নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোর পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বেজপাড়া মেইনরোড এলাকার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম। এই মুদি দোকানির দাবি, ‘গত ছয় মাসে তার এলাকায় একবার মশক নিধনের ওষুধ ছিটাতে দেখেছিলেন পৌর কর্মচারীদের। অথচ দিনরাতে সব সময় মশার উপদ্রবে তারা অতিষ্ঠ। ক্ষোভ নিয়ে রফিকুল বলেন, ‘যে পরিমাণ এবার ডেঙ্গু রোগী বাড়ছে যশোরে। সে পরিমাণ মশা নিধনে পৌরসভার ভূমিকা নিতে দেখিনি। ফলে দিনকে দিন বেড়েই চলছে ডেঙ্গুর রোগীর সংখ্যা।
পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডের স্টেডিয়ামপাড়ার বাসিন্দা সেলিম হোসেন বলেন, এই এলাকায় কখনো মশার ওষুধ ছিটানো হয়নি। পৌর এলাকার মেইন রোডে দেখি মাঝে মধ্যে ওষুধ ছিটাতে। যশোর পৌরসভার এই দুই ওয়ার্ডের দুই বাসিন্দা নয়; পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের বেশির ভাগ বাসিন্দাই অভিযোগ করছেন, পৌরসভার পক্ষ থেকে মশা নিধনের কার্যক্রম দৃশ্যমান নয়। অথচ এডিস মশার প্রকোপে ঢাকার বাইরে যশোরে ডেঙ্গু রোগী বাড়ছে।
গত ১০ মাসে ৩ হাজার চারশ ৮১ জন আক্রান্ত হয়েছে। আক্রান্তের মধ্যে স্থানীয় পর্যায়ে ৩ হাজার তিনশ ২০জন ও ঢাকা থেকে আক্রান্ত হয়েছিলেন ১৬১জন। আবার আক্রান্তের মধ্যে যশোর সদর ও পৌর এলাকায় অর্ধেকের বেশি। মোট আক্রান্তের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন তিন হাজার দুইশ ৮৫জন।
পৌরসভা বলছে, মশা নিধন প্রক্রিয়া পৌরসভার নিয়মিত কার্যক্রম। মার্চ থেকে এ পর্যন্ত ৯টি ওয়ার্ডে ১৫ লক্ষাধিক টাকা ব্যয় করেছে মশা নিধনে। মশার প্রকোপ যখন দিন দিন বাড়ছে, তখন যশোর পৌরসভার বাসিন্দাদের মুখে মুখে প্রশ্ন-পৌরসভা থেকে মশার ওষুধের যে হিসাব দেয়া হয়, সেই ওষুধগুলো তাহলে যায় কোথায়? বাজেট বরাদ্দ থাকলেও এই মৌসুমে মশা নিধনে তেমন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারেনি যশোর পৌরসভা। এর কারণ হিসেবে কর্তৃপক্ষ মানসম্মত ওষুধ সরবরাহের অভাবকেই দায়ী করছেন। মশার কামড়ে অতিষ্ঠ শহরবাসী চান দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ। এমন পরিস্থিতিতে আজ রবিবার থেকে আগামি ৪ নভেম্বর পর্যন্ত সাতদিনব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা সপ্তাহ পালন করবে জেলা প্রশাসন। যার মাধ্যমে জেলায় কমবে ডেঙ্গুর এডিস মশা এমনটি ধারণা আয়োজকদের।
যশোর পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা উত্তম কুন্ডু বলেন, নিয়মিত মশা নিধনের কাজ চলমান রয়েছে। যারা অভিযোগ করছে তাদের অভিযোগ মিথ্যা। বিভিন্ন ড্রেনও পরিস্কার করা হচ্ছে। পৌরসভার পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধে নিজের সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেন এই কর্মকর্তা। তিনি বলেন, নিয়মিত নিজ নিজ বাড়ির আঙিনা পরিস্কার করলেই এই মশার কামড় থেকে বাঁচা যাবে।
যশোর সিভিল সার্জন বিপ্লব কান্তি বিশ^ান বলেন, যশোরে ডেঙ্গু পরিস্থিতিতে পৌরসভাকে কার্যকর উদ্যোগ নিয়ে জনগণকে সচেতন করতে হবে। ড্রেন বা বাসাবাড়িতে জমে থাকা পানি এডিস মশার প্রজননস্থল। এই জায়গাগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। এসব বিষয়ে পৌরসভাকে এগিয়ে আসতে হবে, মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে হবে।
