নিজস্ব প্রতিবেদক
কেউ চাল-ডাল-তেল প্যাকেট করছেন। কেউ সেই প্যাকেটে দিচ্ছেন প্যারাসিটামল ওষুধ, খাওয়ার স্যালাইন-মোমবাতিসহ শুকনো খাবার। আবার কেউ সেই প্যাকেট বেঁধে সযত্নে রাখছেন। এর পাশেই কয়েকজন পোষাকের তালিকা ও প্যাকেট করে লিখে রাখছেন।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় যশোর শহরের আরএন রোড ব্যবসায়ীদের এমন কর্মযজ্ঞ দেখে বোঝাই যাচ্ছিল বন্যার্তদের সহযোগিতায় হাত বাড়িয়েছেন তারা। দ্রুতই তারা এসব খাদ্য সামগ্রী ও বিভিন্ন উপকরণ পৌছে দিবেন।
নতুন বাজার মাঠে স্থাপন করা এ বুথে প্রস্তুত করা হচ্ছে ফেনীসহ উত্তরের ১৪ জেলা বন্যা প্লাবিত মানুষদের জরুরি সহায়তা। বৃহস্পতিবার রাতে তিনজন এমবিবিএস ডাক্তার, দুইজন ডাক্তারের সহযোগিসহ ত্রাণের গাড়ি রওনা দেবে।
ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ জানান, বর্তমান দেশের বন্যা কবলিত বিভিন্ন জেলার মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছেন। মানুষ হিসেবে তাদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। আমরা আরএন রোড ব্যবসায়ীরা দেশের এ সংকটময় মুহূর্তে বানভাসী অসহায় মানুষদের সাহায্যের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। সেই জন্য আরএন রোড নতুন বাজারে একটি অস্থায়ী অনুদান কেন্দ্র স্থাপন করেছি। আমাদের অনুরোধ আশেপাশের মানুষও এসে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন।
আরএন রোড ব্যবসায়ীবৃন্দ মনে প্রাণে বিশ্বাস করে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দেশের এ সংকটময় পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠা সম্ভব। নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, প্রাথমিক ভাবে আমরা দুই হাজার পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছি। ইতোমধ্যে আমাদের প্যাকেট প্রস্তুতির কাজ শুরু করেছি। এক প্যাকেটে ৫৬০ টাকার মূল্যের বিভিন্ন সামগ্রী থাকবে। এর মধ্যে ৩ কেজি চাউল, এক কেজি আলু, ৫০০ গ্রাম পেঁয়াজ, সয়াবিন তেল, মসুর ডাল, লবন, ৫ প্যাকেট খাওয়ার স্যালাইন, ৩০০ গ্রামের টোস্ট বিস্কুটের প্যাকেট, দুই লিটার ফ্রে পানি, গ্যাস লাইট, মোমবাতি। এছাড়া প্যাকেটের বাইরে শুকনো খাবার হিসেবে চিড়া, মুড়ি, গুড় ও জরুরি ব্যবহারের জন্য কাপড় দেয়া হবে।
