ফ্রান্স ৪ : অস্ট্রেলিয়া ১
(জিরুদ-২,রাবিও,এমবাপে) (গুডউইন)
ক্রীড়া ডেস্ক :
দলের সেরা তারকা ফিফা ব্যালন ডি অর জয়ী করিম বেনজামা ইনজুরিতে ছিটকে পড়েছেন বিশ্বকাপ শুরুর আগের দিন। এমবাপেও পুরোপুরি ফিট হয়ে উঠতে পারেননি। তারপরও কপালে চিন্তার ভাঁজ ছিল না দিদিয়ের দেশমের।
গ্রিজম্যান, জিরুদ আছেন, এমবাপে নিজেকে ফিরে পেলে বিপজ্জনক হতে পারে-সে বিশ্বাস ছিল। নিজের গতিময় ফুটবল টেকনিকের উপর আস্থা তো ছিলই খেলোয়াড় এবং কোচ হিসেবে ফ্রান্সের দু’বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলের এই গর্বিত প্রতিনিধির। সে আস্থার প্রতিদান পেয়েছেন।
অস্ট্রেলিয়াকে ৪-১ গোলে গুড়িয়ে দিয়ে ডিফেন্ডিং বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স এবারের বিশ্বকাপ শুরু করেছে ফেভারিটের মতোই।
আল ওয়াকরার আল জানোব স্টেডিয়ামে মঙ্গলবারে ‘ডি’ গ্রুপের ম্যাচে ৪-২-৩-১ ফরমেশনে খেলা গুছিয়ে নিতে কিছুটা সময় লেগেছে ফ্রান্সের। এই সুযোগে এগিয়ে গেছে অস্ট্রেলিয়া। পরিকল্পিত আক্রমণে এগিয়ে যায় নবম মিনিটে। ডান প্রান্ত থেকে ম্যাথু লেকির ক্রস থেকে ফ্রান্স ডিফেন্ডারদের বোকা বানিয়ে গোল করেন ক্রেইড গুডউইন (১-০)।এবারের বিশ্বকাপে এটাই সবচেয়ে দ্রুততম গোল। এই গোল খেয়েই তেঁতে ওঠে ফ্রান্স। মুহুর্মুহু আক্রমণে অজি রক্ষণভাগে ঝড় তুলেন এমবাপ্পে, গ্রিজম্যান, দেম্বেলেরা। তার সুফল পেয়ে সমতায় ফেরে ফ্রান্স খেলার ২৭তম মিনিটে।ডি বক্সে থিও এরনঁদেজের ক্রস থেকে নিপুন হেডে সমতা এনেছেন মিডফিল্ডার রাবিও (১-১)।
৩২ মিনিটের মাথায় এগিয়ে যায় ফ্রান্স অস্ট্রেলিয়া ডিফেন্ডারদের ভুলে। অস্ট্রেলিয়া গোলরক্ষক রায়ান সতীর্থকে দিয়েছিলেন পাস। তার পা থেকে বল কেড়ে নেন রাবিও, তারপর দিয়েছিলেন ডি বক্সের উপরে থাকা এমবাপেকে। এমবাপে ছোট্ট ব্যাকহিল পাস দেন জিরুদকে। ফাঁকায় দাঁড়ানো জিরুদ দলের পক্ষে করেন দ্বিতীয় গোল (২-১)। ফ্রান্সের হয়ে এটি তার অর্ধশততম গোল।
আগামী ১৮ ডিসেম্বর ২৪ বছর পূর্ণ হবে এমবাপের। তার আগে বিশ্বকাপে নিজের ৫ম গোল করেছেন রাশিয়া বিশ্বকাপে ফ্রান্সের সেরা আবিস্কার এমবাপে। ২৩ বছর বয়সে বিশ্ব সেরার মঞ্চে তার গোল হলো ৫টি। ২৪ পূরণের আগে বিশ্বকাপে তার চেয়ে বেশি গোল করার কৃতিত্ব আছে কেবল পেলে (৭), মারিও কেম্পেস (৬) ও হামেস রদ্রিগেসের (৬)।
খেলার ৬৮তম মিনিটে বাঁ প্রান্ত থেকে এমবাপের নেয়া কোনাকুনি শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে ফিরতি বলে দেম্বেলে ক্রস বাড়ান ছোট ডি বক্সে। প্রতিপক্ষের দুই ডিফেন্ডারের মার্কিংয়ের মধ্যেও স্পট জাম্পে দারুণ হেডে গোল করেছেন পিএসজি তারকা এমবাপে (৩-১)। খেলার ৭১তম মিনিটে দলের পক্ষে ৪র্থ এবং নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন জিরুদ। এমবাপে বাঁ প্রান্ত দিয়ে দ্রুতগতিতে বিপজ্জনকভাবে ঢুকে দিয়েছেন জিরুদকে ক্রস। সেই মাপা ক্রস থেকে হেডে গোল করে (৪-১) ফ্রান্সের সর্বোচ্চ গোলদাতা থিয়েরি অঁরিকে ছুঁয়েছেন জিরুদ (৫১তম গোল)।
ফ্রান্স সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারলে জিততে পারতো আরো বড় ব্যবধানে। খেলার ৩৯তম মিনিটে বাঁ দিক থেকে এমবাপের পাস পেনাল্টি স্পটের কাছে ফাঁকায় দাঁড়ানো উসমান দেম্বেলে ফাঁকা পোষ্ট পেয়েও মেরেছেন বাইরে। কিছুক্ষন পর গোলরক্ষককে একা পেয়ে গোলপোস্টের উপর দিয়ে মেরেছেন এমবাপে।