নিজস্ব প্রতিবেদক: যশোরের মণিরামপুরে বাজার উন্নয়নের নামে ব্যক্তিগত একটি দোতলা ভবন ও একটি টিনের চালার স্থাপনা ভেঙে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (১৯ মার্চ) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত রাজগঞ্জ বাজার উন্নয়ন কমিটি বুলডুজার দিয়ে ভবন দুটি ভেঙে দিয়েছে। এরআগে গেলো সপ্তাহে রাতের আধারে একই মালিকের নির্মাণাধীন ৮টি দোকান ঘর ভেঙে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।
মালিক পক্ষের অভিযোগ, ব্যক্তিগতসহ সরকারের কাছ থেকে বন্দোবস্ত নেয়া ১৫ শতক জমি দখলে নিতে বাজার উন্নয়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে ভবন দুটি ভাঙা হয়েছে। পুলিশের সহযোগিতা চেয়ে না পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যেতে পারিনি। তবে বাজার উন্নয়ন কমিটির দাবি, রাস্তার জমি মুক্ত করার জন্য তারা পুরনো ভবন গুঁড়িয়ে দিয়েছেন।
জমির মালিক দাবিদার আশরাফুল হক বলেন, রাজগঞ্জ বাজারের বটতলায় আমাদের ৩ শতক জমি আছে। ওই জমি লাগোয়া ১২ শতক খাস জমি আমরা তিন দফা সরকারের কাছ থেকে বন্দোবস্ত পেয়েছি। সর্বশেষ চলতি বছরের প্রথম দিকে ভূমি মন্ত্রণালয় অকৃষি খাস জমি হিসেবে আমাদের জমিটি বন্দোবস্ত দেয়। ১৯৬০ সাল থেকে জমিটি আমাদের দখলে।
তিনি বলেন, আমাদের ব্যক্তিগত ৩ শতক জমির ওপরে টিনের চালার একটি স্থাপনায় ৫টি দোকান রয়েছে। আর ইজারা নেয়া ১২ শতক জমির ওপরে আমাদের দোতলা একটি ভবন রয়েছে। ভবনটি পুরাতন সোনালী ব্যাংক ভবন নামে পরিচিত। সেখানে ওপরে নিচে ১৪টি দোকান ঘর ছিলো। শনিবার বাজার উন্নয়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ আব্দুল লতিফ বুলডুজার দিয়ে আমাদের স্থাপনা দুটি গুড়িয়ে দিয়েছেন।
আশরাফুল হক বলেন, ইজারা নেয়া ১২ শতক জমির ওপরে আমরা ৮ টি দোকান ঘর নির্মাণ শুরু করি গত ২ মার্চ। নির্মাণ কাজের প্রায় ৫০ শতাংশ শেষ হয়েছিলো। দুর্বৃত্তরা সম্প্রতি রাতের আঁধারে দোকানগুলো ভেঙে দিয়েছিলো। পরে দুই ধাপে দুর্বৃত্তরা সেখান থেকে সমস্ত মালামাল নিয়ে গেছে।
তিনি বলেন, এ জমি নিয়ে আমরা উচ্চ আদালতে রিট করেছিলাম। সে রায় আমাদের পক্ষে আছে। ভূমি মন্ত্রণালয়ের বন্দোবস্তের সব কাগজপত্র আমাদের কাছে আছে। এরপরও আমরা পুলিশ প্রশাসনের সহযোগীতা পাচ্ছি না।
বাজার উন্নয়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ আব্দুল লতিফ বলেন, রাস্তার ২ শতক জমির ওপরে পুরাতন সোনালী ব্যাংক ভবন। পাশে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল নির্মিত হচ্ছে। সেখানে যাওয়ার জন্য রাস্তা প্রশস্ত করা দরকার। তাই আমরা দোতলা ভবনটি ভেঙে দিচ্ছি। আব্দুল লতিফ বলেন, বাজারে সরকারের খাস জমিতে টিনের চালার কয়েকটি দোকান ঘর রয়েছে। সেগুলো ভাঙা পড়েছে। তিনি বলেন, নূরুল হকের নামে সরকারি জমিটি ইজারা ছিলো। তার মেয়াদ ২০২০ সালে শেষ হয়ে গেছে। এখন জমিটি সরকারের। এ অধ্যক্ষ দাবি করেন, এত যে উচ্ছেদ ভাংচুর হচ্ছে। নূরুল হকের ছেলেরা কেউ আসেননি। তাদের কাছে কোনো কাগজপত্র নেই। তারা কোনো প্রমাণ দেখাতে পারবেন না।
এদিকে চালুয়াহাটি ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নায়েব শফিউর রহমান বলেন, রাজগঞ্জ বাজারের ১২ শতক জমি ভূমি মন্ত্রণালয় নুরুল হকের ছেলেদের নামে চলতি বছরের প্রথম দিকে বন্দোবস্ত দিয়েছে। তাদের সব কাগজপত্র আছে। মণিরামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নূর-ই-আলম সিদ্দীকি বলেন, রাজগঞ্জ বাজারে ভবন ভাঙার বিষয়টি আমার জানা নেই।