নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরের শার্শা উপজেলার উলাশী-যদুনাথপুর খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নারীর জীবনমান উন্নয়ন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার নানা পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) বেলা ১২টার দিকে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি জানান, মা-বোনদের রান্নার কাজে ভোগান্তি কমাতে সরকার এলপিজি (তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস) কার্ড চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের নারীদের কাছে সহজভাবে এলপিজি পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
তিনি বলেন, ফ্যামেলি কার্ডের মতোই এবার নারীদের জন্য পৃথক এলপিজি কার্ড বিতরণ করা হবে, যাতে রান্নার জ্বালানির সংকট ও কষ্ট অনেকটাই লাঘব হয়। শহর থেকে গ্রাম—সব জায়গার নারীরাই এ সুবিধার আওতায় আসবেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
খাল পুনঃখনন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রায় ৫০ বছর আগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এই খালটি খনন করেছিলেন। সেই ঐতিহ্য অনুসরণ করে বর্তমান সরকার চার কিলোমিটার দীর্ঘ উলাশী-যদুনাথপুর খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নিয়েছে। খালটি পুনরায় সচল হলে স্থানীয় এলাকায় পানি সরবরাহ সহজ হবে, কৃষি উৎপাদন বাড়বে এবং প্রায় ২০ হাজার কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন।
তিনি আরও জানান, এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ১৪০০ টন অতিরিক্ত খাদ্যশস্য উৎপাদনের সম্ভাবনা তৈরি হবে এবং প্রায় ৭২ হাজার মানুষ সরাসরি সুবিধা ভোগ করবে। খাল পুনঃখনন শেষ হলে এর দুই তীরে তিন হাজার বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনাও রয়েছে।
তারেক রহমান বলেন, উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল পুনঃখননের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে গ্রামীণ অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে এবং কৃষকের আয় বাড়বে।
নারী শিক্ষা ও ক্ষমতায়ন নিয়েও বক্তব্য দেন তিনি। তিনি বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। নারীদের শিক্ষা ও সুযোগ বৃদ্ধিতে পূর্ববর্তী সরকারগুলোর উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় বর্তমান পরিকল্পনায় আরও অগ্রগতি আনা হবে। নারীদের উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি প্রদানের পরিকল্পনাও রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বিদ্যুৎ, খনিজ ও জ্বালানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
স্থানীয়রা মনে করছেন, খাল পুনঃখনন ও এলপিজি কার্ড উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে যশোরসহ আশপাশের অঞ্চলের কৃষি ও জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
