নিজস্ব প্রতিবেদক: ভারতীয় ব্যবসায়ীদের ডাকা অনিদিষ্টকালের ধর্মঘটে গত দুই দিন ধরে বন্ধ রয়েছে বেনাপোল বন্দরের সঙ্গে পেট্রাপোল বন্দরের আমদানি বাণিজ্য। এতে অচলবস্থার মধ্যে পড়েছে আমদানি বাণিজ্য। তবে এপথে দুই দেশের মধ্যে পাসপোর্ট যাত্রী যাতায়াত ও রফতানি বাণিজ্য স্বাভাবিক রয়েছে। ডুপ্লিকেট ড্রাইভিং লাইসেন্সধারী ভারতীয় ট্রাকচালক ও পরিচয়পত্রবিহীন ট্রান্সপোর্ট কর্মচারীদের বিএসএফ বন্দরে প্রবেশে বাধা দেয়ায় এ ধর্মঘট ডাকা হয়েছে।
১৭ জানুয়ারি সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ভারতের ২৪ পরগনা বনগাঁ গুড ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশন এই ধর্মঘট ডেকেছে।
এদিকে আমদানি-রফতানি বন্ধ থাকায় দুই বন্দরে শত শত টাক পণ্য নিয়ে প্রবেশের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে। দ্রুত বাণিজ্য চালু না হলে ক্ষতির আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। তবে বাণিজ্য চালু করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলছেন ব্যবসায়ী নেতারা।
ভারতের পেট্রাপোল বন্দরের সিঅ্যান্ডএফ স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কার্তিক চন্দ বিশ্বাস বলেন, একটা নিয়মে ভারতীয় ট্রান্সপোর্ট ব্যবসায়ী ও ট্রাক চালকেরা বন্দরে যাতায়াত করতো। তবে এসব সংশোধনের সময় না দিয়ে হঠাৎ বিএসএফ বন্দরে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এসব ঠিক করতে তো সময় প্রয়োজন। বিএসএফের বাধায় বাণিজ্য বন্ধ রয়েছে।
বেনাপোল আমদানি-রফতানি সমিতির সহসভাপতি আমিনুল হক বলেন, এপথে ভারত থেকে শিল্পকলকারখানায় ব্যবহৃত অধিকাংশ কাঁচামাল ও খাদ্যদ্রব্য জাতীয় পণ্য আমদানি করা হয়েছে। দু’দিন ধরে আমদানি বাণিজ্য বন্ধ থাকায় পেট্রাপোল বন্দরে প্রায় সহস্রাধিক ট্রাক পণ্য নিয়ে বেনাপোল বন্দরে ঢোকার অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে। এসব দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাককে প্রতিদিন দুই হাজার রুপি করে গুনতে হচ্ছে।
বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাজেদুর রহমান জানান, তারা বাণিজ্য সচলের জন্য ভারতীয় ব্যবসায়ী নেতাদের সাথে যোগাযোগ করেছেন। তবে বিএসএফ ও ব্যবসায়ীরা দুই পক্ষ তাদের সিদ্ধান্তে অটল থাকায় বাণিজ্য চালু হচ্ছে না।
বেনাপোল বন্দরের উপ-পরিচালক আব্দুল জলিল বলেন, এটা ভারতীয়দের আভ্যন্তরীণ বিষয়। তবে আমদানি বন্ধ থাকায় বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের যেমন লোকসান হচ্ছে তেমনি বন্দরে পণ্যজট বাড়ছে। দ্রুত যাতে চলমান সমস্যা সমাধানের মাধ্যমে বাণিজ্য সচল হয় ভারতয়ীদের কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে। বেনাপোল কাস্টমের কমিশনার আজিজুল ইসলাম জানান, দু’দিন ধরে বাণিজ্য বন্ধ থাকায় ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। আবার আমাদেরও রাজস্ব আয় হচ্ছেনা।