ঢাকা অফিস
নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও দ্রব্যমূল্যের চাপ থেকে স্বস্তি দিতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাজধানীর বনানী টিঅ্যান্ডটি মাঠে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন এবং কয়েকজন সুবিধাভোগীর হাতে কার্ড তুলে দেওয়ার মাধ্যমে দেশব্যাপী কার্যক্রমের সূচনা করেন।
প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে দেশের ৪ কোটি পরিবারের নারী প্রধানদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেওয়া হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে পাইলট প্রকল্পের আওতায় দেশের ১৪টি উপজেলায় ৩৭ হাজার নারী এই কার্ডের সুবিধা পাচ্ছেন। এর মধ্যে রাজধানীর কড়াইল, ভাষানটেক ও সাততলা এলাকায় প্রায় ১৫ হাজার নারীকে প্রথম ধাপে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে।
তিনি বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। তাদের শিক্ষা ও অর্থনৈতিকভাবে ক্ষমতায়ন ছাড়া দেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। শিক্ষিত নারী সমাজকে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করতে সরকার এই কর্মসূচি চালু করেছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে একটি জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং সরকার গঠনের এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যেই জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু করা হয়েছে। আগামী মাসের মধ্যে কৃষকদের জন্যও ‘কৃষক কার্ড’ চালু করা হবে বলে তিনি জানান।
কৃষকদের বিষয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করার সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যে বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
সরকার প্রধান বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি তার ও দলের জন্য একটি ঐতিহাসিক ও আবেগঘন দিন। দীর্ঘদিনের পরিকল্পনার বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানকে ঘিরে সকাল থেকেই বনানী টিঅ্যান্ডটি মাঠে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। বিশেষ করে কড়াইল বস্তি ও আশপাশের এলাকার হাজারো মানুষ ভোর থেকেই মাঠে জড়ো হন। খণ্ড খণ্ড মিছিল ও সারিবদ্ধভাবে নারী-পুরুষ মাঠে প্রবেশ করতে দেখা যায় এবং বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জনসমাগম জনসমুদ্রে রূপ নেয়।
মাঠের চারপাশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা লক্ষ্য করা গেছে।
অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আসা কড়াইল বস্তির বাসিন্দা আমেনা খাতুন বলেন, “আমরা দিন আনি দিন খাই। বাজারে সব কিছুর যে দাম, তাতে সংসার চালানো খুব কষ্ট। শুনছি এই কার্ডে কম দামে রেশন পাওয়া যাবে। প্রধানমন্ত্রী আমাদের কথা রেখেছেন, তাই সকালেই মাঠে এসেছি।”
জানা গেছে, বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রুতি ছিল ‘ফ্যামিলি কার্ড’। এই কার্ডের মাধ্যমে নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো ভর্তুকি মূল্যে চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা ও শিক্ষা সহায়তা পাবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ড. এ জেড এম জাহিদ। এছাড়া সরকারের মন্ত্রিসভার একাধিক সিনিয়র সদস্য, বিএনপির কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগরীর শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বর্তমান সরকারের অন্যতম বড় সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
