শাহারুল ইসলাম ফারদিন
মানুষ মানুষের জন্য/জীবন জীবনের জন্য/একটু সহানুভূতি কি/ মানুষ পেতে পারে না, ও বন্ধু। যশোর শহরজুড়ে এখন শোনা যাচ্ছে এই মানবতার গান। দেশের বন্যার্তদের সহায়তায় এই গান বাজিয়ে ত্রাণ ও অর্থ সংগ্রহ করা হচ্ছে। জেলার বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানকে পথে নেমে এমন প্রশংসনীয় উদ্যোগ নিতে দেখা গেছে। দুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে ত্রাণ ও অর্থ সংগ্রহ করছে জেলা বিএনপি এবং জেলা ইমাম পরিষদও। সরকারিভাবে জেলা প্রশাসনও ত্রাণ ও অর্থ সংগ্রহ করছে। শনিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ৪৫ জন স্বেচ্ছাসেবী সদস্যকে নিয়ে দুইটন চিড়া, পাঁচশ কেজি আখের গুড় এবং দুই হাজার লিটার বিশুদ্ধ পানি প্যাকেজিং করা হয়। শুকনা খাবার প্যাকেজিং কাজে বিডি ক্লিন যশোর এবং সেক্রেড হার্ট স্কুল এর স্কাউট সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন। প্রতি প্যাকেটে দুই কেজি চিড়া, পাঁচ’শ গ্রাম আখের গুড় এবং দুই লিটার বিশুদ্ধ পানি দেওয়া হয়। মোট এক হাজার খাবারের প্যাকেট করা হয় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে। এই সময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক রফিকুল হাসান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এসএম শাহীন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) খালেদা খাতুন রেখা, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল আহাদ। উপস্থিত ছিলেন, জেলা ত্রাণ ও পূনর্বাসন কর্মকতা মুহাম্মদ রিজিবুল ইসলাম।
বন্যার্তদের জন্য গতকাল শহরের এইচএমএম আলী রোডে সাংস্কৃতিককর্মীদের অর্থ সংগ্রহ করতে দেখা যায়। হারুণ-অর-রশিদ ও সানোয়ার আলম খান দুলুসহ এক ঝাঁক সাংস্কৃতিককর্মী প্রতিটি দোকানে গিয়ে ত্রাণের বক্স ধরছেন। তাদের এমন আহ্বানে সামর্থ অনুযায়ী সাড়া দিচ্ছেন।
এছাড়া বন্যার্তদের জন্য শিক্ষার্থী, শিক্ষক, আইনজীবী, সাংবাদিক, চিকিৎসকসহ বিভিন্ন সংগঠন ত্রাণ সংগ্রহ শুরু করেছে। শনিবার সকালে বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানারে ছোট ছোট বক্স হাতে নিয়ে নগদ অর্থ ও ত্রাণ সামগ্রী সংগ্রহ করতে দেখা গেছে। এছাড়াও মোড়ে মোড়ে বুথ বসিয়ে সংগ্রহ করতে দেখা গেছে। টাউনহল মাঠে, প্রেসক্লাবের সামনে, দড়াটানা মোড়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় একাধিক বুথ বসিয়ে ত্রাণ সংগ্রহ করেছেন তারা। এসব কার্যক্রম পরিচালনা করছে, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যায় (যবিপ্রবি), এমএম কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। এছাড়াও যশোর জেলা ইমাম পরিষদ, শংকরপুর মানবিক যুব সংগঠন, চৌগাছা পরিবার স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, যশোর কমিউনিটি, আইডিয়া সমাজকল্যাণ সংস্থা, ঐক্য-বন্ধন, রাঙা