খুলনা প্রতিনিধি
বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে নববধূকে নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন বরের পরিবারের সদস্যরা। খুলনার কয়রা থেকে দীর্ঘ পথ পেরিয়ে বাড়ির কাছাকাছি বাগেরহাটের রামপালে পৌঁছানোর পরই ঘটে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। নৌবাহিনীর একটি বাসের সঙ্গে নববধূ ও বরকে বহনকারী মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ হারান ১৩ জন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন নবদম্পতিসহ একই পরিবারের সাত সদস্য।
বৃহস্পতিবার বিকেলে খুলনা–মোংলা মহাসড়কের বেলাই ব্রিজ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতদের মধ্যে আছেন মোংলা পোর্ট পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক, তার ছেলে বর মো. সাব্বির ও সাব্বিরের নববধূ মার্জিয়া আক্তার মিতু। এছাড়া নিহতদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপি নেতা আব্দুর রাজ্জাকের মেয়ে, নাতি-নাতনিসহ পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্য। তারা মোংলা উপজেলার পশ্চিম শেলা বনিয়া এলাকার বাসিন্দা।
মোংলা পৌর বিএনপির সদস্য খোরশেদ আলম জানান, আব্দুর রাজ্জাক তার ছেলে সাব্বিরের বিয়ে দেন খুলনার কয়রা উপজেলার নাকশা এলাকায়। বৃহস্পতিবার সকালে পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়স্বজনদের নিয়ে একটি মাইক্রোবাসে করে তারা সেখানে যান। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিকেলে নববধূকে নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে রামপালে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে মাইক্রোবাসটি।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কথা হয় কনে মার্জিয়া আক্তার মিতুর মামা আবু তাহেরের সঙ্গে। তিনি বলেন, দুপুরে তার ভাগ্নি মিতুর বিয়ে হয়। বিকেলে বরযাত্রীদের সঙ্গে মাইক্রোবাসে করে শ্বশুরবাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেয় মিতু। রামপালের কাছাকাছি পৌঁছালে দুর্ঘটনা ঘটে। এতে মিতু, তার বোন লামিয়া ও নানী নিহত হন। একই দুর্ঘটনায় বরসহ আরও কয়েকজন প্রাণ হারান।
বাগেরহাটের কাটাখালী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাফর আহমেদ বলেন, নৌবাহিনীর বাসটি মোংলা থেকে খুলনার দিকে যাচ্ছিল এবং মাইক্রোবাসটি খুলনা থেকে মোংলার দিকে যাচ্ছিল। বেলাই ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে দুটি গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই চারজন নিহত হন।
রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার সুকান্ত পাল জানান, দুর্ঘটনার পর ছয়জনকে তাদের হাসপাতালে আনা হয়। তাদের মধ্যে চারজন আগেই মারা গিয়েছিলেন। গুরুতর আহত দুজনকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মেহনাজ মোশাররফ বলেন, রামপালের দুর্ঘটনায় আহত ১১ জনকে হাসপাতালে আনা হয়। তাদের মধ্যে আটজনকে মৃত ঘোষণা করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরে আরও একজন মারা যান।
এ ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন বাগেরহাট-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। বিএনপি নেতা আব্দুর রাজ্জাক ও তার পরিবারের সদস্যদের অকাল মৃত্যুতে তিনি গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন।
