জাহিদ হাসান
মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ১৯৭১ সালে যুদ্ধকালীন যশোর রোডের শরণার্থীদের অবর্ণনীয় দুর্দশা ও যুদ্ধচিত্র নিয়ে মার্কিন কবি অ্যালেন গিন্সবার্গ রচনা করেছিলেন কবিতা ‘সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড’। এটি শুধু একটি কবিতাই নয়, বাঙালির আত্মত্যাগের একটি মূল্যবান উপাখ্যানও। আর সেই কালজয়ী কবিতা অবলম্বনে যশোর রোডেই স্মরণ করা হবে ৭১ ’এর যশোর রোডকে। আগামি ২২ ও ২৩ সেপ্টেম্বর দুইদিন ব্যাপি ‘স্মরণে সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড-৭১’ শীর্ষক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে জেলা প্রশাসন। এই অনুষ্ঠানে মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও যুদ্ধকালীন সময়ে যশোর রোডে শরণার্থীদের অবর্ণনীয় দুর্দশা ও যুদ্ধচিত্র ঘটনাপ্রবাহের প্রতীকী মঞ্চায়নের মাধ্যমে সেপ্টেম্বর অন যশোরকে স্মরণ ও নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানাতে পারবে। বুধবার বিকালে যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের মিলনায়তনে প্রস্তুতি সভায় এসব তথ্য জানান জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবরাউল হাছান মজুমদার। দুইদিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানে যশোরের সাংস্কৃতিক অঙ্গন ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঁচ শতাধিক কলাকৌশলী অংশ নিবেন।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবরাউল হাছান মজুমদার বলেন, ঐতিহাসিক যশোর রোড ঘিরে আছে অনেক গল্প-গান। মুক্তিযুদ্ধে লাখো মানুষ জীবন বাঁচাতে এই পথ দিয়েই ভারতে আশ্রয় নেন। অবর্ণনীয় দুর্দশা ও যুদ্ধচিত্র নিয়ে মার্কিন কবি অ্যালেন গিন্সবার্গ রচনা করেছিলেন কবিতা ‘সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড’। এই কবিতাটি পড়লে বর্বর পাকিস্তানিদের নির্মম নৃশংস গণহত্যার চিত্র যেনো চোখের সামনে ভেসে ওঠে। চোখ ভিজে ওঠে এবং মন মুহূর্তেই চলে যায় সেই মহান মুক্তিযুদ্ধের একাত্তরের রণাঙ্গণে। আমরা সেই ঐতিহাসিক রোডকে স্মরণ করতে চাই। জানাতে চাই নতুন প্রজন্মের ছেলে মেয়েকে। জেলা প্রশাসনের আয়োজনে ও স্থানীয় সাংস্কৃতিক অঙ্গন ও মুক্তিযোদ্ধা ও রাজনীতি-সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে এই স্মরণ অনুষ্ঠান হবে।
সভায় জানানো হয়, দুইদিন ব্যাপী অনুষ্ঠানের প্রথম দিন ২২ সেপ্টেম্বর বিকাল ৪ টায় ঐতিহাসিক যশোর রোড দিয়ে লাখো মানুষ জীবন বাঁচাতে যেভাবে ভারতে আশ্রয় নেয়; সেই শরণার্থীদের অবর্ণনীয় দুর্দশা ও মানুষের ঢল নামার প্রতীকী পদযাত্রা শুরু হবে। এটি যশোর রোডের পুলেরহাট বাজার থেকে শুরু হয়ে শেষ হবে কৃষ্ণবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত। এই পদযাত্রাতে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের শিল্পীদের অংশ গ্রহণে এই সড়ক ধরে চলা ভারতগামী শরণার্থী বাঙালির কষ্ট তুলে ধরা হবে। কেউ ছেঁড়া জামা, কাঁদামাটি, খালি গায়ে রুগ্ন শরীরে হেঁটে চলার দৃশ্য ফুঁটে তুলবে। কেউ বা তার বৃদ্ধ মা বাবাকে পিঠে তুলে হেঁটে চলা; আবার কেউ গরুর গাড়িতে নিজেদের শেষ সম্বল নিয়ে অজানা ভবিষ্যৎ দিকে চলে যাওয়ার দৃশ্য ফুঁটে উঠবে বলে জানানো হয়। যশোর রোডের শরণার্থীদের অবর্ণনীয় দুর্দশা ও যুদ্ধচিত্র ঘটনাপ্রবাহের প্রতীকী মঞ্চায়নের মধ্যে দিয়ে নতুন প্রজন্ম তার দেশের ইতিহাসকে জানতে পারবে। এছাড়া এদিন সন্ধ্যায় কৃষ্ণবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে থাকবে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এছাড়া রাতে সেই কালজয়ী কবিতা অবলম্বনে গীতি নৃত্যনাট্য মঞ্চায়ন করবে যশোরের সাংস্কৃতিক সংগঠন শেকড়। এছাড়া দ্বিতীয় দিন যশোর শিল্পকলা একাডেমিতে যশোরের সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের আয়োজনে হবে কালচারাল অনুষ্ঠান।
প্রস্তুতি সভায় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার যশোরের উপ পরিচালক রফিকুল হাসান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) তুষার কুমার পাল, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক সার্কেল) জুয়েল ইমরান, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল ইসলাম মিলন, বৃহত্তর যশোরের মুজিব বাহিনীর প্রধান মুক্তিযোদ্ধা আলী হোসেন মনি, ডেপুটি প্রধান মুক্তিযোদ্ধা রবিউল আলম, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার মুযহারুল ইসলাম মন্টু যশোর সংবাদপত্র পরিষদের সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা একরাম-উদ-দ্দৌলা, প্রেস ক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন, সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার আফজাল হোসেন দোদুল, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহারুল ইসলাম, জেলা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি দিপংকর দাস রতন, সাধারণ সম্পাদক সানোয়ার আলম খান দুলু, শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হাসান বুলু, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হারুন অর রশিদ, নাট্য নির্দেশক কামরুল হাসান রিপন প্রমুখ।
