আব্দুল্লাহ সোহান, মণিরামপুর
একটি বাড়ির প্রবেশের রাস্তা তৈরি করতে সরকারি বিদ্যালয়ের জমি দখলে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর ভেঙে রাস্তা করা হলেও সংশ্লিষ্টরা কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। দখলীয় জায়গাটি স্থায়ী করতে প্রবেশ পথে একটি মাদ্রাসার সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেয়া হয়েছে।
যশোরের মণিরামপুর ‘বাঁধাঘাট মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’। বিদ্যালয়টি ১৯৩৭ সালে ৯১ শতক জমির উপর প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে বিদ্যালয় মাঠে সংশ্লিষ্ট দাপ্তরিক ইনস্টিটিউট অফিসও রয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রধান গেটটি পূর্ব পাশে। আর উত্তর দিকে বসবাস ব্যবসায়ী আনোয়ারুল ইসলাম বাচ্চুর। গেল বছর ২২ ডিসেম্বর বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীরের উত্তর পাশে আট ফুট এবং পূর্ব পাশে পাঁচ ফুট ভেঙে ভেতর দিয়ে একটি রাস্তা বানান তিনি। ওই সময় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সেলিনা আকতার বানু বাঁধা প্রদান করেন। একপর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ছাড়াও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলিতে তিনি লিখিতভাবে অবহিত করেন। ঘটনা নিয়ে অবশ্য প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে উদ্যোগ নিলেও রহস্যজনক কারণে তা থেমে যায়।
খোঁজ খবর নিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের প্রাচীর ভেঙ্গে রাস্তা নির্মাণের প্রবেশপথটি স্থায়ী করতে সম্প্রতি দু’পাশে পিলার বসিয়ে ‘মারকাজুত তাহফিজ মডেল বালিকা মাদ্রাসা’ নামে সাইন বোর্ড টাঙানো হয়েছে। স্থানীয় গৃহবধূ মর্জিনা খাতুন, রবিউল ইসলামসহ অনেকেই জানান, প্রাইমারি স্কুল ছাড়া এখানো কোন মাদ্রাসা ছিল না। স্কুলের জমি দখলে নেয়ার পর প্রবেশ পথে সম্প্রতি মাদ্রাসার সাইন বোর্ড টাঙানো হয়েছে। তারা জানান, রাস্তাটি স্থায়ী করতে মাদ্রাসা নাম ব্যবহার করা হয়েছে। বাড়ির মালিক আনোয়ারুল ইসলাম বাচ্চুর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, মাদ্রাসাটি আমরা প্রতিষ্ঠা করেছি।
মাদ্রাসার শিক্ষক পরিচয়দানকারী সাইফুল ইসলাম জানান, সম্প্রতি গড়ে ওঠা মাদ্রাসার পাঠদান কার্যক্রম এখন শুরু হয়নি।
বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সেলিনা আকতার বানু জানান, অনর্থক বলে লাভ কি! আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং আমার শিক্ষা অফিসারকে লিখিতভাবে জানানো সত্ত্বেও কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।
এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ইসমত আরা পারভিন জানান, বিষয়টি আগের অফিসারের সময়ের। আমি দায়িত্ব পাওয়ার পর ফাইলটা এখনো হাতে আসেনি।
একই সুরে কথা বলেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকির হোসেন। তিনি জানান, আমি উপজেলায় যোগদানের পর ফাইলটি আমার পর্যন্ত পৌঁছায়নি। ফাইলটি হাতে পেলে তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
