নিজস্ব প্রতিবেদক
আজ যশোর আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার আগমন ঘিরে কাক্সিক্ষত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত থাকা যশোর এখন নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, যশোরবাসীর কাছে উন্নয়নের অবিসংবাদিত কারিগর হলেন মরহুম তরিকুল ইসলাম। শহীদ জিয়া ও বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে যশোরের জন্য যা কিছু দৃশ্যমান উন্নয়ন হয়েছে, তার প্রতিটি উন্নয়নে মিশে আছে তরিকুল ইসলামের অবদান। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও সেই ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। বিশেষ করে তরিকুল ইসলামের পুত্র অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বর্তমানে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যাশা এখন আকাশচুম্বী। যশোরবাসী মনে করে, বাবার আদর্শ ও কর্মস্পৃহাকে ধারণ করে অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের মাধ্যমেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যশোরের অসমাপ্ত কাজগুলো সম্পন্ন করবেন। সেই বিবেচনায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তারেক রহমানের প্রথম যশোর সফরে উন্নয়নের পথরেখা দেখতে চান যশোরের বাসিন্দারা। ঐতিহাসিকভাবে যশোর একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জেলা হওয়া সত্ত্বেও বিগত ১৭ বছরে এখানে কাক্সিক্ষত উন্নয়ন হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিভিন্ন সংগঠন জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্মারকলিপি প্রদান এবং মানববন্ধনের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের দাবি-দাওয়া তুলে ধরেছে।
যশোরবাসীর প্রধান দাবির মধ্যে রয়েছে, বেনাপোল-যশোর-ঢাকা রুটে নতুন ট্রেন চালু, যশোর পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীতকরণ, বেনাপোল-যশোর-নড়াইল মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করা, যশোর বিমানবন্দর থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু, আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেট স্টেডিয়াম নির্মাণ, জেনারেল হাসপাতালে আইসিইউ ও ডায়ালাইসিস সুবিধা, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও সংস্কৃতি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা।
তৎকালীন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকারের কাছে বিভিন্ন সময় এসব দাবি উত্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু আশ্বাস মিললেও বাস্তবায়ন হয়নি। এরমধ্যে গত এক দশক আগে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যশোরকে সিটি করপোরেশন ঘোষণা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ হয়নি।
বৃহত্তর যশোর রেল যোগাযোগ উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটির সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার রুহুল আমিন বলেন, বেনাপোল-যশোর-নড়াইল-ঢাকা রুটে আরও একটি ট্রেন চলাচলসহ পাঁচ দফা দাবি জানানো হচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে। তাদের দীর্ঘদিনের দাবি, বেনাপোল-যশোর-নড়াইল-ঢাকা রুটে আরো একটা নতুন ট্রেন চলাচলের। ভোর বেলা যশোর থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে একটি নতুন ট্রেন চলাচল করলে এই জনপদের মানুষ বাড়ি থেকে ঢাকায় যেয়ে অফিস বা কাজ করতে পারবেন। ওই ট্রেনটি রাতে যশোরের উদ্দেশ্যে ফিরলে ঢাকায় কাজ সেরে বাড়িতে আসতে পারবেন। বিগত বছরগুলোতে এ দাবিতে আন্দোলন করা হয়েছে। কিন্তু শুধু আশ্বাস মিলেছে। সম্প্রতি যশোর-৩ আসনের এমপি এবং বিদ্যুৎ, জ¦ালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতকেও স্মারকলিপি দিয়েছি। সর্বশেষ ২১ এপ্রিল জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছি।
এদিকে, গত ২৩ এপ্রিল দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরের সামনে ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ (নিসচা ও ‘জাতীয় তরুণ সংঘ’ যশোর জেলা শাখার যৌথ উদ্যোগে প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে দাবি উত্থাপন করে মানববন্ধন করা হয়েছে। মানববন্ধনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় তরুণ সংঘের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান আলহাজ মোহাম্মদ ফজলুল হক।
তিনি যশোর-বেনাপোল মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীতকরণ, যশোর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে রূপান্তর, যশোরকে পর্যটন নগরী ঘোষণা, বসুন্দিয়াকে ইপিজেড থানা ঘোষণা, আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেট স্টেডিয়াম নির্মাণ এবং একটি আধুনিক শিশু পার্ক স্থাপনের দাবি জানান।
‘নিরাপদ সড়ক চাই’ যশোর জেলা শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট আবু মুরাদ বলেন, ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ জেলা হওয়া সত্ত্বেও যশোর উন্নয়নে পিছিয়ে আছে। এসব দাবি বাস্তবায়িত হলে শুধু যশোর নয়, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্তত ২২টি জেলার মানুষ উপকৃত হবে।
যশোর সংবাদপত্র পরিষদের সভাপতি প্রবীণ সম্পাদক বীরমুক্তিযোদ্ধা একরাম-উদ-দ্দৌলা বলেন, যশোরের সবজি দিয়ে দেশের চাহিদার ৬০-৬৫ ভাগ চাহিদা পূরণ হয়। কিন্তু এখানকার কৃষি অবহেলিত। যশোরবাসী দীর্ঘদিন ধরে এখানে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি করে আসছেন। আমরা এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। এছাড়া যশোর পৌরসভাকে সিটি করপোরেশন ঘোষণা এবং বেনাপোল-যশোর-নড়াইল-ঢাকা রুটে পদ্মাসেতু দিয়ে নতুন একটা ট্রেন চলাচলের দাবি পূরণ হবে এমন প্রত্যাশা করছি।
যশোর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন বলেন, তারেক রহমান যশোরে নির্বাচনী জনসভায় এলে বিএনপির খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত তাকে যশোরের উন্নয়ন বঞ্চনা ও নাগরিকদের দাবির বিষয়ে অবহিত করেছিলেন। অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগেই তিনি যশোরের দাবি-দাওয়ার অধিকাংশ বিষয় অবহিত রয়েছেন। বর্তমানে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত নিশ্চয়ই সেগুলো স্মরণ করিয়ে দিবেন। অতীতের প্রধানমন্ত্রীর মতো লোকদেখানো প্রতিশ্রুতিতে বিশ্বাসী নয় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তবে আমরা আশা করছি, যশোরবাসীর প্রত্যাশা তিনি ধারণ করেন এবং ধারাবাহিকভাবে সেগুলো পূরণ করবেন।
সর্বশেষ
- ঝিকরগাছার অঘোষিত যুবরাজ ‘ভাবির দেবর’
- Wild io Login No Deposit Thrills Await
- Steady_growth_around_the-crash-casinos-ca_ca_for_extreme_wins
- Online Casinos ohne OASIS: Die Top-Bonusstrategien für 2026 im Überblick
- Spelplezier_van_eenvoudige_keuzes_naar_actie_via_baloo-bets-netherlands_nl
- Inside the Duel Casino game lobby: slots and live casino 2026
- An Honest Player Look at Vegasnows In Number 36 – 2026
- Fabulous_journeys_await_dodging_traffic_in_the_addictive_game_chickenroad_challe
