কল্যাণ ডেস্ক
দীর্ঘদিন পর বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভারতীয় ট্যুরিস্ট ভিসা দেওয়ার প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে আবারও শুরু হয়েছে। রোববার থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ায় পশ্চিমবঙ্গের পেট্রাপোল স্থলবন্দর এলাকায় স্বস্তি ও আশাবাদের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। সীমান্ত বাণিজ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, মানুষের যাতায়াত স্বাভাবিক হলে আমদানি-রপ্তানির পাশাপাশি হোটেল, পরিবহন, মানি এক্সচেঞ্জসহ বিভিন্ন সেবাখাতেও নতুন গতি ফিরবে।
এশিয়ার অন্যতম ব্যস্ত স্থলবন্দর পেট্রাপোল দীর্ঘদিন ধরেই ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্যের প্রধান প্রবেশদ্বার হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। দুই দেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের প্রভাব সরাসরি পড়ে এই সীমান্তে। প্রায় দুই বছর ধরে পর্যটক ভিসা বন্ধ থাকায় সীমান্তকেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্যও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
পেট্রাপোল ক্লিয়ারিং এজেন্টস স্টাফ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক কার্তিক চক্রবর্তী বলেন, বাংলাদেশে ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই দুই দেশের ব্যবসায়ী মহলে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। তাঁর মতে, ট্যুরিস্ট ভিসা পুনরায় চালু হওয়ায় বাংলাদেশ থেকে ভারতে যাত্রী চলাচল বাড়বে এবং এর ইতিবাচক প্রভাব সীমান্ত বাণিজ্যেও পড়বে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে ভারতের নবনিযুক্ত হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী ঘোষণা দেন, ২৮ জুন থেকে বাংলাদেশিদের জন্য পুনরায় ট্যুরিস্ট ভিসা ইস্যু করা হবে। ঘোষণার পর থেকেই দুই দেশের ব্যবসায়ী মহলে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সরকার পরিবর্তনের পর ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের টানাপোড়েনের জেরে বাংলাদেশিদের জন্য পর্যটক ভিসা কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। এতে চিকিৎসা, শিক্ষা, কেনাকাটা ও ভ্রমণের উদ্দেশ্যে ভারতে যেতে ইচ্ছুক হাজারো মানুষ ভোগান্তিতে পড়েন।
বাণিজ্যিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে পেট্রাপোল সীমান্ত দিয়ে ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ১৮ হাজার কোটি টাকা। পরবর্তী বছরগুলোতে তা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রায় ৩০ হাজার ৫০০ কোটি টাকায় পৌঁছায়। ব্যবসায়ীদের ধারণা, ভিসা পরিষেবা স্বাভাবিক হওয়ায় আগামী দিনে এই বাণিজ্যের পরিমাণ আরও বাড়বে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী মহলের মতে, পেট্রাপোল শুধু পণ্য পরিবহনের কেন্দ্র নয়; এটি দুই বাংলার মানুষের যোগাযোগ ও সম্পর্কেরও অন্যতম সেতুবন্ধন। তাই ট্যুরিস্ট ভিসা পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত সীমান্ত অর্থনীতিকে চাঙা করার পাশাপাশি বাংলাদেশ ও ভারতের জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ আরও জোরদার করবে বলে তারা আশা করছেন।
