নিজস্ব প্রতিবেদক
শীতের আগমনী বার্তার সঙ্গে সঙ্গে যশোরের বাজারে আসতে শুরু করেছে আগাম শীতকালীন সবজি। তবে সরবরাহ কম থাকায় দাম বেশ চড়া। পাশাপাশি বাজারে থাকা অন্য সবজির দাম কিছুটা কমেছে। শুক্রবার যশোরের বড় বাজার, চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড ও রেল বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
আগাম শীতকালীন সবজির মধ্যে বর্তমানে বাঁধা কপি ১০০ টাকা, ফুলকপি ২০০-২৩০ টাকা, শিম ২০০ টাকা, টমেটো ১২০ টাকা, জলপাই ৪০ টাকা, পুঁইশাকের মিচুড়ি ১২০ টাকা, মেটে আলু ১০০ টাকা, বিটরুট ১৪০ টাকা, মুলো ৪০ টাকা, গাজর ১৪০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া পালং শাক ৩০ টাকা আটি বিক্রি হচ্ছে।
দোকানগুলোতে দেখা গেছে, গ্রীষ্মকালীন সবজি কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা কমেছে। এসব বাজারে ঝিঙা, করলা, বরবটি, কচুর লতি, পটল, চিচিঙা কেজিতে ২০ টাকা কমে ৬০ থেকে ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচামরিচ প্রকারভেদে ১৬০ থেকে ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পেঁপে ২০ থেকে ৩০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া কেজিতে ১০ টাকা কমে ৪০ টাকা, দেশি শসা ৬০ টাকা এবং হাইব্রিড শসা ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে।
সরবরাহ বাড়ায় সবজির দাম কিছুটা কমেছে বলে জানিয়েছেন বড় বাজারের তরকারি বিক্রেতা রফিক। তিনি বলেন, গত সপ্তাহে যে সবজি ৭০ বা ৮০ টাকায় বিক্রি করেছি আজ সেটা ৫০ থেকে ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আগামী সপ্তাহে দাম আরও কিছুটা কমে আসবে। বাজারগুলোতে লেবুর হালি ২০ থেকে ৪০ টাকা, ধনেপাতা ৩০০ টাকা কেজি, চাল কুমড়া ৫০ টাকা পিস দরে বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে কমতির দিকে থাকলেও সবজির দাম এখনো নাগালে না আসায় ক্রেতাদের মধ্যে অস্বস্তি দেখা গেছে। ক্রেতারা বলছেন, দুই-চারটি বাদ দিলে বেশিরভাগ সবজি ৬০ টাকা কেজির নিচে মিলছে না। এই সময় শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়লেও দাম কমার কোনো লক্ষণ দেখছেন না তারা।
এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে বাজারে বাজার করতে আসা ব্যবসায়ী জবেদ আলী বলেন, গত সপ্তাহে শিম ১২০ টাকা দরে কিনলাম, আজ ২০০ টাকা বলছে। এসব বাজারে লাল শাক ২৫টাকা আঁটি, কলমি শাক ২ আঁটি ৪০ টাকা, পুঁই শাক ৪০ টাকা আর আলু ২৫ টাকা, দেশি পেঁয়াজ ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
বাজারগুলোতে সোনালি কক মুরগি ৩১০ টাকা এবং সোনালি হাইব্রিড মুরগি ২৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। লাল লেয়ার মুরগি ৩১০ টাকা, সাদা লেয়ার ৩০০ টাকা, ব্রয়লার মুরগি কেজিতে ১০ টাকা কমে ১৮০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৫৮০ থেকে ৫৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
এসব বাজারে এক কেজি শিং মাছ চাষের (আকারভেদে) বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৫৫০ টাকায়, দেশি শিং ১০০০ থেকে ১২০০ টাকা, প্রতি কেজি রুই মাছের দাম বেড়ে (আকারভেদে) ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকায়, দেশি মাগুর মাছ ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা, মৃগেল ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায়, চাষের পাঙ্গাস ২০০ থেকে ২৩০ টাকায়, চিংড়ি প্রতি কেজি ৮০০ থেকে ১৪০০ টাকায়, বোয়াল মাছ প্রতি কেজি ৬০০ থেকে ৮০০ টাকায়, বড় কাতল ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকায়, পোয়া মাছ ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায়, পাবদা মাছ ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকায়, তেলাপিয়া ২২০ টাকায়, কৈ মাছ ২২০ থেকে ২৩০ টাকায়, মলা ৫০০ টাকা, বাতাসি টেংরা ১৩০০ টাকায়, টেংরা মাছ ৬০০ থেকে ৮০০ কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এসব বাজারে গরুর মাংস কেজি প্রতি ৭৫০ থেকে ৭৮০ টাকায়, গরুর কলিজা ৭৮০ টাকা, গরুর মাথার মাংস ৪৫০ টাকা এবং খাসির মাংস কেজি প্রতি ১০০০-১১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজারগুলোতে দেশি আদা ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা, চায়না আদা ২০০ টাকা, রসুন দেশি ১০০ টাকা এবং ভারতীয় ১৬০ টাকা, দেশি মসুর ডাল ১৬০ টাকা, মুগডাল ১৮০ টাকা, ছোলা ১১০ টাকা এবং খেসারির ডাল ১৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
বাজারগুলোতে এক ডজন লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৩৫ টাকায়, হাঁসের ডিম ২১০ টাকায়, দেশি মুরগির ডিমের হালি ১১০ টাকা এবং সোনালি কক মুরগির ডিম হালি ৭০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে। এসব বাজারে মিনিকেট চাল প্রকারভেদে ৮৫ থেকে ৯২ টাকা কেজি, নাজিরশাইল ৮৪ থেকে ৯০ টাকা, স্বর্ণা ৫৫ টাকা এবং আটাশ চাল বিক্রি হচ্ছে ৬৫ টাকা কেজি দরে।
