কল্যাণ ডেস্ক
ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্কে ‘সোনালি অধ্যায়’-এর শুরু তারই হাতে! স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তেমনই মনে করেন। সেই ভরসার মানুষটির কাঁধেই এ বার নতুন দায়িত্ব দিয়েছে বিজেপি সরকার।
নয়াদিল্লিতে শুরু হয়েছে জি২০ শীর্ষ সম্মেলনে। সেই সম্মেলনের খুঁটিনাটি দেখাশোনার দায়িত্ব যার কাঁধে দিয়ে নিশ্চিন্তে রয়েছে কেন্দ্র, তিনিই হলেন এই মানুষটি।
পেশায় দেশের ফরেন সার্ভিস অফিসার। তবে বছরখানেক হলো অবসর নিয়েছেন। কিন্তু এত মানুষ থাকতে হঠাৎ তার উপরেই ভরসা কেন? একসময় বাংলাদেশে ভারতের হাই কমিশনারের দায়িত্ব সামলেছেন। রেকর্ড বলছে, দু’দেশের সীমানা নিয়ে দীর্ঘ দিনের যে সমস্যা, তা মিটেছিল তার চেষ্টাতেই।
ভারত-বাংলাদেশের মাঝের ছিটমহল নিয়ে জটিলতা ছিল দীর্ঘ দিন ধরে। সীমারেখার অবস্থানের জন্য ওই এলাকার বাসিন্দাদের নিয়ে সমস্যায় পড়ত দু’দেশই। কোনও বাড়ির সদর দরজা বাংলাদেশে তো ঘর ভারতে। আবার কোনও বাড়ির উঠোন ভারতে হলেও রান্নাঘর বাংলাদেশে। এই জটিলতা সামলে দু’দেশের সীমান্ত সমস্যার মিটিয়েছিলেন এই আইএফএস কর্তা।
নাম হর্ষবর্ধন শ্রিংলা। জন্মসূত্রে সিকিমের মানুষ তিনি। তবে জন্ম এবং বেড়ে ওঠা মুম্বইয়ে। বাবা হিন্দু, মা বৌদ্ধ। দার্জিলিং নিবাসী এই সিকিমি সন্তানের নাম রাখা হয়েছিল হর্ষবর্ধন শেরিং লা। খটোমটো ঠেকায় মুম্বইয়ের স্কুল সেই পদবি পাল্টে করে দেয় শ্রিংলা! বহু দিন বাংলাদেশে থাকায় ঝরঝরে বাংলায় কথা বলতে পারেন তিনি।
২০১৬ থেকে ২০১৯ বাংলাদেশে ভারতের হাই কমিশনারের দায়িত্ব সামলেছেন হর্ষবর্ধন। সেই সময় ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে অনেক লেখালিখিও করেছেন তিনি।
তার আমলেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দেখা করতে দিল্লি এসেছিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেটা ২০১৭ সালের এপ্রিল মাস। সেই সফরকেই ভারত-বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ‘সোনালি অধ্যায়’ বলে মন্তব্য করেছিলেন মোদি। সমাধান হয়েছিল দু’দেশের একাধিক দ্বিপাক্ষিক সমস্যার।
হর্ষবর্ধন নিজে বসেছিলেন ভারত-বাংলাদেশের সীমারেখা নিরূপণকারী কমিটির মাথায়। সেই সাফল্যের পর নিশ্চিত ভাবেই হর্ষবর্ধনের উপর ভরসা বেড়েছিল মোদি সরকারের। বাংলাদেশের পর তাকে আরও বড় দায়িত্ব দিয়ে পাঠানো হয় আমেরিকায়।
২০২০-র জানুয়ারি মাসে আমেরিকা থেকে ফিরিয়ে আনা হয় হর্ষবর্ধনকে। সম্প্রতি সিকিমের আইসিএফএআই বিশ্ববিদ্যালয়ে সাম্মানিক ডক্টরেট নিতে গিয়ে যে বক্তৃতা দেন শ্রিংলা, তার অনেকটাই নেপালিতে। বলেন, ‘আমার ভাষা নেপালি, যা সিকিমেরও একটি ভাষা।’
মোদি সরকার বড় পুরস্কার প্রস্তুত রেখেছিল হর্ষবর্ধনের জন্য। দেশে ফেরার ১৮ দিনের মাথায় হর্ষবর্ধনকে দেশের বিদেশ সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়। যে কাজ দীর্ঘ দিন সামলেছেন দেশের বর্তমান বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তখন অবশ্য ভারতের বিদেশমন্ত্রী ছিলেন সুষমা স্বরাজ।
নতুন দায়িত্ব পেয়ে হর্ষবর্ধন বলেছিলেন, মর্যাদার সঙ্গে সঙ্গে দায়িত্বও বাড়ল। তবে সেই দায়িত্ব পালনে যে তিনি যোগ্য, সে ব্যাপারে সন্দেহ ছিল না ঊর্ধ্বতনদের।
গত বছর এপ্রিলে অবসর গ্রহণ করেন হর্ষবর্ধন। এখন তিনি ৬১। তবে তিনি অবসর নিলেই বা কী! বড় কাজের জন্য মোদি সরকার এখনও তার ওপর নির্ভরশীল। তাই জি২০ শীর্ষ সম্মেলনের মতো আয়োজনে তার ওপরই ভরসা করেছে কেন্দ্র।
শ্রিংলা ইংরেজি এবং বাংলা-সহ একাধিক ভারতীয় ভাষা বাদে ফরাসি, ভিয়েতনামি এবং নেপালি ভাষায় কথা বলতে পারেন। তার স্ত্রীর নাম হেমাল শ্রিংলা। তাদের এক পুত্রসন্তান রয়েছেন।
দিল্লিতে ৯ এবং ১০ সেপ্টেম্বর হর্ষবর্ধনের কড়া নজরদারিতে বসল বিদেশ থেকে আসা রাষ্ট্রনেতা এবং অতিথিদের সমাবেশ। মোদি সরকারের বিশ্বাস, বাংলাদেশ আর আমেরিকার মতোই এই পরীক্ষাতেও ১০০-এ ১০০ পাবেন, পাবেন হর্ষবর্ধন।
সূত্র : আনন্দবাজার
