নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরে ভুয়া কাবিননামা তৈরি করে তরুণীকে স্ত্রী দাবি এবং ফেসবুকে ছবি পোস্ট করে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে আওরঙ্গজেব নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়েছে। ১৭ মার্চ দিবাগত রাতে ভুক্তভোগী তরুণীর ভাই সদর উপজেলার বসুন্দিয়া এলাকার এক ব্যক্তি ওই মামলাটি করেছেন। তবে থানায় মামলা হলেও এখনো আসামি গ্রেপ্তার হয়নি। আসামি আওরঙ্গজেব অভয়নগর উপজেলার প্রেমবাগ গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে।
মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, আসামি এবং বাদীর বাড়ি ভিন্ন থানা হলেও গ্রাম পাশাপাশি। বসুন্দিয়া মোড়ের আল আমিন প্রি-ক্যাডেট স্কুলে প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রীদের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান থেকে বাদীর বোনের সাথে আওরঙ্গজেবের পরিচয় হয়। এরপরে তার বোনের সাথে বন্ধুত্ব গড়ে তোলে। তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয় আওরঙ্গজেব। রাজি না হওয়ায় ভুয়া কাবিননামা তৈরি করে ওই তরুণীকে স্ত্রী দাবি করে। এরপরে ওই কাবিননামার কপি তরুণীর কাছে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেয়। গত ২১ আগস্ট মাসে তরুণীর ভাই যশোর আদালতে আওরঙ্গজেবের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। ওই মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত শেষে আদালতে ১০ ডিসেম্বর প্রতিবেদন দাখিল করে। প্রতিবেদন পেয়ে আদালতের বিচারক আসামি আওরঙ্গজেবের বিরুদ্ধে সমনজারির আদেশ দিয়েছে। এতে আওরঙ্গজেব চরমভাবে ক্ষিপ্ত হয়েছে। ফলে মামলাটি প্রত্যাহারের জন্য বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছিল। তারই জের ধরে গত ১২ ডিসেম্বর রাত ৯টার দিকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বসুন্দিয়া মোড় বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলেন তরুণীর ভাই। বসুন্দিয়া মোড় বাজারের কাঠপট্টিতে পৌছানো মাত্র আসামি আওরঙ্গজেবসহ ৪/৫জন পথরোধ করে। এরপরে আওরঙ্গজেবের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি প্রত্যাহার করার জন্য হুমকি দিতে থাকে। রাজি না হলে দুই লাখ টাকা চাঁদাদাবি করে। চাঁদার টাকা না দিয়ে বাদীর বোনের ছবি এবং তার পরিবারের সম্মানহানি হয় এমন ঘটনা লিখে ফেসবুকে পোস্ট করা হবে বলে হুমকি দেয় আওরঙ্গজেব। এসময় বাদীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে তারা জীবননাশের হমকি দিয়ে চলে যায়। এই ঘটনায় থানায় মামলা হলেও মূল আসামি আওরঙ্গজেব এখনও আটক হয়নি।
তবে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার এসআই তাপস কুমার আঢ্য বলেছেন, আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
