ঝিকরগাছা প্রতিনিধি: প্রয়াত বীরমুক্তিযোদ্ধা মশিয়ার রহমান ওরফে মোরশেদ আলীকে নিয়ে বিভিন্ন অনলাইন ও প্রিন্ট মিডিয়ায় ‘মিথ্যা সংবাদ’ প্রকাশের প্রতিবাদে ছেলে বিল্লাল হোসেন (৪০) সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ঝিকরগাছা প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, তার পিতা বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম মশিয়ার রহমান ওরফে মোরশেদ আলী ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে শিমুলিয়া ইউনিয়নের বীর প্রতীক রকেট জলিলের সাথে ভারতের উড়িষ্যায় প্রশিক্ষণ শেষে দেশে ফিরে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন।
যা পানিসারা ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বীরমুক্তিযোদ্ধা আলতাফ হোসেন ও ঝিকরগাছা পৌর সদরের মোবারকপুর গ্রামের বাসিন্দা বীরমুক্তিযোদ্ধা ইদ্রিস আলী অবগত আছেন। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধা সনদপত্রে মশিয়ার রহমান থাকলেও আমার বাবার ডাক নাম মোরশেদ আলী আসেনি। ফলে সম্প্রতি মতিয়ার রহমান নামের একজন অসাধু ব্যক্তি আমার পিতার মুক্তিযোদ্ধার সনদপত্রসহ সমুদয় কাগজপত্রে মোরশেদ আলী করে দেওয়ার জন্য এক লাখ ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন।
কিন্তু আমার পরিবার অসাধু ব্যক্তির দাবিকৃত টাকা দিতে অস্বীকার করায় বিষয়টি তিনি স্থানীয় সংবাদকর্মী নামধারী আশরাফুজ্জামান বাবু, আফজাল হোসেন চাঁদ ও আমিরুল ইসলাম জীবনকে জানায়। যা কয়েকটি পত্রিকাসহ কিছু অনলাইন নিউজ পোর্টালে প্রকাশ করে তাদের পরিবারকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করেছে। এদিকে, মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পর থেকে বিল্লাল হোসেনের বৃদ্ধা মা আমেনা বেগম গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।
এছাড়া, তার ছোট ভাই কুলিয়া মাঠপাড়া জামে মসজিদের ইমাম জয়নাল আবেদীনকে গত বুধবার দুপুরে পানিসারা ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে সংবাদকর্মী নামধারীরা শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে। এঘটনায় গত বুধবার রাতে বীরমুক্তিযোদ্ধা মশিয়ার রহমান ওরফে মোরশেদ আলীর ছোট ছেলে ইমাম জয়নাল আবেদীন ঝিকরগাছা থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, ঝিকরগাছা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদের সহ সভাপতি মনজুর আলী তোতা, সাধারণ সম্পাদক শামীম হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মুজিদ গাজী, পৌর সভাপতি আনিছুজ্জামান সবুজ, সাংগঠনিক সম্পাদক বশির উদ্দীন বাবু, মাগুরা ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. বদরুজ্জামান,
বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম মশিয়ার রহমান ওরফে মোরশেদ আলীর ছোটভাই জায়েদ আলী, প্রতিবেশী ফজলুল সরদার, গফুর সরদার, মফিজুর রহমান, আলমগীর হোসেন প্রমুখ। মরহুম বীরমুক্তিযোদ্ধা মশিয়ার রহমান ওরফে মোরশেদ আলী মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত প্রতিবেশী ফজলুল সরদার, গফুর সরদার, মফিজুর রহমান,
আলমগীর হোসেন বলেন, তিনি মুক্তিযুদ্ধে যাওয়ার কারণে ওই পরিবারের উপর পাক হানাদার বাহিনীরা নির্মম অত্যাচার-নির্যাতন চালায় এবং তার ছোটভাই জায়েদ আলীকে রাজাকারে নামে লেখানোর জন্য চাপ সৃষ্টি করে। কিন্তু দেশকে ভালোবেসে জায়েদ আলী গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে গেলেও দেশের বিপক্ষে যাননি।