নিজস্ব প্রতিবেদক :
হাতে ৯ উইকেট নিয়ে জয়ের জন্য শেষদিন বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলকে করতে হত ৩৫১ রান। শেষ পর্যন্ত এই কঠিন কাজ করা সম্ভব হয়নি, তবে শাহরিয়ার সাকিবের সেঞ্চুরির সাথে জিসান আলম ও শিহাব জেমসের জোড়া ফিফটিতে দারুণ ব্যাটিং প্রদর্শনী দেখা গেছে। আর তাতে হারের শঙ্কা এড়িয়ে পাকিস্তান অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বিপক্ষে একমাত্র চারদিনের ম্যাচ ড্র করলো জুনিয়র টাইগাররা।
৪১১ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশ তোলে ৬ উইকেটে ৩৫৭ রান। শাহরিয়ার সাকিব ১৩৪ রানের ইনিংস খেলেন। সেঞ্চুরি পেতে পারতেন জিসানও, আউট হন ৮১ রানে। তবে ৮৫ রানে অপরাজিত ছিলেন শিহাব জেমস।
১ উইকেটে ৬০ রান নিয়ে তৃতীয় দিন শেষ করেছিল বাংলাদেশ। ১৯ রানে সোহাগ আলি ও ২৯ রানে অপরাজিত ছিলেন শাহরিয়ার সাকিব। রোববার আর কোনো রান যোগ করতে পারেননি সোহাগ, ফিরেছেন ঐ ১৯ রান নিয়েই। দিনের এমন শুরুকে বেশিক্ষণ নিজেদের বিপরীতে যেতে দেননি তৃতীয় উইকেট জুটিতে সাকিব ও জিসান ১৬৬ রান তুলে। জিসান ফেরেন সেঞ্চুরির কাছে গিয়ে, ৯৭ বলে ৯ চার ৩ ছক্কায় তার নামের পাশে ৮১।
তবে তার আগেই তিন অঙ্কের দেখা ঠিকই পেয়েছেন সাকিব। অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমে শেষ পর্যন্ত ২০২ বলে ২১ চারে সাজান ১৩৪ রানের ইনিংসটি সাকিব। দুজনে আউট হন ৩ রানের ব্যবধানে। এরপর বাংলাদেশ হারায় আরও ২ উইকেট, তবে এক পাশ আগলে রেখে দলকে বিপর্যয়ে পড়তে দেয়নি শিহাব জেমস। ১৩০ বলে ১১ চার ও ১ ছক্কায় অপরাজিত ছিলেন ৮৫ রানে, তাকে সঙ্গ দেওয়া মাহফুজুর রহমান রাব্বি ৪৮ বলে অপরাজিত ৮ রানে।
জয় থেকে ৫৪ রানে থাকতে দিনের খেলা শেষ হলে ড্রয়ে সমাধান হয় ম্যাচ। পাকিস্তানের হয়ে দুইটি করে উইকেট নেন মোহাম্মদ ইবতিসাম ও মোহাম্মদ ইসমাইল।
এর আগে প্রথম ইনিংসে দুই দলই হয়েছিল ব্যর্থ। পাকিস্তান ২২৪ রানে অলআউট হলে বাংলাদেশ গুটিয়ে যায় ১৬১ রানে। দ্বিতীয় ইনিংসে ওয়াহাজ রিয়াজ (১১৭) ও অধিনায়ক সাদ বেগের (১১৭) জোড়া সেঞ্চুরিতে পাকিস্তানের সংগ্রহ ৩৪৭।
সাকিব ম্যাচ শেষে মেসেঞ্জারে এই প্রতিবেদকের কাছে ম্যাচ শেষ করে আসতে না পারার জন্য আফসোস করেন। সাকিব বলেন, ‘আমি যখন আউট হলাম তখন দুই ঘণ্টার মতো ছিল। শেষ পর্যন্ত ক্রিজে থাকতে পারলে ম্যাচ জয়ের আরও কাছে যেতে পারতাম।’
পাকিস্তানের বিপক্ষে সেঞ্চুরির পরও কথায় তেমন উচ্ছ্বাস ছিল না। তিনি বলেন, কেবলমাত্র শুরু করলাম। এখন সময় সামনে এগিয়ে যাওয়ার।’