আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের অব্যাহত বিমান হামলায় ইরানে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫৫৫ জনে দাঁড়িয়েছে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছে ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি। সংস্থাটি জানিয়েছে, দেশজুড়ে বিভিন্ন স্থানে চলমান হামলায় প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে, কারণ বহু এলাকায় এখনো উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আহতের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জরুরি চিকিৎসা ও ত্রাণ সহায়তা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। ভয়াবহ এই প্রাণহানির ঘটনায় ইরানজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
কুয়েতে মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত, আহত ২
ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের তৃতীয় দিনে কুয়েতে মার্কিন বিমানবাহিনীর একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। স্থানীয় সময় সোমবার সকালে দুর্ঘটনাটি ঘটে। তবে পাইলট অক্ষত রয়েছেন; ভূপৃষ্ঠে পতনের আগেই তিনি সফলভাবে ইজেক্ট করতে সক্ষম হন।
বিমানটি কুয়েতের মিনা আল আহমাদি তেল শোধনাগারের ভেতরে গিয়ে পড়ে। এতে শোধনাগারের দুই শ্রমিক আহত হয়েছেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কুয়েতে মোতায়েন করা মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘প্যাট্রিয়ট এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম’-এর ভুলবশত ‘ফ্রেন্ডলি ফায়ার’-এর কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তবে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা কুয়েতের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি।
প্যাট্রিয়ট এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম একটি মার্কিন নির্মিত উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা প্ল্যাটফর্ম, যা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, শত্রু বিমান ও ড্রোন প্রতিহত করতে ব্যবহৃত হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিরল ক্ষেত্রে রাডার বিভ্রান্তি, লক্ষ্যবস্তু শনাক্তকরণে ত্রুটি বা যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার কারণে ভুল ঘটতে পারে।
সৌদির রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগারে হামলা
এদিকে সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি Saudi Aramco-এর অধীন রাস তানুরা তেল শোধনাগারে হামলার ঘটনা ঘটেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, হামলার পর শোধনাগারটিতে আগুন ধরে যায়, তবে কর্তৃপক্ষ দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওচিত্রে দূর থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলি উঠতে দেখা গেছে। বিভিন্ন সূত্র দাবি করেছে, ড্রোন হামলার মাধ্যমে স্থাপনাটি লক্ষ্যবস্তু করা হয়। তবে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হয়নি।
রাস তানুরা শোধনাগারটি সৌদি আরবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো হিসেবে বিবেচিত। এ ধরনের হামলা আঞ্চলিক জ্বালানি সরবরাহ ও বৈশ্বিক তেলের বাজারে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে বলে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা।
আঞ্চলিক উত্তেজনা চরমে
ক্রমবর্ধমান এই সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বিভিন্ন উপসাগরীয় দেশ সতর্কাবস্থা জারি করেছে এবং আকাশসীমা ব্যবস্থাপনায় কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহল পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, কূটনৈতিক সমাধান ছাড়া এ সংঘাত দীর্ঘমেয়াদে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