প্রভাত, অপটিলক্স বিডি, জান্নাত ফাউন্ডেশন, সামাজিক সচেতন সংস্থাসহ (সাসস) বিভিন্ন সংগঠন পানিবন্দী মানুষের জন্য অর্থ সংগ্রহ করছে। কেউ কেউ ছোট ছোট বাক্স নিয়ে ঘুরে ঘুরে অর্থ সংগ্রহ করছেন। কেউ বুথ বসিয়ে সংগ্রহ করছেন ত্রাণ ও নগদ অর্থ বিভিন্ন সংগঠন ও শিক্ষার্থীদের উদ্যোগেও চলছে অর্থ সংগ্রহ। সবারই লক্ষ্য, বন্যার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো। এদিকে সাধারণ মানুষ স্ব-উদ্যোগে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষ তাদের এই উদ্যোগের সঙ্গে শামিল হন এবং অনেকেই নিজেদের বাড়ির কাপড় চোপড় পৌছে দিচ্ছেন ত্রাণের গাড়ির কাছে। দিচ্ছেন নগদ টাকা। এসময় বিডি ক্লিন যশোরের ইব্রাহিম, তোসাদ্দেক হোসেন, শাওন মিত্র, বাপ্পী, সজীব, রিফাতসহ আরো অনেকেই এবং স্কাউট দলে তানভীরুল ইসলাম, জুবায়েরসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে, ত্রাণ সংগ্রহের বিষয়ে বিভিন্ন অসংগতি তুলে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিতে দেখা গেছে। হাসিবুল ইসলাম শান্ত নামে একজন ফেসবুকে পোস্ট করেন, নিজের ডোনেট/হেল্প করতে মনচাইছে ডোনেশন দিয়ে দেন, বা ত্রাণ পাঠিয়ে দেন। অডিয়েন্স আছে ঘরে বসেই টাকা ফান্ডিং করে দেন। আপনার কেন যাওয়া লাগবে? মানে নিজেই চলতে পারে না একটা লোক, যার চলাচল অন্যের উপর, সে গেছে বন্যার পানির স্রোতে, মানে ভাই ওখানে কি পিকনিক চলে, ওটা ট্যুরিস্ট স্পট, যে মন চাইলো আর ট্যুর দিতে চলে গেলেন। গেছেন তো দুইটা ছবি আর ৪ টা ভিডিও বানানোর লোভে, লোক দেখানো ঝামেলা সৃষ্টি করতে। দান করবেন ১টাকা ভিডিও বানাইয়া কামাইবেন ৪ টাকা।
রাজিয়া সুলতানা নামে একজন বলেন, ফেসবুকে দেখলাম একটি সংগঠন ১৪ হাজার টাকা সংগ্রহ করেছে। তারা অনুদানের টাকা নিয়ে পিকনিকে যাচ্ছে মনে হচ্ছে। তাদের যশোর থেকে যদি সংগঠনের ৮ থেকে ১০ জন সদস্য ফেনী বা নোয়াখালীতে যেতে অন্তত গাড়ি ভাড়া করতে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা খরচ হবে। তাদের হাত খরচ আরো ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা। তাহলে সব মিলে অনেক টাকা ফালতু খরচ (অপচয়) হয়ে যাবে। নিজেরা গিয়ে যে টাকা অপচয় করবেন তা দিয়ে আরও কয়েকশত পরিবারকে সাহায্য করতে পারবেন। ফেসবুকে অনেকেই দেখছি ফেনীতে যাচ্ছেন, তার পোস্ট দিচ্ছেন। মিনিমাম ৮ থেকে ১০ লক্ষ টাকার উপর বাজেট না থাকলে বন্যা কবলিত এলাকায় গিয়ে জ্যাম বাধানোর কি দরকার ভাই। যদি মন থেকে কেউ দান করতে চান এবং বাজেট কম থাকে তাহলে বিভিন্ন গ্রহণযোগ্য আছে এমন ফাউন্ডেশনে দান করুন। তিনি আরো বলেন, দান করা উচিত সওয়াব এর আশায় লোক দেখানো উদ্দেশ্য নিয়ে নয়। বর্তমানে সওয়াব এর আশায় না নিজেকে নিজের প্রতিষ্ঠানকে লোক দেখানো দান করা ছবি ফেসবুকে পোস্ট করা টাই মূখ্য বিষয় হয়ে গেছে। এই খারাপ পরিস্থিতিতে দয়া করে একটু ভেবে দেখুন আমাদের কি করা উচিত ।
