নিজস্ব প্রতিবেদক
শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ নেতার মামলায় দুই দিনের পুলিশ রিমান্ডে যেতে হচ্ছে যশোরের বাঘারপাড়ার বিএনপি নেতা জাকির হোসেনকে। রোববার যশোর আমলি আদালত (বাঘারপাড়) বিচারক জাকিয়া সুলতানা তার দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে বাঘারপাড়া থানায় যশোর জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ও সদ্য ক্ষমতাচ্যুত উপজেলা চেয়ারম্যান বিপুল ফারাজীর পক্ষে কথিত লুটের মামলায় বাঘারপাড়া থানার সাব ইন্সপেক্টর মোহাম্মাদ তানিম ইসলাম ৫ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করেন।
জাকির হোসেন উপজেলার বন্দবিলা ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ড বিএনপির নির্বাহী কমিটির অন্যতম সদস্য। বিগত সরকার আমলে নীপিড়নের শিকার জাকির হোসেন বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলেও হামলা-মামলার শিকার হওয়ায় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। রোববার বিকেলে বাঘারপাড়া উপজেলা সদরে দলের সহস্রাধিক নেতাকর্মী বিক্ষোভ করে। এসময় বাঘারপাড়া থানার ওসির অপসারণ দাবি করা হয় বিক্ষোভ থেকে।
বিএনপি নেতা জাকির হোেেসনর আইনজীবী আব্দুল লতিফ লতা বলেন, পুলিশ যে মামলায় তাকে আটক করে রিমান্ড আবেদন করেছেন সেই মামলার এজাহারে কোথাও জাকির হোসেনের নাম নেই। সন্দেহের বশে ও উদ্দেশ্যমূলকভাবে তাকে আটক করে রিমান্ড চাওয়া হয়। এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে তিনি জানান। বাঘারপাড়া থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামসুর রহমান বলেন, জুলাই বিপ্লবে হাসিনার পলায়ন হয়েছে ঠিকই, তবে পুলিশ প্রশাসনে তার প্রেত্মারা এখনও বহাল রয়েছে। এসব পুলিশরাই এখন আওয়ামী লীগ নেতাদের পুনর্বাসনের কাজে কাজ করছে।
তিনি বলেন, জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদকের মামলায় যদি এখনও আমাদের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করে রিমান্ড নেয় পুলিশ, তাহলে যুদ্ধ করে আমরা কী পেলাম সেটিই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে।
বিএনপি নেতা শামসুর রহমান বলেন, বাঘারপাড়া থানার ওসি আব্দুল আলীম আওয়ামী লীগ নেতার মামলা রেকর্ড করে সেই মামলায় বিএনপি নেতাকর্মীদের গ্রেফতারপূর্বক রিমান্ড চেয়ে দুঃসাহস দেখিয়েছেন। প্রয়োজনে আন্দোলনের ঘোষণা দেবেন বলে তিনি জানান।
তবে এ বিষয়ে বাঘারপাড়ার থানার ওসি আব্দুল আলীম বলেছেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগে আসামি গ্রেফতার করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের কোনো সুযোগ নেই।
উল্লেখ্য, বিগত সরকারের পতনের পর সারাদেশের ন্যায় বাঘারপাড়া উপজেলাতেও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আত্মগোপনে চলে যায়। এর কিছুদিন পরই তারা থানা পুলিশের সাথে গোপন চুক্তি করে এলাকায় ফিরতে শুরু করে। এমনকি আওয়ামী লীগের সক্রিয় নেতাকর্মীরা যারা জনপ্রতিনিধির দায়িত্বপালন করেছেন তাদের মধ্য এমন বেশ কয়েকজন নেতা এনজিও ও সামাজিক কর্মকান্ডের ব্যানারে সাংগঠনিক কর্মকান্ড শুরু করেছে।
