নিজস্ব প্রতিবেদক: জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস-২০২২ উদ্যাপন উপলক্ষে যশোরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার জেলা সরকারি গণগ্রন্থাগারে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সকালে গ্রন্থাগার চত্বরে ফেস্টুন-বেলুন উড়িয়ে দিবসের উদ্বোধন করা হয়। পরে দিবসটি উদ্যাপন উপলক্ষে কেক কাটা হয়। ‘সুবর্ণজয়ন্তীর অঙ্গীকার, ডিজিটাল গ্রন্থাগার’-প্রতিপাদ্য নিয়ে এবছর দিবসটি পালন হয়।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক হুসাইন শওকত বলেন, বই অতীত বর্তমান ও ভবিষ্যতের জ্ঞানের ধারাকে সুসংহত ও সঙ্গতিপূর্ণ করে। আর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা মানুষকে বিষয় বিশেষজ্ঞ করে। আলোকচ্ছটা যেমন অন্ধকার ঘরকে আলোতে পরিপূর্ণ করে; তেমন মুক্তজ্ঞানের আলো মানবিক উন্নয়ন ঘটায়, বড় মানুষে পরিণত করে। যার কারণে জ্ঞান অর্জণ জরুরি।
তিনি বলেন, একজন পরিপূর্ণ মানুষের বিশেষ গুণ হলো জ্ঞান অর্জনের জন্য পড়ালেখা ও জীবনে তার প্রয়োগ করা। এই কাজটির জন্য গ্রন্থাগার ও বই উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে। হাসপাতালের চেয়েও গ্রন্থাগারের ভূমিকা কোনো অংশে কম নয়। জীবনের সর্বত্র বইয়ের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে নতুন প্রজন্মকে বইপড়ার প্রতি আগ্রহী করতে হবে। বই পড়লে নিজস্ব জগৎ তৈরি হয়। বইপড়ুয়া মানুষ কখনো নিঃসঙ্গতায় ভোগে না।
আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও যশোর সরকারি মাইকেল মধুসূদন কলেজের সাবেক শিক্ষক অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড যশোরের সাবেক চেয়ারম্যান প্রফেসর আমিরুল আলম খান। সভাপতিত্ব করেন জেলা সরকারি গণগ্রন্থাগারের সহকারী লাইব্রেরিয়ান মমতাজ খাতুন। আলোচনা পর্বে বক্তা ছিলেন, শিক্ষা ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ওয়াহিদুজ্জামান।
আলোচনা শেষে রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়েছে। বিজয় দিবস উপলক্ষে গত বছর এই রচনা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছিলো। রচনা প্রতিযোগিতায় ‘ক’ গ্রুপে চৌগাছার ধূলিয়ানী সম্মিলনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাদিয়া আফরিন মেহেবুবা প্রথম, যশোর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইশরাত বিনতে জামান দ্বিতীয় ও যশোর জিলা স্কুলের শিক্ষার্থী আজওয়াদ রাইয়ান তৃতীয় হয়েছে। ‘খ’ গ্রুপে যশোর এম এম কলেজের শিক্ষার্থী ঋতু দত্ত প্রথম, দাউদ পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী জেনিফা গাজী অর্ণালী দ্বিতীয় ও কুয়াদা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সুরাইয়া খাতুন তৃতীয় হয়েছে। ‘গ’ গ্রুপে যশোর এম এম কলেজের শিক্ষার্থী আফসানা রহমান প্রথম, যশোর এম এম কলেজের শিক্ষার্থী প্রীতি রানী ঘোষ দ্বিতীয় ও যশোর সরকারি সিটি কলেজের শিক্ষার্থী ইমরান হোসেন তৃতীয় হয়েছে। ‘ঘ’ গ্রুপে যশোর শহরের ষষ্ঠীতলাপাড়ার মুমু দত্ত প্রথম, বেজপাড়ার সজল কুমার সাহা দ্বিতীয় ও নলডাঙ্গার রোডের আসরাফিল হোসেন তৃতীয় হয়েছেন। ‘ঙ’ গ্রুপে যশোর সদর উপজেলার ফতেপুর গ্রামের তাপস কুমার দে বিজয়ী হয়েছেন।