শহিদুল ইসলাম, বাঘারপাড়া: বাঘারপাড়ায় নয়জন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের মধ্যে আট জনই যশোর জেলার শ্রেষ্ঠ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। এমন খবর জনপ্রতিনিধি অঙ্গনে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। সম্প্রতি বাঘারপাড়ার আটজন ইউপি চেয়ারম্যানকে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি দিয়েছে ঢাকার একটি বেসরকারি সংস্থা।
এক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ওই সংস্থার চিঠি মারফত জানতে পেরেছেন তিনি যশোর জেলার শ্রেষ্ঠ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। সততার উপহার হিসেবে বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বাছাই পর্বে আপনাকে যশোর জেলার শ্রেষ্ঠ চেয়ারম্যান হিসাবে ‘মহান স্বাধীনতা পদক ও বিজয় পদক ২০২২’ এ ভূষিত করা হয়েছে। ওই চেয়ারম্যান এবারই নতুন নির্বাচিত হয়েছেন। এমন একটি চিঠি পেয়েই তিনি আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়েন। চারিপাশের তার সমর্থক, বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয় স্বজনের মধ্যে খবরটি ছড়িয়ে দেন। বিষয়টি জানাতে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদেরও তিনি বাদ রাখেননি। কেউ কেউ অনলাইন পোর্টাল ও স্থানীয় পত্রিকায় সংবাদও ছাপিয়ে দিয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানে উপজেলা সদরে যখন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা এক জায়গায় হয়েছেন তখন বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এ সময় ওই চেয়ারম্যান জানতে পারেন আরো সাতজন চেয়ারম্যানকে ওই একই চিঠি দেয়া হয়েছে।
বাঘারপাড়ার জামদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আরিফুর রহমান তিব্বত জানিয়েছেন, তিনিও একটি চিঠি পেয়েছেন। তার চিঠিতেও একই কথা বলা হয়েছে। বাংলাদেশ পল্লী চেয়ারম্যান উন্নয়ন সংস্থা থেকে চিঠি পেয়ে তিনি তার ফেসবুক আইডিতে পোস্ট দিয়েছেন। এ পর্যন্তই তিনি সীমাবদ্ধ থেকেছেন। এর আগেও তিনি একটি সংস্থা থেকে চিঠি পেয়েছিলেন। সে সংস্থাটিও তাকে শ্রেষ্ঠ চেয়ারম্যানের খেতাব দিতে চেয়েছিলো। এক সময় রেজিস্ট্রেশনের জন্য মোটা অংকের টাকা দাবি করে। যে কারণে তিনি আর ওই খেতাব নেননি। আরিফুর রহমান তিব্বত হাসতে হাসতে বলেন ওই একই কেস বলেই আর লাফালাফি করিনি।
দরাজহাট ইউপি চেয়ারম্যান জাকির হোসেন জানিয়েছেন, তিনিও একই চিঠি পেয়েছেন। পূর্ব অভিজ্ঞতা আছে বলেই বিষয়টি আর কাউকেই বলিনি। তবে তার কাছে জহুরপুর ইউপি চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান মিন্টু ফোন দিয়ে জিজ্ঞাসা করেন বিষয়টি কি। তিনি তাকে বলেন, কোন কিছুই করার দরকার নেই, চুপ করে থাকো।
ছয় বারের নির্বাচিত রায়পুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মঞ্জুর রশিদ স্বপন জানিয়েছেন, আমিও পেয়েছি। জীবনে বহুবার পেয়েছি। একটাতেও যাইনি। ও সব ধান্দাবাজ।
বন্দবিলা ইউপি চেয়ারম্যান সবদুল হোসেন খান জানিয়েছেন, আমিও বাংলাদেশ পল্লী চেয়ারম্যান উন্নয়ন সংস্থার চিঠি পেয়েছি। এর আগেও এরকম বিভিন্ন সংস্থার চিঠি পেয়েছি।
দোহাকুলা ইউপি চেয়ারম্যান আবু মোতালেব তরফদার জানিয়েছেন, তিনি বাদে বাকি আট চেয়ারম্যানই বাংলাদেশ পল্লী চেয়ারম্যান উন্নয়ন সংস্থার চিঠি পেয়েছেন। এসব সংস্থা হচ্ছে ধান্দাবাজ।
বাংলাদেশ পল্লী চেয়ারম্যান উন্নয়ন সংস্থার চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, চিঠির সাথে যে ফরমটি দেওয়া হয়েছে তা আগামী ৩০/০৪/২২ তারিখের মধ্যে মধ্যে পূরণ করে সংস্থার দপ্তরে পাঠাতে হবে। আর পদক বিতরণের দিন প্রধান অতিথি হিসাবে থাকবেন স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী তাজুল ইসলাম এমপি। অন্যান্যের মধ্যে থাকবেন, সাবেক মন্ত্রী আমির হোমেন আমু, এমপি মমতাজ বেগম, যশোর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুজ্জামান পিকুল প্রমুখ।
বাংলাদেশ পল্লী চেয়ারম্যান উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক মাহাবুবুর রহমান চৌধুরী স্বাক্ষরিত এ চিঠিতে ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছে মুক্তি ভবন (৩য় তলা), সেগুন বাগিচা, ঢাকা।
সংস্থার নির্বাহী পরিচালক মাহাবুবুর রহমান চৌধুরীর সাথে মোবইলে (০১৯৪২৭৮৫৬৫০) কথা হলে তিনি জানান, তারা ডিজিএফআই ও এনএসআই এর মাধ্যমে চেয়ারম্যানদের তথ্য সংগ্রহ করেছেন। বাংলাদেশে হাজার হাজার চেয়ারম্যান রয়েছে। তাদের মধ্যে থেকে আমরা মাত্র একশ চেয়ারম্যানকে শ্রেষ্ঠত্বের পদক দিচ্ছি। এক উপজেলায় নয়জন চেয়ারম্যানের মধ্যে আট জন চেয়ারম্যান কিভাবে শ্রেষ্ঠ হয় এমন প্রশ্ন করলে তিনি কথা ঘুরিয়ে অন্য প্রসঙ্গে কথা বলা শুরু করেন।