নিজস্ব প্রতিবেদক: বেনাপোল স্থলবন্দরের হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়ন নিয়ন্ত্রণে নিতে দুই গ্রুপের মধ্যে বোমাবাজির ঘটনায় মঙ্গলবার মামলা হয়েছে। বেনাপোল বন্দর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি রাজু আহম্মেদ বাদী হয়ে ৩৬ জনকে আসামি করে বেনাপোল পোর্ট থানায় একটি মামলা করেছেন। পুলিশ ইতিমধ্যে এজাহারভুক্ত ৮ জনকে গ্রেফতার করেছে।
সোমবার স্থানীয় সংসদ সদস্য শেখ আফিল উদ্দিন ও বেনাপোল পৌরসভার মেয়র আশরাফুল আলম লিটনের সমর্থক শ্রমিকদের মধ্যে এই বোমাবাজি হয়। এতে ১০ জন আহত হন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সাবেক বন্দর হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়নের সম্পাদক ও বেনাপোল পৌর কাউন্সিলর রাশেদ আলীর নেতৃত্বে বহিরাগত একটি দল সোমবার সকালে বন্দর এলাকায় শতাধিক শক্তিশালী হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। এ সময় বন্দর শ্রমিকরা বন্দর অভ্যন্তরে লোড-আনলোড করছিল। বোমার শব্দ পেয়ে তারা কাজ বন্ধ করে লাঠিসোটা নিয়ে একজোট হয়ে পাল্টা হামলা শুরু করে। এতে দুই পক্ষের সংঘর্ষে ১০জন আহত হন।
বোমা হামলার প্রতিবাদে ওইদিন সকাল থেকে বন্দরে আমদানিকৃত পণ্যচালান লোড-আনলোড বন্ধ রাখে। এতে শিল্পকলকারখানার কাঁচামাল, পেঁয়াজসহ বিভিন্ন ধরনের ৫ শতাধিক পণ্য বোঝায় ট্রাক আটকা পড়েছিল। রাজস্ব আয়েও পড়ে বিরূপ প্রভাব।
গতকাল থেকে পুলিশের আশ্বাসে বন্দর স্বাভাবিক হয়েছে। শ্রমিকরা কাজে যোগ দিয়েছেন।
বেনাপোল বন্দর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ওহিদুজ্জামান ওহিদ জানান, সাধারণ শ্রমিকদের ওপর হামলাকারীদের সবাইকে পুলিশ আটক করবে। এমন প্রতিশ্রুতিতে শ্রমিকরা কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে পণ্য খালাসের কাজে যোগ দিয়েছে।
বেনাপোল বন্দর থানা ওসি কামাল হোসেন ভূঁইয়া জানান, বেনাপোল বন্দরে বোমা হামলার ঘটনায় ৩৬ জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যে ৮ জনকে আটক করেছে। হামলায় ব্যবহৃত পৌর কাউন্সিলর ও সাবেক শ্রমিক ইউনিয়নের সেক্রেটারি রাশেদের একটি প্রাইভেটকার জব্দ করা হয়েছে।
জানা গেছে, দলীয় প্রভাব বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় সংসদ সদস্য শেখ আফিল উদ্দিন ও বেনাপোল পৌর মেয়র আশরাফুল আলম লিটনের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলে আসছে। বর্তমানে বন্দরের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে এমপি সমর্থক বেনাপোল বন্দরের ৯২৫ শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি রাজু আহম্মেদ এবং সম্পাদক উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের সদস্য অহিদুজ্জামান অহিদ। মেয়র গ্রুপের সমর্থিত সাবেক হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়নের সম্পাদক পৌর কমিশনার রাশেদ আলীর লোকজন বোমা হামলা চালিয়ে বন্দরের হ্যান্ডলিং কাজ দখল করতে সোমবার এ ঘটনা ঘটায় বলে বর্তমান শ্রমিক নেতাদের অভিযোগ।
বেনাপোল বন্দরের উপ-পরিচালক মামুন কবীর তরফদার জানান, হ্যান্ডলিং শ্রমিকদের সৃষ্ট গোলযোগের কারণে একদিন কার্যক্রম বন্ধ ছিল। গতকাল মঙ্গলবার থেকে শ্রমিকরা কাজে যোগ দেয়ায় কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়েছে।
বেনাপোল পৌরসভার মেয়র ও জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক আশরাফুল আলম লিটন জানান, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি অহিদুজ্জামান ৩ বছর আগে বোমাবাজি করে অবৈধভাবে শ্রমিক ইউনিয়ন দখল করে আছে। এরপর তিনি সাধারণ শ্রমিকদের সদস্যপদ থেকে বাদ দিতে শুরু করে। গতকাল বঞ্চিত শ্রমিকদের গ্রুপ ও অহিদুজ্জামান গ্রুপদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। অথচ সন্ত্রাসীরা আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা করে ব্যাপক ক্ষতিসাধন করেছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য শেখ আফিল উদ্দিন এসব সন্ত্রাসী শ্রমিকদের মদদ দিচ্ছেন।
এব্যাপারে সংসদ সদস্য শেখ আফিল উদ্দিন দেশের বাইরে থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এমপি গ্রুপের রাজনীতি করেন শার্শা উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি সিরাজুল হক মঞ্জু জানান, মেয়র আশরাফুল আলম লিটনের ক্যাডার কাউন্সিলর রাশেদ আলীর নেতৃত্বে বোমবাজি শুরু করে।