চালের দাম ভোক্তার ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রাখতে এবং সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে চাল মজুদকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কেউ অবৈধভাবে চাল মজুত করলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বেড়েছে। দাম বৃদ্ধির ফলে সব মানুষ চাপের মধ্যে পড়েছে। এর মধ্যে নি¤œ আয়ের সাধারণ মানুষ হাফিয়ে ওঠছে। তারা যা আয় করছে তাতে কুলাচ্ছে না। গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ৩৩টি খাদ্যপণ্যের মধ্যে ২০টি দাম বেড়েছে।
প্রতিবারই এমনটাই দেখা যায়। এ বিষয়ে অনেকে বলতে পারেন চাহিদা বাড়লে দাম তো বাড়বেই। এটা কোনো যৌক্তিক কথা নয়। সংকটে দাম বাড়তে পারে। এ ক্ষেত্রে বলা যায় সংকটটা কৃত্রিম। মানুষের গলা কেটে ফায়দা লোটার জন্য এই সংকট সৃষ্টি করে। কিন্তু ওই যে কথা আছে ‘চোরা না শোনে ধর্মের কাহিনী’।
দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে কী করতে হবে সেটাও সবার জানা। প্রশ্ন হচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলো তাদের করণীয় যথাযথভাবে পালন করছে কিনা। কোনো ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের মজুদ করা কোনো পণ্য উদ্ধার করে বাজারজাতের ব্যবস্থা হয়েছে বলে জানা যায় না। অবৈধ মজুদের জন্য কোনো ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হয়নি। মাঝে মধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালত কিছু ব্যবসায়ীকে আটক করে জেল-জরিমানা করা হয়েছে। কিন্তু ব্যবসায়ীরা এতে মোটেই ঘাবড়ায়নি। বাজারে মূল্য তালিকা টাঙানো বা কার্যকর করা যায়নি।
অভিযোগ রয়েছে, যাদের মজুদদারী বন্ধ করার দায়িত্ব তারা সেটা করছে না। সর্ষের মধ্যে যদি ভুত থাকে তাহলে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ হবে কীভাবে। সরকারকে আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলোর কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আদায় করতে হবে। সরকারের সব প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি দূর করে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। নইলে কাঁচাবাজার থেকে শুরু করে পুজিবাজার কোনোটাই সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকবে না। ব্যাংক খাত তো আগেই নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে।
বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রিসভা বৈঠকে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম ব্রিফিংয়ে জানান, ভোজ্যতেলের পর এবার চালের বাজারেও জোরদার অভিযানে নামছে সরকার।
অভিযোগ আছে, মিলাররা ধান-চাল মজুদ রাখছেন। একইভাবে কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোও মেমোরেন্ডাম অ্যাসোসিয়েশনের নীতি অনুমোদনের বাইরে গিয়ে ধান-চালের ব্যবসায় নেমেছেন। তারা প্যাকেটজাত আকারে সেগুলো বাজার মূল্যের চেয়ে অনেক বাড়তি দামে বিক্রি করছেন। এতে চালের ক্রয়ক্ষমতা ভোক্তার সাধ্যের বাইরে চলে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে এ ধরনের নির্দেশনা এলো। প্রধানমন্ত্রীর সময়োগী নির্দেশনা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর করলে ভোক্তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে।