মার্চ মাসে দেশে ৪৫৮টি সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৫৮৯ জন। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৬৪৭ জন। এতে সড়কে প্রতিদিন গড়ে ১৯ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া ফেব্রুয়ারির তুলনায় মার্চ মাসে প্রাণহানি বেড়েছে ১৩.৪৩।
৪ এপ্রিল রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী ২২১ জন, বাস যাত্রী ৩৯ জন, ট্রাক-পিকআপ-ট্রাক্টর-ট্রলি-লরি আরোহী ৩৪ জন, মাইক্রোবাস-প্রাইভেটকার যাত্রী ১৭ জন, থ্রি-হুইলার আরোহী ৮১ জন, স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনের যাত্রী ২৪ জন এবং প্যাডেল রিকশা-রিকশাভ্যান-বাইসাইকেল আরোহী ১১ জন নিহত হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহনের মধ্যে এবারও মোটরসাইকেল ছিল শীর্ষে।
সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণসমূহ হিসেবে দেখা গেছে, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, বেপরোয়া গতি, চালকদের বেপরোয়া মানসিকতা, অদক্ষতা ও শারীরিক-মানসিক অসুস্থতা, বেতন ও কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট না থাকা, মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন চলাচল, তরুণ ও যুবদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো, জনসাধারণের মধ্যে ট্রাফিক আইন না জানা ও না মানার প্রবণতা, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, বিআরটিএর সক্ষমতার ঘাটতি ও গণপরিবহন খাতে চাঁদাবাজি।
এত যে দুর্ঘটনা ঘটছে তাও কোনো প্রতিকার নেই। প্রধানমন্ত্রী দুর্ঘটনা এড়াতে কয়েকটি নির্দেশনা দিয়েছিলেন। কিন্তু কে শোনে কার কথা। নির্দেশনা প্রতিপালনে কেউ গুরুত্ব দিল না। আমরা মনে করি জননেত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়িত হলে দুর্ঘটনা নিশ্চিত কমে আসতো। যাদের ওপর বাস্তবায়নের দায়িত্ব তারা নাকে তেল দিয়ে ঘুমাচ্ছেন। কিন্তু যন্ত্রদানব যে তাদের জীবনটাও কেড়ে নিতে পারে, প্রাণ হরণ করতে পারে তাদের সন্তানাদিসহ আপনজনদের সে কথাটিও তারা ভাবেন না।
মানুষ মরণশীল, জন্মিলে মরতে হবে। কিন্তু দুর্ঘটনায় মৃত্যু কাক্সিক্ষত নয়। দুর্ঘটনার বিষয়টাকে নিয়তির বিষয় বলা হয়ে থাকে। প্রবাদ আছে ‘মরণ লেখা পায়, যার যেখানে মরণ আছে সেখানে গিয়ে হয়।’ কিন্তু তার পরেও সতর্কতা বা সচেতনতা বলে একটা বিষয় আছে যেটাকে কোনোক্রমেই উড়িয়ে দেয়া যায় না। এ জন্য দুর্ঘটনা আইনের ঊর্ধ্বে নয়। কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে তদন্ত সাপেক্ষে দোষী ব্যক্তি শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়। এখানে নিয়তির বিষয় বলে এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।
মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে আমরা যতদূর জানি তরুণরা যখন এই যান হাতে পায় তখন তারা বেপরোয়া হয়ে ওঠে। নিয়ন্ত্রণহীন গতিতে চালাতে গিয়ে তারা অধিকাংশ ক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় পড়ে। জন্ম হয় বিয়োগান্ত ঘটনার। অভিভাবক এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার লোকজনকে এই বেপরোয়া গতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর হওয়া দরকার। বিষয়টাকে পাশ কাটিয়ে গেলে এসব ঘটনা ঠেকানো যাবে না। অন্যান্য যানবহন চলাচলে কোনো নিয়ম নীতি মানতে দেখা যাচ্ছে না। মনে হয় যেন একটা ফ্রি স্টাইলের দেশে যানবাহনগুলো চলাচল করছে। হালে একটি কথা শোনা যাচ্ছে বেশি করে। তা হলো যানবাহন চলাচলের বিষয়ে কড়াকড়ি করলে নাকি শ্রমিক অসন্তোষ সৃষ্টি হবে। তাতে যোগাযোগ ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়তে পারে। এটা খোড়া অজুহাত। আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। দেশটাকে সঠিক পথে চলতে হলে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতেই হবে। সড়কে মৃত্যু রোধ করতে হলে আইনের কাছে যাওয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই।