শাহারুল ইসলাম ফারদিন
গতকাল ছিল বিশ্ব দন্ত দিবস। কিন্তু এদিনে যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে দাঁতের পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা পায়নি রোগীরা। এতে দূরদুরান্ত থেকে আসা দাঁতের সমস্যা নিয়ে রোগী এলেও ফিরে যেতে হচ্ছে ব্যবস্থাপত্র নিয়ে। চিকিৎসা সরঞ্জাম না থাকায় দাঁতের ফিলিং, স্কেলিং, রুট ক্যানাল বা শল্যচিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয়নি।
চিৎিসক ও সেবিকা বলছেন, দাঁতের চিকিৎসার জন্য বিশেষায়িত যান্ত্রিক চেয়ার, যন্ত্র পরিশোধনের ব্যবস্থা, মাউথওয়াশ, ফিলিং করানোর ফিলিং ম্যাটেরিয়াল, কম্প্রেশার, ড্রিল যন্ত্র, অবেদন করার রাসায়নিক কিছুই নেই এই হাসপাতালে। তাই দাঁতের সমস্যা নিয়ে প্রতিদিন ৬০ থেকে ৭০ জন রোগী এলেও তাদের পূর্ণাঙ্গ সেবা দেওয়া সম্ভব হয় না। তবে দাঁতে পুঁজ হওয়া, দন্ত ক্ষয় বা ক্যারিজ, ক্যাভিট, মাড়ি ফোলা, শিশু ও বয়স্কদের দাঁত তোলা ইত্যাদি নানা রোগের চিকিৎসা হয় এখানে।
বেশ কিছু দিন ধরে প্রচণ্ড দাঁতের ব্যথায় ভুগছেন যশোর সদরের বাগডাঙ্গার গৃহবধূ আসমা বেগম। কিন্তু তার জানা মতে, দাঁতের চিকিৎসা মানেই অনেক টাকার ব্যাপার। আক্ষেপ করে আসমা বলেন, গরিব হয়ে এত টাকা খরচ করার সামর্থ নেই। সদর হাসপাতালে যদি দাঁতের চিকিৎসা হত তাহলেও করতে পারতাম। কিন্তু হাসপাতালে তো চিকিৎসা নেই। আমরা কই যাব? তার মতো নিম্নমধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্যরা দাঁতের চিকিৎসা নিয়ে বিপাকে পড়েছেন এখানে।
দাঁতের চিকিৎসার জন্য এসেছিলেন এমএম কলেজের শিক্ষার্থী রুমা খাতুন। তাকে কয়েকটি পরীক্ষার ব্যবস্থাপত্র দেওয়া হলেও একটিও এই হাসপাতালে করাতে পারেননি। একই কথা বলেন রামনগরের আকলিমা বেগম মিনুরও। দাঁতের ক্ষয় হওয়ায় এখানে চিকিৎসা নিচ্ছেন প্রায় ছয় মাস ধরে। একটা দাঁত ফেলে দিতে হয়েছে। শুরু থেকেই বেশ কিছু পরীক্ষা দিয়েছেন চিকিৎসকরা। কিন্তু একটা পরীক্ষাও এই হাসপাতাল থেকে করাতে পারেননি। এবার ব্যবস্থাপত্রে ওপিজি (অর্থোপেন্টোমোগ্রাম) করানোর কথা লিখে দিয়েছেন চিকিৎসক। কিন্তু কাউন্টারে এসে দেখেন এখানে এ পরীক্ষা হয় না। পরে একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে পরীক্ষা করিয়ে আনতে হয় তাকে।
হাসপাতালের ১০৭ ও ১১৯ নম্বর কক্ষে দেখা গেছে, রোগীদের চিকিৎসা দেয়ার ডেন্টাল চেয়ার, বাতি ও কম্প্রেসর অকেজো হয়ে গেছে। জানতে চাইলে হাসপাতালের ডেন্টাল সার্জন ডা. কাজী শামিম আহমেদ বলেন, বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ৫০ জনের বেশি রোগী দাতের চিকিৎসা নিতে আসেন। প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি নষ্ট থাকায় ডেন্টাল ইউনিটটিতে পূর্ণাঙ্গ সেবা প্রদান করা সম্ভবপর হয় না। তবে আমরা সর্বোচ্চ সেবা প্রদান করে থাকি। শিশু ও বয়স্কদের দাঁত তোলার পাশাপাশি ব্যবস্থাপত্র দিয়ে থাকি। পূর্ণাঙ্গ সেবা দিতে প্রয়োজন টোটাল ইউনিট।
জানতে চাইলে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আখতারুজ্জামান বলেন, ডেন্টাল ইউনিটের বিষয়টি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে জানানো হয়েছে। খুব দ্রুত এর সমাধান হয়ে যাবে।
আরও পড়ুন:সিরিঞ্জ সংকটে বন্ধ শিক্ষার্থীদের টিকা কার্যক্রম
