নিজস্ব প্রতিবেদক
আসছে বিজয়ের মাসে ঐতিহাসিক চারটি দিবসকে ঘিরে যশোরে ১৫ দিনের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। কমসূচি প্রণনয়নের লক্ষ্যে যশোর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মঙ্গলবার বিকেলে যশোর কালেক্টরেট সভাকক্ষে প্রস্তুতিসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক আবরাউল হাছান মজুমদার। আগামী ৬ ডিসেম্বর যশোর হানাদারমুক্ত দিবস, ১১ ডিসেম্বর মুক্তিযুদ্ধকালীন সরকারের প্রথম জনসভা, ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস ও ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসগুলো যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করার বিষয়ে সভায় বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। সভায় উপস্থিত বীরমুক্তিযোদ্ধা, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা নানামুখী পরামর্শ উপস্থাপন করেন।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, ৬ থেকে ২১ তারিখ পর্যন্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, হানাদারমুক্ত দিবস, মুক্তিযুদ্ধকালীন সরকারের প্রথম জনসভা, শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস ও বিজয় দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করা হবে। ১৪ ডিসেম্বর শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবসের দিন সকাল আটটায় চাঁচড়া বধ্যভূমিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ, বিকেলে টাউনহল মাঠে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং বিশ্ববিবেক জাগরণ পদযাত্রা ১৯৭১ ও আলোক চিত্রশিল্পী এসএম শফির ক্যামেরায় ধারণকৃত ছবি দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে। ১৬ ডিসেম্বর সূর্যোদয়ের সাথে সাথে কালেক্টরেট চত্বরে ৩১ বার তোপধ্বনি, জাতীয় পতাকা উত্তোলন, সকাল পনে আটটায় স্টেডিয়ামে কুচকাওয়াজ, এরপর বিজয় স্তম্ভে পুষ্পমাল্য অর্পণ, ১০টায় স্টেডিয়ামে ডিসপ্লে, সাড়ে ১০টায় টাউনহলে বীরমুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা প্রদান, বিকেলে আলোচনা ও সাং¯ৃ‹তিক অনুষ্ঠান। এছাড়া, মাসব্যাপী বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান হবে। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনা সভা করতে হবে।
এছাড়াও তিনি বলেন, ১৪ ডিসেম্বর শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবসে কোন আলোকসজ্জা হবে না এবং ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে কোচিং সেন্টার খোলা থাকবে না। এছাড়াও স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, দোকান ও সরকারি, আধা সরকারি স্বায়ত্বশাসিত এবং বেসরকারি ভবনে সঠিক মাপ ও রঙ্গের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করতে হবে।
এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার যশোরের উপ-পরিচালক রফিকুল হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) ফিরোজ কবির, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) তুষার কুমার পাল, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এবং (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) এসএম শাহীন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন, জেলা পরিষদের চেযারম্যান সাইফুজ্জামান পিকুল, যশোর পৌরসভার মেয়র বীরমুক্তিযোদ্ধা হায়দার গণি খান পলাশ, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কমকর্তা আসাদুজ্জামান, যুদ্ধকালীন বৃহত্তর যশোরের মুজিব বাহিনীর প্রধান বীরমুক্তিযোদ্ধা আলী হোসেন মনি, বীরমুক্তিযোদ্ধা রবিউল আলম, দৈনিক কল্যাণ সম্পাদক বীরমুক্তিযোদ্ধা একরাম-উদ-দ্দৌলা প্রমুখ।
