রায়হান সিদ্দিক
হাতে রং বেরঙের বেলুন, দলীয় পতাকা, ছাত্র জনতার কন্ঠে স্লোগানে মুখরিত যশোর শহর। বিশাল আনন্দ শোভাযাত্রার সামনে লাল সবুজের পতাকা নিয়ে তরুণ ছাত্র নেতাদের আনন্দ উল্লাস।
গতকাল ছাত্রলীগের ৭৪ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে যশোর শহরের দড়াটানা, চৌরাস্তা, চারখাম্বার মোড়, মুজিব সড়কের চিত্র ছিল এমনি। এদিন নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়েছে ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী।
শিক্ষা-শান্তি-প্রগতির স্লোগানকে ধারণ করে জন্মের প্রথম লগ্ন থেকেই ভাষার অধিকার, শিক্ষার অধিকার, বাঙালির স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠা, দুঃশাসনের বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থান, সর্বোপরি স্বাধীনতা ও স্বাধীকার আন্দোলনের ছয় দশকের সবচেয়ে সফল সাহসী সারথি বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠা করেন। উপমহাদেশের সর্ববৃহৎ ও প্রাচীন ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের গৌরব, ঐতিহ্য, সংগ্রাম ও সাফল্যের ৭৪ তম বার্ষিকী উপলক্ষে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসাবে যশোরে বর্ণাঢ্য আয়োজন করে জেলা ছাত্রলীগ।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ৪ জানুয়ারি সকাল ৭টায় জেলা ছাত্রলীগের কার্যলয়ে দলীয় পতাকা ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন সংগঠনটির জেলা সভাপতি সালাউদ্দিন কবির পিয়াস ও সাধারণ সম্পাদক তানজীব নওশাদ পল্লব। সকাল সাড়ে ৯টায় শহরের বকুলতলায় অবস্থিত বঙ্গবন্ধু মুর্যালে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পন করেন। এরপর বেলা ১২টায় জেলা ছাত্রলীগ সহ সকল ইউনিটের নেতৃবৃন্দ শহরে আনন্দ শোভাযাত্রা শেষে জেলা ছাত্রলীগের কার্যলয়ে কেক কেটে ৭৪ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করেন।
এ সময় জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সালাউদ্দিন কবির পিয়াস বলেন, ছাত্রলীগের গৌরবময় ঐতিহ্য রয়েছে। বাংলাদেশের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও সংগ্রামে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ বলিষ্ঠভাবে নেতৃত্ব দিয়েছে। তাই কোনভাবেই ছাত্রলীগকে কলঙ্কিত করা যাবে না। যশোর জেলা ছাত্রলীগ সর্বদা সততা ও ন্যায়ের পক্ষে ।
এ সময় উপস্থিত ছাত্রনেতাদের উদ্দোশ্যে তিনি বলেন, ছাত্রলীগের ৩টি মূলনিতি রয়েছে আপনারা এই নিতি বহির্ভূত কোন কাজ করবেন না। প্রত্যেকেই নিজ নিজ জায়গা থেকে সংগঠনকে ভালোবেসে সংগঠনের জন্য কাজ করে যাবেন।
জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তানজীব নওশাদ পল্লব বলেন, বিভিন্ন সময় যশোর জেলা ছাত্রলীগকে কলঙ্কিত করবার জন্য একটি কুচক্রিমহল চেষ্টা চালিয়েছে কিন্তু তারা সফল হয়নি কারন যশোর জেলা ছাত্রলীগের প্রতিটি কর্মি তার হৃদয়ে বঙ্গবন্ধুর আদর্শেকে ধারণ করে।
এ সময় উপস্থিত ছাত্রনেতাদের উদ্দোশ্যে তিনি বলেন, আজকের এই শুভ দিনে আমাদের প্রতিজ্ঞা করতে হবে ছাত্রলীগের গৌরবময় ঐতিহ্যকে আমরা কখনো কলঙ্কিত হতে দেবো না। বাংলাদেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে আমরা সর্বদা কাজ করে যাবো।
বাংলাদেশ ছাত্রলীগ তার দীর্ঘ রাজনৈতিক পরিক্রমায় ৫২’র ভাষা আন্দোলন, ৫৪’র প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের বিজয়, ৫৮’র আইয়ুববিরোধী আন্দোলন, ৬২’র শিক্ষা আন্দোলন, ৬৬’র ৬ দফার পক্ষে গণঅংশগ্রহণের মাধ্যমে মুক্তির সনদ প্রতিষ্ঠা করে। এরপর ৬৯’র গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুকে কারাগার থেকে মুক্ত করে আনা, ৭০’র নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ জয়লাভ এবং ৭১’র মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে পরাধীন বাংলায় লাল সবুজের পতাকার বিজয় ছিনিয়ে আনতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে।
ঐতিহ্যবাহী ছাত্রসংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৭৪ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসাবে যশোরে আগামী ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে।
৫ জানুয়ারি গণভবন থেকে সরাসরি ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত থাকবেন আওয়ামী লীগের দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ সম্প্রচার হবে জেলা আওয়ামিলীগের কার্যলয়ে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে।
৬ জানুয়ারি দুস্থদের মাঝে খাদ্য বিতরণ, ৭ জানুয়ারি দুস্থদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বৃক্ষ রোপন, ৮ জানুয়ারি ছাত্রলীগের আলোচনা সভা।