নিজস্ব প্রতিবেদক
মাদকদ্রব্য ক্রয় বিক্রয়ে টাকা পয়সা দেনা পাওনাকে কেন্দ্র করে বিরোধে পরিকল্পিতভাবে বেনাপোলের ইজিবাইক চালক সজীবকে খুন করা হয়েছে। গাঁজা সেবনের কথা বলে তাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গলাকেটে হত্যা করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত চারজনের কাছ থেকে এ তথ্য পেয়েছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। তারা আদালতেও স্বীকারোক্তিমূলক জাবানবন্দি দিয়েছেন।
আটককৃতরা হলেন, শার্শার বড়আঁচড়ার লিটন আলীর ছেলে শামিম হোসেন ও সওদাগার আলীর ছেলে আশরাফুল আলম রাব্বি, বড়আঁচড়া মাঠপাড়া এলাকার ইসমাইল হোসেনের ছেলে আজম হোসেন ও রাড়িপুকুর এলাকার রবিউল ইসলামের ছেলে জাহাঙ্গীর কবির। এদের মধ্যে শামীম ও রাব্বীকে বেনাপোল বল ফিল্ড এলাকা হতে হত্যাকাণ্ডের ব্যবহৃত রক্তমাখা চাকুসহ গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের স্বীকারোক্তি মতে নিহতের নিকট থেকে নেওয়া ইজিবাইক বিক্রয়ের সহযোগিতার সাথে জড়িত আজম ও জাহাঙ্গীরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় শার্শার বাগআঁচড়া ময়ূরী সিনেমা হলের সামনে থেকে ছিনতাই হওয়া ইজিবাইকটি উদ্ধার করা হয়।
বৃহস্পতিবার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিং এ তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বেলাল হোসাইন। তিনি জানান, ১৮ অক্টোবর সকালে বেনাপোলের বড়িভাঙ্গা কাঁচা রাস্তার পাশের ছকোর খালে তরিকুল ঢালির ধানী জমি থেকে এক অজ্ঞাত যুবকের মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সংবাদ পেয়ে একই থানার গয়ড়া গ্রামের সহিদ গাজী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উদ্ধারকৃত লাশটি তার বড় ছেলে সজীব গাজীর (১৯) বলে শনাক্ত করে। এ ঘটনায় বেনাপোল পোর্ট থানায় মামলা করেন। ঘটনাটি চাঞ্চল্যকর ও লোমহর্ষক হওয়ায় জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) উপ-পরিদর্শক মুরাদ হোসেনকে মামলার তদন্তভার দেয়া হয়। হত্যার ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত দুইনসহ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি টিম।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বেলাল হোসাইন আরও বলেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে মাদকদ্রব্য ক্রয় বিক্রয়ে টাকা পয়সা দেনা পাওনাকে কেন্দ্র করে পূর্ব শত্রুতার জেরে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ইজিবাইক চালক সজিবকে হত্যা করেছে ঘাতকরা। সজীবকে গাঁজা সেবনের কথা বলে ঘটনাস্থলে নিয়ে চাকু দিয়ে গলায় পোচ দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তার লাশ ধান ক্ষেতে ফেলে দিয়ে ঘাতকরা ইজিবাইকটি নিয়ে গোপন করার উদ্দেশ্যে তাদের সহযোগীদের নিকট রাখে।
