মহব্বত আলী, চুড়ামনকাটি (যশোর): যশোর সদর উপজেলার বারীনগর বাজারে বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন মাদকদ্রব্য। প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত এখানে বিভিন্ন প্রকারে মাদকদ্রব্য খুচরা ও পাইকারি বিক্রি করে থাকে এখানের মাদক ব্যবসায়ীরা। যার নেপথ্যে রয়েছে শক্তিশালী একটি মাদক সিন্ডিকেটের কিছু প্রভাবশালী সদস্যরা। যারা শুধু এখানে খুচরা বিক্রির সহযোগিতা নয় তারা মাদকের পাইকারির চালান পাঠিয়ে থাকে সবজির গাড়িতে দেশের বিভিন্ন স্থানে।
যশোর শহর থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার উত্তরে যশোর ঝিনাইদহ মহাসড়কের দু’ধার ঘেষে গড়ে উঠেছে এই বারীনগর বাজারটি। এ বাজারে দেশের বৃহত্তর কাঁচা বাজারটি অবস্থিত হওয়ায় সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত এখানে থাকে মানুষের উপচে পড়া ভিড়। এছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ব্যাপারীরা সবজি ক্রয় করতে ভিড় জমায় এখানে। এ সুযোগে স্থানীয় কিছু মাদক ব্যবসায়ী এখানে বিভিন্ন মাদকদ্রব্য বিক্রি শুরু করে। মাদক ব্যবসায়ীরা স্থানীয় বাজারের কয়েকটি স্থানে বিভিন্ন প্রকারের মাদকদ্রব্য নিয়ে খুচরা ও পাইকারি বিক্রি করে থাকে। প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত এখানে চলে মাদকের বেচা কেনা। চৌগাছার সাথে এখানকার যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো হওয়ায় মাদক ব্যবসায়ীরা নিরাপদ ঘাঁটি হিসাবে বেঁচে নিয়েছে এই বারীনগর বাজারকে। বিভিন্ন স্থান থেকে মাদক ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন প্রকারের মাদক দ্রব্য আমদানি করে মজুদ রাখে এই বাজারের আশেপাশের কিছু গ্রামে।
ইয়াবা, মদ, ফেনসিডিল, গাঁজা, তাড়িসহ বিভিন্ন প্রকারের মাদকদ্রব্য বিক্রি হয়ে থাকে এখানে। এ দৃশ্য শুধু বারীনগর বাজার নয় এর আশে পাশের গ্রামগুলোতেও বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন মাদকদ্রব্য। একাধিক পয়েন্টে বিক্রি হয়ে থাকে এই মরণনেশা মাদক দ্রব্য। প্রশাসনের নাকের ডগায় এ সমস্ত মাদকদ্রব্য বিক্রি হলেও তারা থাকে নিরব। মাদক ব্যবসায়ীরা প্রভাবশালী হওয়াই তাদের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায়না। বাজারের প্রাণকেন্দ্র বট তলা ও কাঁচা বাজারের পাশে কিছু যুবক ইয়াবা ও গাঁজা বিক্রি করে থাকে। তাদের এই কাজে নিষেধ করতে আসলে উল্টো বিভিন্ন হয়রানির স্বীকার হতে হয়। তাই সবকিছু জেনেও আমরা নিরুপায়। যার ফলে মাদক ব্যবসায়ীরা থেকে যাচ্ছে ধরা ছোয়ার বাইরে।
মাদকের কারণে এলাকার যুব সমাজ ক্রমেই মাদকের করাল গ্রাসে সর্বস্বান্ত হচ্ছে। ফলে প্রতিনিয়ত চুরি-ডাকাতি বৃদ্ধি পাচ্ছে এলাকায়। অভিভাবক মহল তাদের বিপথগামী সন্তানদের নিয়ে রয়েছে চরম বিপাকে।