সাতক্ষীরা ও কলারোয়া প্রতিনিধি
সাতক্ষীরার কলারোয়ায় তালাবদ্ধ ঘরে পেট্রোল ঢেলে ভগ্নীপতির দেয়া আগুনে দগ্ধ স্বামীর পর এবার মারা গেলেন গৃহবধূ শারমিন (২৫)। বুধবার (১৪ জুন) ভোরে ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। শারমিন উপজেলার চন্দনপুর গ্রামের বাসিন্দা।
এর আগে গত ১ জুন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থেকে মারা যান ওই গৃহবধূর স্বামী আব্দুল কাদের (৩০)। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তাদের একমাত্র কন্যা ফাতেমা খাতুন (৪)।
চন্দনপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. ডালিম হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি খুবই হৃদয়বিদারক। ভগ্নিপতি সবুজের দেয়া আগুনে গত ১ জুন আব্দুল কাদের মারা যান। বুধবার (১৪ জুন) ভোরে তার স্ত্রী শারমিনও মারা গেলেন।’
কলারোয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল কালাম বলেন, ‘আগুনে দগ্ধ আব্দুল কাদেরের মৃত্যুর পর বুধবার তার স্ত্রীও মারা গেছেন। আমরা মামলার এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছি। মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
জানা গেছে, গত ২৭ মে দিবাগত রাতে ভগ্নীপতি সবুজ হোসেন (৩২) উপজেলার চন্দনপুর গ্রামের শ্যালক আব্দুল কাদেরের ঘরে পেট্রোল ঢেলে দরজায় তালা লাগিয়ে আগুন ধরিয়ে দেন। এতে আব্দুল কাদের, তার স্ত্রী শারমিন ও শিশুকন্যা ঝলসে যায়। তাদের ডাকচিৎকারে ঘরের তালা ভেঙে তিনজনকে উদ্ধার করেন এলাকাবাসী। পরে তাদের অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১ জুন আব্দুল কাদের মারা যান।
স্থানীয়রা জানান, সবুজ হোসেন যশোরের নারায়ণপুর পোড়াবাড়ী গ্রামের আব্দুল বারীর ছেলে। কাদের গাজীর বোন সুফিয়া খাতুনের (২৬) সঙ্গে ভগ্নীপতি সবুজের বিরোধ চলে আসছিল। এর কারণ হিসেবে শ্যালক কাদেরের ওপর ক্ষিপ্ত হন সবুজ। এর জের ধরে ২৭ মে রাতে সবুজ চন্দনপুর (কাতপুর) গ্রামের হান্নান বিহারির ছেলে সোহাগ হোসেনের বাড়িতে অবস্থান করেন। ওই রাতে সোহাগের সহযোগিতায় নিজ ঘরে ঘুমিয়ে থাকা আব্দুল কাদেরের ঘরে পেট্রোল ঢেলে আগুন জ্বালিয়ে দিয়ে পালিয়ে যান সবুজ।
গত ২৮ মে আব্দুল কাদেরের বোন সুফিয়া খাতুন বাদী হয়ে দুজনকে আসামি করে কলারোয়া থানায় একটি মামলা করেন। মামলার ২ নম্বর আসামি সোহাগ হোসেনকে ওই দিনই গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
