গাছ প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষার প্রধান মাধ্যম। মানুষ নিশ^াসের মাধ্যমে যে কার্বন ডাই অক্সাইড ত্যাগ করে গাছ সেটা গ্রহণ করে অক্সিজেন ত্যাগ করে। মানুষ ওই অক্সিজেন গ্রহণ করে বেঁচে থাকে। গাছ না থাকলে বাতাসে কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় মানুষ বাঁচতে পারতো না। এক কথায় বলা যায়, গাছ প্রাকৃতিক ছাকনি। এই গাছের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। প্রধানমন্ত্রী এই বাস্তবতার আলোকে সবাইকে বৃক্ষরোপণের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, শহরে যারা থাকেন, তারা ব্যালকনিতে ছোট একটি গাছও লাগাতে পারেন। অন্তত একটি করে গাছ লাগান।
১৫ জুন সকালে গণভবন চত্বরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। গণভবন চত্বরে ছাতিম, সফেদা ও হরিতকির চারা রোপণ করার মধ্যে দিয়ে কৃষক লীগের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী। রাজধানীতে হয়তো সবার জায়গা নেই। তবে ছাদ তো আছে, নিজের বাসার ছাদে বাগান করেন। এসময় সরকারি অফিসগুলোর ছাদে বাগান করার পরামর্শও দেন তিনি।
আওয়ামী লীগ দেশের চিন্তা করে, মানুষের চিন্তাা করে। পরিবেশের কথা ভেবে পরিবেশ রক্ষায় বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। ১৯৮৫ সাল থেকে আষাঢ় মাসের প্রথমদিন থেকে তিন মাস ব্যাপকভাবে জাতি বৃক্ষেরোপণ করে আসছে।
একটি কুড়ি দুটি পাতার আজকের বৃক্ষ শিশুটি কালে মহিরূহে পরিণত হয়। এ পর্যায়ে পৌছাতে গাছটি প্রতিটি মুহূর্ত মানুষের কল্যাণ ব্যয় করে। ছায়াদান থেকে শুরু করে ফল, কাঠ, অক্সিজেন দিয়েই যায়। ফলের মাধ্যমে যোগান দেয় পুষ্টির, রক্ষা করে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, ঝড়-ঝঞ্ঝা প্রভৃতি থেকে। এ ক্ষেত্রে তার কোন অলসতা নেই, নেই কোন কার্পণ্য। সুন্দরবন যুগে যুগে সেই প্রমাণ রেখে চলেছে। কত সাইক্লোন, কত জলোচ্ছ্বাস এই সুন্দরবন ঠেকিয়ে দিয়েছে তার কোন ইয়ত্তা নেই। এ ক্ষেত্রে সুন্দর বন আমাদের প্রকৃত বন্ধু। গাছের উপকারীতার কথা অল্প কথায় বলে শেষ করার নয়। এসব কারণেই বৃক্ষ রোপণের প্রতি গুরুত্বারোপ করে জাতীয় বৃক্ষরোপণ কর্মর্সচি গ্রহণ করা হয়। প্রতি বছর মানুষকে বৃক্ষ রোপণে উদ্বুদ্ধ করার জন্য এ কর্মসূচি। প্রধানমন্ত্রী এবারের বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচির সূচনালগ্নে তাই বলেছেন, ব্যালকনিতে হলেও একটি করে গাছ লাগান। শহরে যাদের গাছ লাগানোর জায়গা নেই তারা যেন ছাদে দু’একটি গাছ লাগান। প্রধানমন্ত্রীর এ আহবানে সাড়া দিয়ে মানুষ গাছ লগাবে। সবুজে সবুজে ভরে ওঠবে এ বাংলাদেশ।