আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদ, কেশবপুর :
শনিবার সন্ধ্যায় কেশবপুরের সাগরদাঁড়িতে মধুমেলার চতুর্থ দিনে মধুমঞ্চে মধুসূদনের জীবন ও সাহিত্য বিষয়ে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। যশোরের জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আমন্ত্রিত অতিথি ছিলেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপসচিব সাজ্জাদুল হাসান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন যশোরের পুলিশ সুপার প্রলয় কুমার জোয়ারদার, ঢাকার ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতাল ও রিসার্চ সেন্টারের অধ্যাপক প্রফেসর ডা. এম এ রশীদ।
সভায় আরও আলোচনা করেন যশোর সংবাদপত্র পরিষদের সভাপতি ও দৈনিক কল্যাণ সম্পাদক বীরমুক্তিযোদ্ধা একরাম-উদ-দ্দৌলা, সুরধুনীর সভাপতি হারুন অর রশিদ, কথা সাহিত্যিক ম্যারিনা নাসরিন, কবি মকবুল মাহফুজ, কেশবপুর প্রেসক্লাবের সহসভাপতি মোতাহার হোসাইন ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক অনন্ত সরকার।
মধুমঞ্চে অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে রাতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, উপজেলা প্রশাসনের নাটক ও যাত্রাপালা ‘বধূ বলিদান’ মঞ্চস্থ হয়।
মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের ১৯৯তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে কেশবপুরের সাগরদাঁড়িতে অনুষ্ঠিত সপ্তাহব্যাপি এ মধুমেলা শেষ হবে আগামী ৩১ জানুয়ারি।
এদিকে শনিবার মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে, পরিবার পরিজন নিয়ে ঘুরে বেড়ানোর মত পরিস্থিতি দেখা যায়। যশোরের বাসিন্দাদের পাশাপাশি দেশ ও দেশের বাইরে থেকে এসেছেন অনেকে।
সাতক্ষীরার বাসিন্দা আশিকুর রহমান বলেন, আত্মীয়-স্বজন নিয়ে ঘুরতে এসেছি। প্রতিবছর এই মধুমেলার সময় আসি, খুব ভাল লাগে। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে মেলা ঘুরতে আসার ফাঁকে প্রয়োজনীয় কিছু জিনিসপত্র কেনা হয়ে যায় ।
দর্শনার্থী সাথি খাতুন বলেন, মূলত ঘুরতে এসেছিলাম, কিন্তু ঘরের কিছু প্রয়োজনীয় জিনিসও কেনা হয়ে গেছে। এবার মধুমেলায় সুন্দর পরিবেশ বজায় আছে। ফলে শান্তিতে ঘুরে বেড়ানো যাচ্ছে। মেলায় নিরাপত্তাও বেশ ভাল। কোনো অব্যবস্থাপনা চোখে পড়েনি।
আর মাত্র ৩ দিন বাকী। শেষ দিকে মেলায় ক্রেতা-দর্শণার্থীর ভীড় বাড়বে এমনটা স্বাভাবিক। শনিবার মানুষের ঢল নামে মেলায়। ক্রেতা-দর্শণার্থীর পদচারনায় মুখরিত হয়ে ওঠে মেলা প্রাঙ্গণ। এদিন মেলায় দর্শণার্থীদের কেনাকাটার প্রতি ঝোঁক ছিল বেশি। মেলায় আগতদের হাতেই দেখা গেছে পণ্যসামগ্রীর প্যাকেট। অনেকের হাতে একাধিক প্যাকেটও দেখা গেছে। মূলত মেলার শেষ দিকে এ কারনেই বিক্রি বেড়েছে বলে একাধিক ক্রেতা-বিক্রেতা জানান।
ঝিনাইদহ থেকে পরিবার নিয়ে মেলায় আসেন ব্যবসায়ী পারভেজ, তিনি একটি স্টলের পাশে অনেকগুলো প্যাকেট হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন। তাকে বাইরে রেখে সাথে আসা বাসার মহিলা সদস্যরা ভিতরে কেনাকাটায় ব্যস্ত ছিলেন। তিনি জানান, মেলায় ঘুরতে আসলেও তারা কেনাকাটায় বেশি সময় দিচ্ছেন। বিশেষ করে মহিলারা বাসার প্রয়োজনীয় অনেক কিছু কিনছেন। এছাড়া কসমেটিক্স, থ্রিপিস, কম্বল, শিশুদের খেলনার স্টলগুলোতেও ছিল ক্রেতাসমাগম। ব্লেজার, টিশার্ট, জুতা-স্যান্ডেলসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্যের স্টলগুলোও ছিল ক্রেতামুখর। বিক্রি বেশ ভালো বলে জানান বিক্রেতারা।
মেলা উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার এম এম আরাফাত হোসেন বলেন, মেলায় মধুভক্তদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। স্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প ও পাশাপাশি ডিবি, জেলা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের সাথে প্রয়োজন মতো সাদা পোশাকে পুলিশ ও র্যাব-৬ বলবৎ রয়েছে। তাছাড়া অশ্লীলতা রুখতে প্রতিটি প্যান্ডেলে সিসি ক্যামেরার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
