কোনো জলাশয়ের পাশে যখন দেখা যায় পরিবেশ অধিদফতরের বড়সড় একটি সাইন বোর্ডে লেখা আছে ‘এই জলাশয় ভরাট করা দন্ডনীয় অপরাধ’ তখন অনেক প্রশ্ন দেখা দেয় জনসাধারণের মনে। পরিবেশ আইনে আছে ব্যক্তি মালিকানায় ওই জলাশয়টি হলেও তার নিজ ইচ্ছায় ভরাট করা যাবে না। কারণ জলাশয় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে। এ ছাড়া এমন কিছু সময় আসে যে সময় প্রচুর পানির প্রয়োজন হয়। তখন ব্যক্তির জলাশয়টি গোটা এলাকার বাসিন্দাদের কল্যাণ কাজ করে। পরিবেশ অধিদফতরের সাইন দেখলে প্রশ্ন জাগে এ কারণে যে, জলাশয় রক্ষার দায়িত্ব কি সাইন বোর্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ? জলাশয়গুলোর মধ্যে অনেক জলাশয় আছে যেগুলো নানা কারণে পরিবেশ দূষণের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ প্রসঙ্গে যশোর শহরের প্রণকেন্দ্রে অবস্থিত লাল দিঘির কথা বলা যায়।
দৈনিক কল্যাণে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দিঘিটির পানির রঙ কালো হয়ে গেছে। ময়লা-আবর্জনা ভাসছে। দৃষ্টিনন্দনের বদলে প্রাচীন জলাশয়টি এখন ময়লার ভাগাড়। দিঘির পানিতে ও পাড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে ময়লার স্তুপ। বছর দুয়েকের খুব বেশি হয়নি এই দিঘির পেছনে ব্যয় করা হয়েছে প্রায় দেড় কোটি টাকা। নাগরিকরা বলছেন, রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সংস্কার ও দৃষ্টিনন্দনের সব ব্যয় বৃথা। দিঘির পূর্ব পাড়ের একটি কোণ ময়লার ভাগাড়। স্থানীয় বাসিন্দারা সেখানে ময়লা ফেলে স্তুপ করে রাখেন।
লালদিঘির এখন বেওয়ারিশ একটা অবস্থা। এটির করুণ দশা দেখার কেউ নেই। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা দিঘির পাড়ে ময়লা ফেলেন। পুরাতন পৌরসভা সংলগ্ন হরিজন পল্লীর বাসিন্দাদের ফেলা ময়লায় নোংরা হচ্ছে দিঘির পানি। জীবন বাঁচানের স্বার্থে জলাশয় রক্ষার জন্য পরিবেশ অধিদফতর জলাশয় রক্ষা করছে ঠিকই, কিন্তু সেই জলাশয় যদি মানুষের জীবন-মরণ সমস্যা হয় তাহলেই সমস্যা। যশোর শহরের ঐতিহ্যবাহী লালদিঘি দূষণের ফলে যে অবস্থা পৌছেছে তাতে শহরবাসী বাঁচার স্বার্থে হয়তো বাধ্য হয়ে অনিচ্ছা সত্ত্বেও পথে নেমে আসবে। তারা স্লোগান তুলবে ‘বাঁচার আর পথ নাই, লালদিঘি ভরাট চাই’।
লালদিঘি ভরাট হোক তা আমরা চাইনে। যশোরবাসীও চান না। তারা লালদিঘিকে রক্ষার জন্য আন্দোলন সংগ্রাম করেছেন। তারা চান লালদিঘি দূষণমুক্ত হোক। যতদূর জানা যায় লালদিঘি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পৌরসভার ওপর। জলাশয় ভরাট রোধে যেমন পরিবেশ অধিদফতরের দায়িত্ব রয়েছে তেমনি ধ্বংসোন্মুখ অবস্থা থেকে রক্ষা করা একটি দায়িত্বও সংশ্লিষ্ট অধিদফতরের থাকার কথা। যার যেখানে দায়িত্ব থাক, যে যেখানে থাকুক মানুষের স্বার্থে লালদিঘিকে বাঁচাতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।