকে ভারতে টপ অর্ডার দারুণ ফর্মে রয়েছে। রোহিত শর্মা গত দুই ম্যাচে ঝড়ো ব্যাটিং করেছেন। শুভনম গিল বেশ কিছুদিন খেলার বাইরে ছিল। গত ম্যাচে তেমন একটা ছন্দে ছিল না। বিরাট কোহলি, কেএল রাহুল শ্রেয়াস আয়ার রান করছেন।
আমাদের বোলিং লাইন আপে শরিফুল আছেন, তাসকিন আছেন, দুজনের বোলিংয়ে নানা তূণ আছে। শরিফুল তো ইনকামিং ডেলিভারিও করতে পারেন, নাকল আর স্লোয়ারও করতে পারেন সমানে। তাসকিনও ভ্যারিয়েশনে আগের চাইতে বেশ ভাল অবস্থায়। মোস্তাফিজ নতুন বলে উইকেট নিচ্ছেন। সর্বশেষ ঘরের মাঠে ভারতের বিপক্ষে সিরিজে পাঁচ উইকেট নিয়েছিলেন সাকিব।
বাংলাদেশকে এই বিশ্বকাপের বাকি ম্যাচগুলিতে ভাল করতে হলে তাই সবচাইতে আগে যেটা করতে হবে, পাওয়ারপ্লে’র এই বোলিংয়ে অবদান রাখতে হবে। উনিশ বিশ্বকাপে আমাদের মূল সমস্যা ছিল এই পাওয়ারপ্লে’র বোলিং, এবারও সেই একই সমস্যা রয়ে যাচ্ছে আমাদের। এই সমস্যার সমাধান না করলে খুব বেশি বড় সাফল্য আমরা হয়তো এবারও পাব না।
